অবশেষে ভারতের অভিনেত্রী জিয়া খানের লেখা ছয় পৃষ্ঠার সুইসাইড নোটেই সমস্ত রহস্যের ধূম্রজাল খুলতে শুরু করেছে। আর এই চিঠির জের ধরেই গ্রেফতার করা হলো জিয়া খানের বয়ফ্রেন্ড সুরজ পাঞ্চালিকে। ভারতীয় আইনের ৩০৬ ধারায় গ্রেফতার করা হয় তাকে। এই খবরে মুম্বাইয়ের পুরো মিডিয়ার নজর এখন জিয়া খানের বাড়ি এবং অভিনেতা পাঞ্চালির ছেলে সুরজ পাঞ্চালির দিকে। জিয়া খানের রেখে যাওয়া ৬ পৃষ্ঠার সুইসাইড নোটের অধিকাংশ জুড়েই রয়েছে নাম না উল্লেখ করা প্রেমিককে দোষারোপ। ছয় পৃষ্ঠার এই চিঠিতে একাধিকবার জিয়া খান তার জীবনের যাবতীয় ব্যর্থতার কারণ হিসেবে তার বয়ফ্রেন্ড সুরজ পাঞ্চালিকে দায়ী করেন। এছাড়া এই নোটে জিয়ার মৃত্যুর আগে দু’জনার ভেতরে হাতাহাতির মতো ঘটনাও ঘটেছিল সেটিও প্রকাশ পায়। সুরজের গ্রেফতারে বাবা বলিউডের প্রখ্যাত খল অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চালির জীবনেও যেন সত্যিকারের ‘খল’ কোন সিকোয়েন্স এসে ধরা দিয়েছে।
এদিকে সুইসাইড নোট প্রকাশের পর থেকেই বলিউড তারকারা নিজেদের টুইটার ও ফেসবুকে প্রতিনিয়ত তার বয়ফ্রেন্ড সুরজের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করে বিভিন্ন নোট লিখেছেন। আমির খান অভিনীত ‘গজনী’ ছবিতে তার নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন জিয়া খান। এর পরে আমিরের আরো একটি প্রযোজনায় জিয়ার কাজ করার কথা ছিল। কিন্তু হঠাত্ তার এই অকাল প্রয়াণে আমির খানও বিমর্ষ ও হতবাক হয়ে স্টেটমেন্ট দিয়ে বলেছেন, ‘মানসিক ভাবে চূড়ান্ত হতাশার কারণেই এই ঘটনা ঘটে। এবং কেউ হয়তো তার আত্মবিশ্বাস চুরি করেছে। তবে সেই আত্মবিশ্বাস চুরির যে ইঙ্গিত আমিরের মতো অনেকেই দিয়ে তা সুরজ পাঞ্চালিকেই বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করে। কারণ জিয়া খানের মোবাইল থেকে সর্বশেষ কলও করা হয় সুরজ পাঞ্চালিকেই। কারণ জিয়া তার সুইসাইড নোটে অন্য কারো নাম না লিখলেও স্পষ্টভাবে তার এই বয়ফ্রেন্ড এর নাম লিখে গেছেন। এবং চিঠিতে এটিও খুব স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, মিডিয়ায় কাজের ব্যাপারে নানা ভাবে বাধা দিয়েছে সুরজ তার প্রেমিকা জিয়াকে। এক পর্যায়ে কর্মহীনভাবে হতাশ হয়ে পড়লেই সেই প্রেমেও ধোঁকা খেতে হয় জিয়া খানকে।
গত ৩ জুন ২৫ বছর বয়সী অভিনেত্রী জিয়া খান ভারতের মুম্বাইয়ে নিজ বাসভবনে আত্মহত্যা করেন।
