গল্প নয় সত্যি

একেই বলে মন্দভাগ্য!

আপডেট : ১১ জুন ২০১৩, ১৯:৫৬
প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মেই মানুষের জীবনে প্রেম আসে। আবার কখনও কখনও সেই প্রেম রূপ নেয় বিরহেও। প্রকৃতির এমনই এক অমোঘ নিয়মের সাক্ষী হয়েই কিছুদিন আগে নিজের বহুদিনের প্রেমের মাঝে ভুল বোঝাবুঝিকে জায়গা করে নিতে দেখেছিলেন পোল্যান্ডের নাগরিক আন্দ্রেজ জাপকা। কিন্তু প্রেমিকার সাথে এই মনোমালিন্যে যতটা না ভেঙে পড়েছিলেন জাপকা, তার চেয়ে অনেক বেশি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন সম্পর্কটা পুনরূদ্ধারের বিষয়ে। ভেবেছিলেন, ভুল বোঝাবুঝি যত চূড়ান্তই হোক না কেন, ভালোবাসার প্রতীক গোলাপ আর আন্তরিক দুঃখ প্রকাশে হয়তো আবারও তার কাছে ফিরে আসবেন দীর্ঘদিনের মনের মানুষটি। কিন্তু জাপকা হয়তো ঘুনাক্ষরেও ভাবতে পারেননি যে শেষতক এই ফুল দেওয়া নিয়েই নতুন করে বিপাকে জড়াতে হবে তাকে। আসলে সময়টা যে জাপকার একদমই ভালো যাচ্ছিল না সেটা বেশ কিছুদিন থেকেই আঁঁচ করতে পারছিলেন জাপকা। বিষয়টা এমন একটা পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল যে প্রেমিকার কাছে ফুল হাতে ফিরে যাবার জন্য ফুল কেনার পয়সাটাও তার হাতে ছিল না। কিন্তু ভালোবাসার টান বলে কথা। তাই লোমজা শহরের একটি নামকরা ফুলের দোকান থেকে কয়েকটি গোলাপ চুরি করেই এ যাত্রা ভালোবাসার দায় মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জাপকা। পরিকল্পনা মাফিক কাজও এগোচ্ছিল বেশ ভালোভাবেই। কিন্তু কে জানতো যে, জাপকা যে সময় ফুল চুরি করছেন তখন সেখানেই চলছিল একটি টিভি রিপোর্টের জন্য চিত্রগ্রহণের কাজ। ফলে এমনিতে দোকান মালিকের কাছে ধরা খেয়ে যতটা না নাকাল হতো তার চেয়ে ঢের বেশি নাকাল জাপকাকে হতে হলো তার এই চুরির দৃশ্য খবরের নেপথ্যের দৃশ্য হিসেবে টিভিতে প্রচার হবার পর। আসলে সে সময় দোকানের সামনেই যে একটা রিপোর্টের জন্য রেকর্ডিং চলছিল সেটা জাপকা খেয়ালই করেননি। এমনকি বিষয়টি চোখে পড়েনি রিপোর্টার বা ক্যামেরা ক্রু’দেরও। কিন্তু রিপোর্টটি প্রচারিত হওয়ার পর পরিচিত-অপরিচিত অনেকের কাছেই স্পষ্ট হয়ে পড়ে ফুল চোর জাপকার চেহারাখানা। আর সেখান থেকেই পুলিশের দরজা ঘুরে জাপকার ঠাঁই হয় হাজতখানায়। এদিকে সংবাদমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রেমিক জাপকা বলেন, ‘প্রেমিকার সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবার পর আমি তাকে ফিরে পেতে এতটাই মরিয়া হয়ে ছিলাম যে টাকার অভাবে ফুল চুরির সময় সেখানে কোনো শুটিং চলছে কি না তা আমার চোখেই পড়েনি!’