সংসদে সন্ত্রাস বিরোধী সংশোধনী বিল পাস

আপডেট : ১১ জুন ২০১৩, ২২:৫০
বহুল আলোচিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল ২০১৩’ গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। বিল পাসের বিরোধিতা করে বিরোধী দল ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের নেতৃত্বে সংসদ থেকে মাত্র দুই মিনিটের জন্য প্রতীকী ওয়াকআউট করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বিল পাসের প্রস্তাব উপস্থাপন করার আগে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফ্লোর নেন মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, শুধুমাত্র বিরোধী দলের গণআন্দোলন দমনের জন্য এ আইনে সংশোধন আনা হয়েছে। পুলিশকে সর্বময় ক্ষমতা দেয়া হয়েছে শুধুমাত্র বিরোধী দলকে দমনের জন্য। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের পর এ আইনটি হবে আওয়ামী লীগ সরকারের আরেকটি কালো আইন। তাই কালো আইনটি পাসের প্রতিবাদে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি। বিকাল ৫টা ৩২ মিনিটে ওয়াকআউট করে মাত্র দুই মিনিট পরই আবার বিরোধী দল সংসদে ফিরে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেয়। মওদুদ আহমদসহ বিরোধী দলের সদস্যদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনভাবেই বিরোধী দলের আন্দোলন দমন কিংবা গণতন্ত্রকে বিএনপি-জামায়াতের মতো টুঁটি চেপে ধরার জন্য বিলে সংশোধনী আনা হয়নি। কোন ভদ্রলোক বা ভদ্রমহিলার বিরুদ্ধে এ আইন ব্যবহার হবে না বলেও আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি। তিনি বলেন, বিরোধী দলের অভিযোগের কোন যৌক্তিকতা নেই। সংশোধনে তিনটি উপকরণ সংযোজন করা হয়েছে। সন্ত্রাসের অনুকূলে অর্থায়ন ও মানি লন্ডারিং রোধ করতে না পারলে সন্ত্রাস দমন করা যাবে না। তৃতীয়ত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলনকে সমন্বিত করা হয়েছে। সকল গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে একসঙ্গে সন্ত্রাস দমনে কাজ করার জন্যই আইনটিতে সংশোধনী আনা হয়েছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসের অনুকূলে কীভাবে অর্থায়ন হয়, তা বিরোধী দল ভাল করেই জানেন। বিরোধী দলকে দমন কিংবা গণতন্ত্রকে টুঁটি চেপে ধরার জন্য এ আইনটি আনা হয়নি। সন্ত্রাসবাদের যে কলঙ্ক বিরোধী দল তৈরি করে গিয়েছিল, আমরা সেই কলঙ্ক থেকে মুক্তি পেয়েছি। সারাদেশে স্বৈরতান্ত্রিকতা ও সন্ত্রাস দমনে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা-ই বিলে তুলে ধরা হয়েছে। তাই বিলটি জনমত যাচাই-বাছাইয়ের কোন প্রয়োজন নেই। সংশোধনী প্রস্তাবের জবাবে মন্ত্রী বলেন, স্বৈরতান্ত্রিকতা ও সন্ত্রাসবাদ আমরা কঠোরভাবে দমন করেছি। এর আগে বিরোধী দলের সদস্যরা বিলের বিরোধিতা করে বলেন, এ আইনটিতে সংশোধনী আনা হয়েছে সরকার বিরোধী যে গণআন্দোলন চলছে, তা দমন ও নিধনের জন্য। এ আইনে পুলিশকে সমস্ত ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। কোন জনগোষ্ঠীকে বা আন্দোলন দমনের জন্য এমন ধরনের আইন প্রণয়নের কোন প্রয়োজন নেই। বিলটি সম্পূর্ণ মানবাধিকার পরিপন্থি, গণতন্ত্র দমনের উদ্দেশ্যে। অতীতেও কেউ আইন করে কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমন করতে পারেনি, বর্তমান সরকারও পারবে না। বিলটি জোর করে পাস করা হলে ওয়াকআউট করা ছাড়া আমাদের কোন পথ থাকবে না। বিদেশে অপরাধ করে দেশে ফিরে আসলে ওই অপরাধের জন্য দেশীয় আইনেই তার বিচার করা যাবে—এমন বিধান রেখেই ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) বিল ২০১৩’ বিলটি পাস হয়েছে। বিলটির ওপর জনমত যাচাই-বাছাই ও অধিকতর সংশোধনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আনা প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। জাতিসংঘে সমকালীন বিভিন্ন রেজুলেশন ও কনভেনশন এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় আলোচনার আলোকে বিদ্যমান সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধিকতর সংশোধনের প্রস্তাব করে বিলে প্রস্তাব করা হয়। বিলে বিদ্যমান আইনে ধারা ৫ এর উপ-ধারা (২) নতুন উপ-ধারা (৩) সংযোজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন দফায় বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি কোন বিদেশি রাষ্ট্রে অপরাধ সংঘটিত করে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণ করে, যা বাংলাদেশে সংঘটিত হলে এ আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য হতো, তাহলে উক্ত অপরাধ বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং যদি তাকে উক্ত অপরাধ বিচারের এখতিয়ার সম্পন্ন কোন বিদেশি রাষ্ট্রে বহির্সমর্পণ করা না যায়, তাহলে উক্ত ব্যক্তি ও অপরাধের ক্ষেত্রে এ আইনের বিধানাবলি প্রযোজ্য হবে। বিলে সন্ত্রাস কার্যে অর্থায়ন বিষয়ে তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুনির্দিষ্ট বিধানের প্রস্তব করা হয়েছে।