মংলা বন্দরে সরঞ্জাম সংকট

আপডেট : ১১ জুন ২০১৩, ২২:৫৩
মংলা বন্দরের জেটিতে মালামাল ও কন্টেইনার উঠা-নামার জন্য অর্ধশতাধিক যন্ত্রপাতি থাকলেও এর অধিকাংশই অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। এর ফলে এ বন্দরে পণ্য ও কন্টেইনার উঠা-নামায় আমদানি- রফতানিকারকসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগের শেষ নাই। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় মালামাল বোঝাই ও খালাস কাজে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা ও অচলাবস্থা। বন্দর কর্তৃপক্ষ ‘নতুন যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করার প্রকল্প’ গ্রহণ করলেও দীর্ঘদিনেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বন্দর ব্যবহারকারী ও নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জেটি থেকে মালামাল ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং-এর জন্য মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ৫৫টি যান্ত্রিক সরঞ্জাম রয়েছে। এসব সরঞ্জামের অধিকাংশের আয়ু শেষ। মাত্র ২২টি সচল রয়েছে। সচল সরঞ্জাম আবার মাঝে-মধ্যেই বিকল হয়ে পড়ে। বিকল সরঞ্জামের কারণে বন্দরের জেটিতে পণ্য ও কন্টেইনার উঠা-নামায় আমদানি- রফতানিকারকসহ বন্দর ব্যবহারকারীদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। মালামাল বোঝাই ও খালাস কাজে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা ও অচলাবস্থা। বিকল যন্ত্রের মধ্যে মেটালনা ক্রেন ও স্ট্যাডল কেরিয়ারের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভূক্তভোগীরা জানান, জেটির ৫টি মেটালনা ক্রেনের মধ্যে ৩টিই অকেজো। বাকি দুইটিও মাঝে-মধ্যেই অচল হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় জেটি থেকে বার্জ, কার্গো, কোস্টারসহ বিভিন্ন নৌযান ও জাহাজে মালামাল উঠা-নামা করতে দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে হচ্ছে। বন্দর ব্যবহারকারী স্টিভিডোরস কোম্পানি মেসার্স নুরু এন্ড সন্সের মালিক এইচএম দুলাল জানান, মেটালনা ক্রেন অকেজো থাকায় জেটি থেকে পণ্য খালাস বা বোঝাই করতে বিড়ম্বনার শেষ থাকে না। নৌযানে পণ্য বোঝাই ও খালাস করতে ক্রেন সংকটে পড়তে হয়। মংলা ইপিজেডে আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি পেলেও বন্দরে ইকুইপমেন্ট বৃদ্ধি না পাওয়ায় তা ব্যাহত হচ্ছে। ইপিজেডকে ঘিরে মাসে বন্দরে কন্টেইনারবাহী জাহাজ আসছে ৫/৬টি। ইপিজেড থেকেও মাসে বিপুল সংখ্যক কন্টেইনার আমদানি-রফতানি হচ্ছে। বিনিয়োগকারী ও সিএন্ডএফ এজেন্টদের অভিযোগ:তারা বন্দরে ক্রেন সুবিধা পাচ্ছেন না। সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স জাহান শিপিং-এর স্বত্বাধিকারী মো. আজিজ খান অভিযোগ করে বলেন, বন্দরে দুইটি স্ট্যাডল কেরিয়ার থাকা সত্ত্বেও মাত্র একটি ব্যবহার করতে দেয়া হচ্ছে। বন্দর জেটিতে কন্টেইনারবাহী জাহাজ অবস্থান করলে জেটি থেকে ইপিজেডের কন্টেইনার লোডিং-আনলোডিংয়ে কোন স্ট্যাডল কেরিয়ার পাওয়া যাচ্ছে না। সারাদিন স্ট্যাডল কেরিয়ারের অপেক্ষায় থেকে তা না পেয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক পরিচালক মাহবুল্লাহ ইকুইপমেন্ট সমস্যার কারণে জেটিতে পণ্য উঠা-নামায় বিড়ম্বনা পোহানোর কথা স্বীকার করে বলেন, বন্দরের জনবল দিয়ে সরঞ্জাম মেরামত করে কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। নতুন সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়েছে। আরো কিছু নতুন সরঞ্জাম সংগ্রহে প্রায় ১শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।