পদ্মা সেতু দুর্নীতি :মন্ত্রীর হাতে বিশ্ব ব্যাংকের রিপোর্ট

আপডেট : ১১ জুন ২০১৩, ২২:৪৬
পদ্মা সেতু দুর্নীতির বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের রিপোর্ট বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর জোহানেস যুট গতকাল সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাত করে রিপোর্টটি হস্তান্তর করেন। তবে কি রয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত এই রিপোর্টে, সে ব্যাপারে বিশ্বব্যাংক বা সরকারের পক্ষ থেকে কিছুই বলা হচ্ছে না। রিপোর্টটি হাতে পাবার পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের কেবল এইটুকু বলেছেন, ‘এই রিপোর্ট বিশ্বব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশের জন্য তাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়েছে।’ উল্লেখ্য, পদ্মা দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার জন্য বিশ্বব্যাংকের তিন সদস্যের বিশষজ্ঞ প্যানেল গত বছর পর পর দুই দফায় ঢাকায় আসেন। তারা দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠকে মিলিত হয়েগোটা বিষয় পর্যালোচনা করেন। মূলত তাদের সেই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই তৈরি করা হয়েছে বিশ্বব্যাংকের এই রিপোর্ট। গতকাল রিপোর্টটি হাতে পাবার পর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মহিত উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। এটা আমি এখনো পড়ে দেখিনি। এতে সম্ভবত কিছু অবজারভেশন এবং রিকোমেন্ডেশন্স রয়েছে। তারা (বিশ্বব্যাংক) এটা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশের অনুমতি চেয়েছে। আমরা অনুমতি দিয়েছি। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে কোনো চুরিটুরি হয়নি। হওয়ার চান্সও নেই। তবে দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়তো হয়েছিল। সরকার সেটা আগেই ধরে ফেলেছে। এ জন্য সরকার সাধুবাদ পেতে পারে।’ তিনি বলেন, পদ্মা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি এখন পুরোপুরিই দুর্নীতি দমন কমিশনের আওতাভুক্ত। তারা এ ব্যাপারে মামলা করেছে। এ সময় প্রসঙ্গক্রমে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের আরও বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকে হলমার্ক গ্রুপ ও বিসমিল্লাহ গ্রুপসহ কয়েকটি কোম্পানির অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে যে আর্থিক দুর্বলতা দেখা দিয়েছে তা মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সরকার পুঁজি সহায়তা দেবে। তবে এই সহায়তার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির দায় সরকার নিচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু তৈরির যে পদক্ষেপ নিয়েছে এটাকে বিশ্বব্যাংক স্বাগত জানায়। এ জন্য সরকার প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে সরকার চাইলে এ পর্যায়েও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য নিতে পারে।