শরণখোলায় কলেজে ছাত্রলীগের হামলা, সাত শিক্ষক আহত

আপডেট : ১১ জুন ২০১৩, ২২:৫০
বাগেরহাটের শরনখোলায় ডিএন কারিগরি কলেজে ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ। তারা কলেজের কম্পিউটারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের গাড়ি ভাংচুর করে। এ ঘটনায় কলেজের সাত শিক্ষক আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা এ তাণ্ডব চালায়। তবে হামলার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহতদের মধ্যে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম বাবুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে শরনখোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলা চলাকালে কলেজে উপস্থিত ধানসাগর ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহান দুলাল একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে রক্ষা পেলেও তার মোটর সাইকেলটি ভাংচুর করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানের পুত্র ইমরান উদ্দিন শুভ, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বাদশা আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন করিম সুমনের নেতৃত্ব ছাত্রলীগের ২৫/৩০ জন ক্যাডার ১৫/১৬টি মোটর সাইকেলযোগে উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজারসহ বিভিন্ন গ্রামে মহড়া দেয়। এক পর্যায়ে তারা কোন্তাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি খান মতিয়ার রহমানের এলাকায় গিয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। তাকে না পেয়ে স্থানীয় বাজারে গিয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে ধাওয়া করে। পরে তারা ধানসাগর ইউনিয়নে গিয়ে ডিএন কারিগরি কলেজে হামলা চালায়। এতে বাধা দিতে গেলে কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ছাড়াও প্রভাষক মিজানুর রহমান, মিজানুর রহমান পাইক, মঞ্জুরুল ইসলাম খোকন, উজ্জল কুমার, শামিম হাসান সুজন ও ইব্রাহিম আহত হন। এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ মাহমুদুল হাসান বলেন, শিক্ষকদের উপর এ হামলা নজিরবিহীন। তাদের তাণ্ডবে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শরনখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবির জানান, হামলার কথা শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে কথা বলতে ছাত্রলীগের সভাপতি বাদশা আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন করিম সুমনের সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। এদিকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা-জনতা ঐক্য পরিষদের আহবায়ক ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ খালেক খান অভিযোগ করেন ঘুষ, দুর্নীতি ও টেন্ডারবাজির প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার পরিষদের উদ্যোগে উপজেলায় মিছিল-সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়া হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে এ হামলা চালানো হয়েছে।