বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে বিরোধী দলের অবস্থা কী হয় মওদুদের ভোলার কথা নয়

আপডেট : ১০ জুন ২০১৩, ২৩:০৮
আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে বিরোধী দলের অবস্থা কী হয় মওদুদ আহমদের ভুলে যাওয়ার কথা নয়। বিরোধী দলের যন্ত্রণার কথা হয়তো মওদুদ আহমদ ভুলে যাননি। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে মাগরিবের নামাজের বিরতির কিছুক্ষণ আগে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় তোফায়েল আহমেদ এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় আমাদের বিরুদ্ধে ৭২ হাজার মামলা দেয়া হয়েছিলো। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক ডজন মামলা হয়েছিল। আন্দোলন কর্মসূচির নামে বিএনপি-জামায়াত জোট কী করছে? রিকশাচালক, গাড়ির চালককে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করছে। নির্বিচারে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, নির্মমভাবে পুলিশকে হত্যা করেছে। তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, ১৯৯১ সালে মওদুদ সাহেব আদালতে যেতে পেরেছেন, কিন্তু আমি আদালতে পর্যন্ত যেতে পারিনি। বিমানবন্দর থেকে বিনা কারণে গ্রেফতার করে আমাকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় রিমান্ডে নিয়ে ৪৮ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরে আদালত থেকে পাঠিয়ে দেয়া হয় যশোর কারাগারে। আর মওদুদ আহমদকে গ্রেফতার করে দিনাজপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছিলো। তিনি বলেন, আরেকজনের কথা বলতেই হয়। তিনি হচ্ছেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তাকে গ্রেফতার করে পাঠানো হয়েছিলো রাজশাহী কারাগারে। আমি যা বলছি তা সত্য। এর নাম হচ্ছে বিএনপি সরকার। মওদুদ আহমদের করা অভিযোগ খণ্ডন করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কথা জনগণ কোনদিন ভুলবে না। তিনি বলেন, সব সরকারে থাকায় মওদুদ আহমদ খুব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লোক। মওদুদ আহমদ বলেছেন মহাজোট সরকারের সাড়ে চার বছরে গরিব নাকি আরও গরিব হয়েছে। আসল তথ্য হচ্ছে, বিএনপি-জামায়াত জোট যখন ক্ষমতা ছাড়ে তখন মাথাপিছু আয় রেখে গিয়েছিলো ৩৬৩ ডলার, বর্তমান সরকারের শেষ পর্যায়ে তা দ্বিগুণ বেড়ে ৯৫০ ডলারে উন্নীত হয়েছে। তবে গরিব আরও গরিব হলো কীভাবে? বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শেষ সময়ে রিজার্ভ ছিল মাত্র ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। আমাদের সরকারের শেষ বছরে এখন এটি দাঁড়িয়েছে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বাজেট দিয়েছে বর্তমান সরকার। বর্তমান সরকারই প্রথম সরকার, কোন শর্ত দিয়ে ঋণ নেয় না। দেশের স্বার্থ বিসর্জন দেয় না। মাগরিবের নামাজের বিরতির পর অসমাপ্ত বক্তব্য রাখতে গিয়ে তোফায়েল আহমেদ বাকশাল নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বাকশালের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। আমি বিরোধী দলের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলতে চাই, প্রয়োজনে সে আবেদন দেখাতে পারবো। বিরোধী দলের মনে রাখা উচিত বাকশাল একদলীয় শাসন ছিলো না। বাকশাল ছিলো সবাইকে নিয়ে গড়া জাতীয় দল।