পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে একজন রোহিঙ্গাকেও বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেয়া হয়নি। চারদলীয় জোট সরকারের মৌন সম্মতিতে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম পাসপোর্ট অফিস থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয়ে পাসপোর্ট পেয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে টেবিলে উপস্থাপন করা প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি সংসদকে এ কথা জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে। অপরদিকে আগামী বছরের মধ্যবর্তী সময়ে সমুদ্রসীমা নিয়ে বাংলাদেশের সাথে ভারতের মামলার রায় ঘোষিত হবে।
নূরুল ইসলাম বিএসসির প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রী সংসদকে জানান, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় তাদের মৌন সম্মতিতে এবং পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতির সুযোগে বেশ কিছুসংখ্যক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশের পাসপোর্ট অফিস, মূলত চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয়ে পাসপোর্ট গ্রহণ করে। আর এভাবেই বেশ কিছু রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট ধারণ করে বৈধভাবে সৌদি আরবে চাকরি নিয়ে প্রবেশ করে। বিষয়টি একটি জটিল ব্যাপার।
তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদ ও জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট প্রদান ও নবায়ন বন্ধ করে দেয়া হয়। এ সমস্ত রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ইতিমধ্যে মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। সুতরাং পূর্বের ইস্যুকৃত বাংলাদেশি পাসপোর্ট উদ্ধারের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বর্তমান সরকার একজন রোহিঙ্গাকেও (মিয়ানমারের নাগরিক) পাসপোর্ট প্রদান করেনি।
প্রসঙ্গ রোহিঙ্গা শরণার্থী:বেগম নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রী জানান, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ-মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের সপ্তম বার্ষিক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের শরণার্থী প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়াটি পুনরায় গতিশীল হবে। আর এ বৈঠকেই মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতির বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করা হবে। এদিকে বর্তমানে কক্সবাজারের দুটি শরণার্থী শিবিরে মিয়ানমারের ২৫ হাজার ৮৫২ জন নাগরিক অবস্থান করছে। এর সাথে সংযুক্ত পরিবারের আরো প্রায় পাঁচ হাজার শরণার্থী রয়েছে। এরমধ্যে উখিয়ার কুতুপালং শিবিরে ১০ হাজার ৬০৩ জন এবং টেকনাফের নয়াপাড়া শিবিরে ১৫ হাজার ২৪৯ জন শরণার্থী রয়েছে।
দূতাবাসে যায় নয়টি দৈনিক:এএন মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে নয়টি দৈনিক ও দুটি সাপ্তাহিক পত্রিকা পাঠানো হয়। এতে বছরে ব্যয় হয় প্রায় ৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। দৈনিক পত্রিকাগুলো হচ্ছে ইত্তেফাক, প্রথমআলো, জনকণ্ঠ, সমকাল, ভোরের কাগজ, ডেইলি স্টার, ইনডিপেনডেন্ট, দি ফাইন্যানসিয়াল এক্সপ্রেস ও নিউএজ এবং সাপ্তাহিক ২০০০ ও ঢাকা কুরিয়ার।
