প্রশাসনে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি হচ্ছে

আপডেট : ১০ জুন ২০১৩, ২৩:০৫
তিন কর্মদিবস বিরতির পর আজ মঙ্গলবার সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) মুলতবি সভা বসছে। গত বুধবার এ সভা শুরু হয়। এ দফায় উপ-সচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুস সোবহান সিকদার বলেন, প্রতিজন কর্মকর্তার সমগ্র কর্ম জীবনের নথিপত্র আলাদা আলাদাভাবে পর্যালোচনা হচ্ছে। ফলে একটি বা দুটি সভায় সকল পদোন্নতির সুপারিশ চূড়ান্ত করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, প্রথম দফায় উপ-সচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি বিবেচনা করা হলেও পরবর্তী পর্যায়ে যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যায়ে পদোন্নতি বিবেচনা করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় নম্বর, শৃংখলা, দুর্নীতির বিষয়ে কারো প্রত্যয়ন ইতিবাচক হলে তার পদোন্নতি আটকানোর কোন সুযোগ নেই। রাজনৈতিক কারণে অনেকের পদোন্নতি হয় না-এই অভিযোগ নাকচ করে দেন তিনি। প্রসঙ্গত, বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে এ নিয়ে চতুর্থ দফায় পদোন্নতি দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এরআগে তিন দফায় ১৬৩ জন যুগ্ম সচিবকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এরমধ্যে ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ায়ি ৭২ জন, ৭ সেপ্টেম্বর ৬০ জন এবং ১০ অক্টোবর ৩১ জন পদোন্নতি পান। অবশ্য দুই দফা পদোন্নতি বঞ্চিত ২৯ জন কর্মকর্তা শেষবার অতিরিক্ত সচিব হয়েছিলেন। যুগ্ম সচিব পদে তিন দফায় এক হাজার ২১৫ জন পদোন্নতি পান। ২০০৯ সালের ১৯ ফেরুয়ারি ৮৬ জন, ৭ সেপ্টম্বর ১৬৩ জন এবং ২১ নভেম্বর ১৬৬ জনের পদোন্নতি হয়। যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির সময়ে অন্তত ১৫০ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে জ্যেষ্ঠতা হারান। এখনো তারা উপ-সচিব। যদিও তাদের সহকর্মীরা এখন যুগ্ম সচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব হতে চলেছেন। এবার বঞ্চিতদের মধ্য থেকে কতজনকে বিবেচনা করা হবে তা নিশ্চিত নয়। তবে বঞ্চিতদের খুব বেশি সংখ্যক কর্মকর্তা পদোন্নদির জন্য বিবেচিত হচ্ছেন না-তা নিশ্চিত করেছে এসএসবির একটি সূত্র। এ সরকারের সময়ে দুই দফায় উপ-সচিব পদে পদোন্নতি পান ৫৭৮ জন। ২০০৯ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ২৮০ জন এবং ২০১০ সালের ১৫ অক্টোবর ২৯৮ জন। প্রথম দফায় ৯ম ও ১০ম ব্যাচের এবং দ্বিতীয় দফায় ১১ এবং ১৩তম ব্যাচের ১৪ জনসহ ২৯৮ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়। সর্বশেষ গত ১৪ মার্চ ১৮৯ জন কর্মকর্তাকে উপ-সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। প্রশাসনের আলোচ্য তিনটি স্তরের বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা দফায় দফায় পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন। ১৯৮২-এর নিয়মিত এবং বিশেষ ব্যাচের কর্মকর্তারা এখন সচিব। এ দুটি ব্যাচসহ নিচের ১৯৮৪ ব্যাচের কর্মকর্তারাও অনেকে উপ-সচিব আছেন। ১৯৮৫ ও ১৯৮৬ ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে এবার যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতির বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও এসব ব্যাচের অনেকেই এখন সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে উপ-সচিব হতে পারেননি।