এক কাউন্সিলরের বেতন-ভাতা বন্ধ হওয়ার জের ধরে লাঞ্ছিত হয়েছেন গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. রেজাউল হক সিকদার রাজু। গতকাল মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। পরে মেয়র ও ওই কাউন্সিলর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাড়িঘরে হামলা ও ব্যাপক ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ অভিযুক্ত পৌর কাউন্সিলর বিএনপি নেতা এম.মাহবুব আলী সোহেলকে আটক করেছে। সংঘর্ষে মারাত্মক আহত শামীম সিকদারকে (১৮) খুলনা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। আহত বাকা মিয়া, আব্দুল হাকিম, সেহারা সুলতানা মুন্নিসহ অন্যরা গোপালগঞ্জ হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক চিকিত্সা গ্রহণ করেন।
জানা গেছে, ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম.মাহবুব আলী সোহেল দীর্ঘদিন জেল-হাজতে থাকায় পৌরসভার সভায় অনুপস্থিত ছিলেন। এ কারণে পৌর মেয়র মো. রেজাউল হক সিকদার কাউন্সিলরের বেতন-ভাতা বন্ধ করে গত ২৬ মে চিঠি ইস্যু করেন। গতকাল জেলা কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে সোহেল চিঠির কথা জেনে ক্ষিপ্ত হন। এক পর্যায়ে দুপুরের দিকে পৌরসভায় ঢুকে মেয়রকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপমান করেন।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মেয়রের সমর্থকরা সোহেলের শহরের মোহাম্মদপাড়ার বাসায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। তার ফুফাত ভাই জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. এনায়েত হোসেনের বাড়িতে ঢুকেও ঘরের আসবাবপত্র ও মালামাল তছনছ করে। এছাড়া প্রতিবেশী নবী মিয়ার বাড়ি, শহরের পাচুড়িয়া এলাকার কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে। এক পর্যায়ে সোহেলের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে এলে দ’ুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় তিন ঘন্টা পর বিকেল ৫ টার দিকে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সোহেলকে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়ার কথা বলে আটক করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে মেয়র রাজু বলেন, কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েই সোহেল পৌরসভায় এসে ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করেন ও বেতন-ভাতা বন্ধের চিঠিটি মুখের ওপর ছুঁড়ে ফেলেন।
তবে সোহেল মেয়রকে অপমান করার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মেয়র অবৈধভাবে আমার বেতন ভাতা কেন বন্ধ করেছেন-সেটা জানতেই তার কাছে যাই। এ নিয়ে মেয়রের সাথে কথা কাটাকাটি হলেও অন্য কোন ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
