ঘাটাইলে ধর্ষকের বাড়িতে জনতার আগুন

আপডেট : ১০ জুন ২০১৩, ২২:১৭
ঘাটাইলের ফুলমালির-চালা গ্রামের কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে ভিডিও করে সেই ভিডিও মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে রবিবার ভোরে ধর্ষক ও ভিডিও চিত্রধারণকারীর বাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সখীপুরের বড় চওনা কুতুবপুর কলেজের ছাত্রীকে গত ৩০ মে কলেজ থেকে ফেরার পথে ফুলমালির চালা গ্রামের মুকুল (৩২) ও নুরুল ইসলাম (২৮) জোর করে মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে পার্শ্ববর্তী কামালপুর গ্রামের গজারি বনের ভিতর জনৈক আব্দুল খালেকের ছাপড়া ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে মুকুল তাকে ধর্ষণ করে এবং মুকুেলর সহযোগী স্টুডিও ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম ভিডিওচিত্র ধারণ করে। ছাত্রীটি লোকলজ্জার ভয়ে ঘটনাটি গোপন রাখে। এদিকে ধর্ষক মুকুল ভিডিওচিত্র মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এলাকায় ছড়িয়ে দিলে ঘটনাটি জানাজানি হয়ে যায়। ৩রা জুন ধর্ষিতা বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় মামলা করে। কোন আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার ধর্ষক ও তার সহযোগীর গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে স্থানীয় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। খবর পেয়ে শনিবার রাতে সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান ঘটনাস্থলে গিয়ে রাত দশটার দিকে স্থানীয় সাকেদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে ভাষণ দিয়ে অবিলম্বে আসামীদের গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন। ধলাপাড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ আলম তালুকদার জানান, দলের পরিচয় দিয়ে মুকুল নানা অপকর্ম করে বেড়ায়। তার বিরুদ্ধে গত দুই বছরে যাত্রার নায়িকাসহ দু’টি ধর্ষণের মামলা হয়। মুকুলের মা রোকেয়া বেগম বলেন, আমার পোলায় যে অন্যায় করেছে তাতে মানুষ ঘর পোড়াইয়া উচিত বিচার করছে। ঘাটাইল থানার ওসি ফজলুল কবির বলেন, মুকুল, নুরুল ইসলাম ও আব্দুল খালেককে আসামী করে ধর্ষিতা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।