বাপ্পা চৌধুরী \ দুই পাশেই পর্বতমালার বেষ্টনি। সামনে সবুজ বিস্তৃত মাঠ। চারপাশে বৃক্ষরাজির সুশীতল ছায়া। মাঠের একপ্রান্তে পাহাড় ঘেঁষে (এল) আকৃতির অফিস ও কারিগরি শিক্ষা ভবন। মাঠের বিপরীত প্রান্তে একই আকৃতির সাধারণ শিক্ষা ভবন। এ যেন রংতুলিতে আঁকা ক্যানভাস। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার অন্তর্গত বাঙ্গাল হালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সহস্রাধিক বাঙালি ও উপজাতি শিক্ষার্থীর প্রিয় ও প্রাণের বিদ্যাপীঠ। ১৯৭৩ সাল থেকে শুরু করে নানা প্রতিকূলতা ও কন্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে আজ অবধি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাধা পদদলিত করে পাহাড়ের বুকে শিক্ষার প্রদীপ শিখা জ্বালিয়ে রেখেছে এ বিদ্যালয়টি। ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে এ বিদ্যালয়ে। বিজ্ঞান, বাণিজ্য, মানবিক ও কারিগরি শিক্ষা শাখা মিলিয়ে মোট ১০২২ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন ১৯ জন। দুর্গম ও পশ্চাত্পদ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও উপজেলার অন্যান্য বিদ্যালয়ের চাইতে পাসের হারের দিক দিয়ে অগ্রগামী বাঙ্গাল হালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার যথাক্রমে ৪৫% ও ৭৩%। এ বছর ১ জন জিপিএ-৫ সহ এবং ২০১২ সালে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছে ৫ জন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রিকেট, ফুটবল ও ভলিবল খেলায় শিরোপা জয়ের একাধিক রেকর্ড গড়েছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। যতই দিন গড়াচ্ছে পাসের হার থেকে শুরু করে সামগ্রিকভাবে সবদিক দিয়ে বিদ্যালয়টি রাঙামাটি উপজেলায় স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ হিসেবে গড়ে উঠছে।
জান্নাত আরা
দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান
রোল নং-৩
ফলাফলের দিক থেকে আমাদের বিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। ফলাফলের পাশাপাশি যদি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক চর্চা, স্কাউট ইত্যাদি চালু করে তাহলে আমরা সবাই সবদিক দিয়ে সুশিক্ষিত হতে পারবো। আমাদের স্কুল ফলাফলের দিক দিয়ে আরো ভালো করবে এবং নানা ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উন্নতি করবে।
কফিলউদ্দিন
দশম শ্রেণি, ব্যবসা
রোল নং-৩
প্রত্যেক খেলার জন্য আলাদা দল থাকলেও খেলার উপকরণের অপ্রতুলতার দরুন অনুশীলন করতে কিছুটা সমস্যা হয়। আমি চাই পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা অনুশীলনের মাধ্যমে সুস্থ শরীর গঠন করে দেশমাতৃকার সেবায় এ বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী অবদান রাখুক এটাই আমার প্রত্যাশা।
তানিয়া আক্তার
নবম শ্রেণি, বিজ্ঞান
রোল নং-১০
বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থী হিসেবে আমি চাই আমাদের বিদ্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ইন্টারনেট সুবিধা সম্বলিত কম্পিউটার ল্যাবে নিয়মিত সবার জন্য বাধ্যতামূলক কম্পিউটার শিক্ষার প্রশিক্ষণ চালু হোক। যাতে করে আমরা সবাই আধুনিক বিশ্বের অনেক আজানা বিষয় সহজে জানতে পারবো এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় এগিয়ে যাব।
মো. মাইনুদ্দিন
নবম শ্রেণি, ব্যবসা
রোল নং-৭
শিক্ষা উপকরণের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতায় আমাদের বিদ্যালয়টি সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আমি চাই এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থেকে বিদ্যালয়টি রাজস্থলী উপজেলায় সেরা বিদ্যালয়ের স্থান দখল করুক। সেই সাথে আমাদের বিদ্যালয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতা হোক।
রাফিয়া আক্তার
অষ্টম শ্রেণি
রোল নং-১
দুর্গম এলাকা হওয়ার কারণে অনেক দূর থেকে এসে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী আমাদের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। কিন্তু ক্লাসের বিরতিতে ক্যান্টিন না থাকার কারণে নানা রকমের স্বাস্থ্যহানিকর ক্ষতিকর খাদ্য বাধ্য হয়ে খেতে হয়। তাই আমি চাই আমাদের বিদ্যালয়ে একটি ক্যান্টিন চালু হোক যাতে আমরা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে পারি।
প্রধান শিক্ষক
আখ্যেইমং চৌধুরী
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বিদ্যালয়টি বিন্দু থেকে সিন্ধুর দিকে এগুচ্ছে। নানা কাঠামোগত সমস্যা থাকার কারণে দ্রুতগতিতে সামনের পথ পাড়ি দিতে পারছে না। শিক্ষক স্বল্পতা, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যেমন কম্পিউটারের সংখ্যা খবুই অল্প সংখ্যক, ইন্টারনেট সুবিধা নেই বললেই চলে, বিজ্ঞানাগারে যন্ত্রপাতির অপর্যাপ্ততা বিজ্ঞান শিক্ষার অগ্রগতিকে
ব্যাহত করছে। কিন্তু
এতসব বাধায় পড়েও দক্ষ-অভিক্ষ শিক্ষকদের প্রচেষ্টা ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যার্জনের মানসিকতা বিদ্যালয়টিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই ভালোভাবে আত্মস্থ করতে পারলে ভালো ফলাফল অবশ্যই অর্জিত হবে। সরকারের যথাযথ সহযোগিতা পেলে আমি আশা করি এ বিদ্যালয় আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠগুলোর একটি হতে পারবে।
