রাজশাহীতে আচরণবিধি লঙ্ঘনে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে শোকজ

আপডেট : ১০ জুন ২০১৩, ২৩:০২
নির্বাচনী আচরণ বিধি লংঘনের অভিযোগে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (পিজিসিএল)-এর মহাব্যবস্থাপক মার্কেটিং (জিএম) রেজাউল ইসলাম খান-এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না-এ মর্মে কারণ দর্শানো (শো-কজ) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নোটিসের জবাব দিলেও জিএম এখনো কোন জবাব দেননি। জবাব দেয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের শাস্তির দাবি জানিয়ে বিএনপির সাত সদস্যের একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দল গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে দেখা করেছেন। তারা বলেছেন, সভা করে গ্যাস সংযোগ দিয়ে চেয়ারম্যান শুধু নির্বাচনী আচরণবিধিই লংঘন করেননি সরকারি চাকরি বিধিমালাও লংঘন করেছেন। সিইসি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের জবাব দেখেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজশাহী সিটির রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, মহাব্যবস্থাপককে নিষেধ করা সত্ত্বেও তারা মঞ্চ নির্মাণ করে গ্যাস সংযোগের উদ্বোধন করেছেন। রাজশাহীতে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মধ্যে গত ৭ জুন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ওই নগরীতে গৃহস্থালিতে গ্যাস সংযোগ উদ্বোধন করেন। রাজশাহীর বিদায়ী মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান চৌধুরী লিটনের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল গ্যাস সংযোগ। গ্যাস সংযোগ দেয়ার পর এবারের নির্বাচনেও সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থী লিটনের পক্ষে সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে মিছিল করা হয়। এ ঘটনায় বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার গত ৮ জুন পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ও পিজিসিএল-এর জিএমকে শো-কজ নোটিস প্রদান করেন। রাজশাহীতে গ্যাস সংযোগ দেয়ার মধ্যদিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ হয়েছে অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনের কাছে তার প্রতিকার চেয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। গতকাল সোমবার দলের যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনের নেতৃত্বে বিএনপির সাতজন সংসদ সদস্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জানান। এই সাক্ষাত্ দলের পক্ষ থেকে নয় বলে জানিয়েছেন মাহবুবউদ্দিন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিক হিসেবে নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে তারা এই অভিযোগ দিয়েছেন। বিএনপির সংসদ সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এই পদক্ষেপ বিধিবহির্ভূত। সিইসির সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন সাংবাদিকদের বলেন, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী এলাকায় গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রম উদ্বোধন করে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের লোভ দেখিয়েছেন, যা সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘন। তিনি জানান, উদ্বোধন অনুষ্ঠানে লিটন না থাকলেও তার নির্বাচনী প্রচারের সমন্বয়কারী মহাজোটের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা উপস্থিত থেকে প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়েছেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট তোফাজ্জল হোসেন তপু স্বাক্ষরিত একটি চিঠি তারা সিইসির কাছে হস্তান্তর করেন। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালে সিটি নির্বাচনের আগে লিটন গ্যাস সংযোগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন; কিন্তু মেয়র নির্বাচিত হলেও তিনি গ্যাস সংযোগ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। অবশেষে ৭ জুন শুক্রবার নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী এনামুল হক ও রাজশাহী সদর আসনের এমপির কিছু আত্মীয়-স্বজন, সাবেক মেয়রের কিছু প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ৩২ জনের বাসায় গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়। এর মাধ্যমে নির্বাচনে লিটনকে সহযোগিতা করে ও ভোটারদের প্রলোভন দেখিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। তাই পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তিনি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। বিএনপির দেয়া এই চিঠির প্রসঙ্গে সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ওই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ইতোমধ্যে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ও রাজশাহীর মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছেন। তাদের জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিএনপির সংসদ সদস্যরা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জানালেও সে ধরনের কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করেন সিইসি। চার সিটিতে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হলে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি আছে কী-না জানতে চাইলে সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন বলেন, সেনা মোতায়েনের জন্য সময় লাগে না। এখনো সেনা মোতায়েনের মতো কোন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি, এটা আমার নয়, প্রার্থীদের বক্তব্য। সিইসির সঙ্গে সাক্ষাতে বিএনপির ৭ সংসদ সদস্যের মধ্যে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকনের নেতৃত্বে আব্দুল মোমেন তালুকদার, জেডআইএম মোস্তফা আলী, একেএম হাফিজুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, রেহেনা আক্তার রানু ও সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া। রাজশাহী অফিস জানায়, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ড. হোসেন মনসুর শো-কজের জবাব দিয়েছেন।