বছরে পাঁচ শতাধিক কোটি টাকার খাদ্যশস্য ইঁদুরের পেটে

আপডেট : ১১ জুন ২০১৩, ২২:০৪
প্রতি বছর পাঁচ শতাধিক কোটি টাকার খাদ্যশস্য যাচ্ছে ইঁদুরের পেটে। অপরদিকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা ৬১ জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন। বর্তমান সরকার এ পর্যন্ত কৃষি উন্নয়নে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে টেবিলে উপস্থাপন করা প্রশ্নোত্তর পর্বে কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী সংসদকে এসব কথা জানান। এম অবদুল লতিফের লিখিত প্রশ্নের জবাবে কৃষি মন্ত্রী জানান, গত অর্থ বছরের হিসাবে ইঁদুর ক্ষতি করেছে দুই লাখ ৭৩ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন ধান ও গম। এর বাজার মূল্য ৫১৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বেগম ফরিদুন্নাহার লাইলীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই কৃষি উন্নয়নে সার, বিদ্যুত্, ডিজেল ও প্রভৃতি খাতে ভর্তুকি প্রদান করে আসছে। চলতি অর্থ বছর পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৮৩০ কোটি ১০ লাখ টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে। ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা উচ্চ ফলনশীল ৬১ জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন। এরমধ্যে ৫৭টি উচ্চ ফলনশীল এবং চারটি হাইব্রিড ধান। সাধনা হালদারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি আউশ মওসুমে চাষীদের সরকার সহায়তা প্রদান করেছে। তিন লাখ ৩২ হাজার ৫০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আউশ চাষাবাদে সহায়তা বাবদ বিনামূল্যে ইউরিয়া ছয় হাজার ৬৫০, ডিএপি তিন হাজার ৩২৫ এবং এমপিও তিন হাজার ৩২৫ মেট্রিক টন ও বীজ এক হাজার ৬৯৭ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন প্রদান করা হয়েছে। নগদ সেচ সহায়তা হিসাবে নয় কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আগাছা দমনে সহায়তা বাবদ ২১ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। একই বিষয়ে মো. ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সাত হাজার কৃষককে বোনা আউশ চাষের জন্য জনপ্রতি ২০ কেজি ইউরিয়া, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমপিও প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। মো. শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে কৃষি মন্ত্রী জানান, চলমান ইরি ও বোরো মওসুমে বীজ, সার, বালাই ব্যবস্থাপনা, পারিবারিক ও ভাড়া শ্রম, সেচ, মূলধনের সুদ ইত্যাদি ব্যয় বিবেচনায় দেখা যায় ইরি-বোরো ধানের উত্পাদন প্রতি কুইন্টাল এক হাজার ৬৯৬ টাকা। সরকার প্রতি কুইন্টাল ধান এক হাজার ৮৫০ টাকা এবং চাল দুই হাজার ৯০০ টাকায় ক্রয় করছে। রাশেদা বেগম হীরার প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কৃষকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য বোরো ধানের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কেজি প্রতি ১৮ টাকা ৫০ পয়সা। চলতি অর্থ বছরে কৃষি উপকরণের জন্য প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া ডিজেলের মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষিত হচ্ছে। বেগম তহুরা আলীর প্রশ্নের জবাবে কৃষি মন্ত্রী জানান, চলতি বোরো মওসুমে ৪৭ দশমিক আট লাখ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ১৮৭ দশমিক ছয় মেট্রিক টন বোরো ধান উত্পাদন হবে মর্মে আশা করা যাচ্ছে। পিনু খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) অধীনে আলু বীজ হিমাগার ১৯টি এবং সবজি ফলমূল ও মত্স্য সংরক্ষণের জন্য চারটি হিমাগার রয়েছে। মোট ২৩টি হিমাগারের ধারণক্ষমতা হচ্ছে ২৩ হাজার ২২০ মেট্রিক টন।