বন্দর নগরী চট্টগ্রামের প্রতিটি বাজারেই মাছের মূল্য এখন লাগামহীন। সামুদ্রিক ও মিঠা পানির সবধরনের মাছের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। ফলে মাছ কিনতেই ক্রেতাদের পকেট উজাড় হয়ে যাচ্ছে। বছরের শুরু থেকেই মাছের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। বছরের মাঝামাঝি এসে দাম এখন আকাশছোঁয়া।
নগরীর বহদ্দারহাট, কালুরঘাট, বাহার সিগন্যাল, চকবাজার, ফিরিঙ্গী বাজার, ব্রীজঘাট, পাথরঘাটা, অভয়মিত্রঘাট, হালিশহর ফইল্যাতলী, স্ট্র্যান্ড রোড, সদরঘাট, পতেঙ্গা ও কাঠগড় বাজারের খুচরা মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, তাদেরকে আড়তদারদের কাছ থেকে বেশি মূল্যে মাছ কিনতে হচ্ছে। পাথরঘাটা, রেয়াজউদ্দিন বাজার ও পতেঙ্গা এলাকার আড়তদাররা জানান, চট্টগ্রামে গত ক’মাস ধরে সামুদ্রিক ও মিঠা পানির মাছের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। তার উপর অত্যধিক পরিবহন ভাড়া, বরফের মূল্যবৃদ্ধি এবং মাছ সংরক্ষণের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক কারণেই মাছের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা জানান, গত প্রায় দুই মাস নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলেরা সমুদ্রে মাছ পায়নি। জুনের প্রথম সপ্তাহে জেলে নৌকার যেসব বহর গভীর সমুদ্রে গেছে সেগুলো ফিরে আসতে কমপক্ষে ১০-১৫ দিন সময় লাগবে। ফলে মাছের দাম আপাতত কমছে না।
বাংলাদেশ মত্স্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) চেয়ারম্যান পিউস কস্টা ইত্তেফাককে জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’ এবং বঙ্গোপসাগরে উপর্যুপরি দুর্যোগ ও বিপদ সংকেতের কারণে সামপ্রতিক সময়ে জেলেরা সমুদ্রে মাছ ধরতে পারেনি। ফলে বিএফডিসি’র চট্টগ্রামের পাথরঘাটা ফিশারীঘাট এবং ব্রীজঘাট মনোহরখালী মত্স্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে মাছ আসেনি। এই অবস্থা পাথরঘাটা, বরগুনার ঘাটগুলোতেও বিরাজ করছিল বলেও তিনি জানান। বিএফডিসি চেয়ারম্যান বলেন, গত ৪/৫ দিন ধরে ঘাটগুলোতে বেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সামুদ্রিক মাছ নিয়ে জেলে নৌকা ভিড়তে শুরু করেছে বলে তিনি খবর পেয়েছেন।
এদিকে চট্টগ্রামের খুচরা বাজারগুলোতে সামুদ্রিক লাক্ষা, কোরাল, কৈ কোরাল জাতীয় বড় মাছের প্রতি কেজি ৬শ’ টাকা। আগে এসব মাছ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি সাড়ে ৩শ’ টাকা থেকে ৪শ’ টাকা। সামুদ্রিক বড় পোপা মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা। আগে ছিল ১৮০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। ছোট সামুদ্রিক পোপা মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা। আগে ছিল ১৩০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা। লইট্যা মাছ প্রতি কেজি বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা। আগে ছিল ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। এদিকে দেশি মিঠা পানির বড় রুই কাতল মাছের কেজি বর্তমানে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা। অথচ এই মাছ কিছুদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকা থেকে ২৮০ টাকায়। বর্তমানে তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৬০ টাকা থেকে ২০০ টাকায়। কিছুদিন আগেও ছিল ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকায়। হাজার-বারশ’ টাকা কেজির ইলিশ মাছের দিকে যেতে সাধারণ ক্রেতারা সাহস পাচ্ছেন না। গত বছরের জুলাই থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ থাকলেও এই মাছের মূল্য কমে আসার কোনো লক্ষণ গত এক বছরেও দেখা যায়নি।
ক্রেতারা জানান, বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থাকলেও মূল্যের ব্যবধান এতোটা বেড়ে যাওয়া অযৌক্তিক। তারা মনে করছেন, মাছের বাজারের অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে অস্বাভাবিক মূল্য বাড়িয়ে চলেছে। তারাই উজাড় করছে ক্রেতাদের পকেট।
