পাঁচ প্রশ্ন

মৌটুসী

আপডেট : ১২ জুন ২০১৩, ১৯:০২
অভিনয় নিয়েই সারাবেলার ব্যস্ততা তার। তবে নতুন মা হওয়ার সুবাদে সন্তানও হয়ে উঠেছে জীবনের অন্যতম আনন্দ। সময়ের পালাবদলে তার কাজের ক্ষেত্র, পরিধি এবং ধারাও কিছুটা বদলে গেছে। নাটকের চরিত্রকে বুঝে নেওয়ার তাগিদে চরিত্রায়ণের অন্তর্নিহিত গল্পও খুঁজে ফিরেন তিনি। শুরু থেকেই অভিনয় করছেন নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে। প্রতিটি চরিত্রেই নিজেকে ভেঙে আবার গড়েছেন, এর মাধ্যমেই চরিত্রের সঠিক তত্ত্ব তুলে ধরেছেন দর্শকদের সামনে। বলছিলাম জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌটুসী বিশ্বাস। আনন্দ বিনোদনের নিয়মিত আয়োজন পাঁচ প্রশ্ন বিভাগে মৌটুসী তার সাম্প্রতিক ব্যস্ততাসহ বলেছেন কিছু ভাবনার কথা। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত কেমন যাচ্ছে আপনার সময়টা? আমি ভালো আছি, আমি ভালো কাজ করছি, আমি ভালো অনুভব করছি, সদা হাস্যোজ্জ্বল আছি—এসবই আমার জীবনের মূল বিষয়। সবচেয়ে বড় বিষয় আমার সন্তান, আমার সকল সুখের আধার। বাড়িতে তাকে নিয়েই আমার সময় কাটে। জীবনে সুন্দর সময়গুলোর মধ্যে অন্যতম এই সময়টি। এখন আবার নিয়মিত কাজে ফিরছি। তবে নেগেটিভ বিষয় একটি আছে, তাহলো রাত ১০টার মধ্যে শুটিং শেষ না হলে বাসায় ফেরার জন্য আমার অস্থিরতা বেড়ে যায়। সন্তানকে ছাড়া আমি বেশি সময় বাইরে কাটাতে পারি না। আর বরাবরই কাজের ক্ষেত্রে আমি অনেক পরিমিত। কাজটা ভালোবেসেই করতে চাই। বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে? অনেকদিন কাজ না করলেও ফিরে এসে অনেকগুলো ধারাবাহিকে কাজ করছি। আর দু’একটি একক নাটকে কাজ করার কথা চলছে। ঈদের খুব বেশি কাজে হাত দিইনি। তবে দুয়েকটি নাটক অবশ্যই আসছে। মূলত দর্শক আমাকে যেমন দেখতে চায় তেমন ভাবেই আমি তাদের সামনে উপস্থিত হই। কাজ নিয়ে কখনও নিজের মাঝে অস্থিরতাবোধ করেনি আমি, কাজটাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টাই আমার মাঝে সবসময় তাড়া করে। কোন ধরনের চরিত্রে কাজ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন? আমি সবধরনের চরিত্রেই কাজ করতে পছন্দ করি। তবে পছন্দ বলতে গেলে আমি যা না সেই চরিত্রেই অভিনয়টা বেশি উপভোগ করি। যে চরিত্রে ‘তোমার হচ্ছে না’ টাইপের কোনো কিছু থাকে তাকেই আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে পছন্দ করি। চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে রূপান্তর করাটা একটা নেশা বলতে পারেন। আর বর্তমানে আমাদের স্ক্রিপ্টের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। এখন আর নির্দিষ্ট প্রেম-ভালোবাসার মধ্যে আমাদের নাটক আটকে নেই। দৈনন্দিনের নানা ধরনের ঘটনাগুলোই উঠে আসছে আমাদের নাটকগুলোতে, সে ক্ষেত্রে আমাদের নাটকগুলোও অনেকবেশি জীবনঘনিষ্ঠ। নাটকের মাঝে অতিরিক্ত বিজ্ঞাপন দেখানো সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই। হয়তো অনেকে ভাবে দর্শকরা অনেক বোকা আসলে আমাদের দর্শকরা অনেক সচেতন। দেখা গেল নাটকের টাইটেল দেখানোর পরই শুরু হয়ে গেল বিজ্ঞাপন এ ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে আমার মনে হয় আমরা দর্শকদের নাটক দেখাতেই চাই না। এর পরিত্রাণের উপায় চ্যানেলগুলোর হাতেই আছে, তারা চাইলেই একটি ফরম্যাটে নিয়ে আসতে পারে। আপনার নাগরিক আনন্দ-বেদনা কতটুকু? দেশের যেকোনো আনন্দে আমি উদ্বেলিত হই, যেকোনো কষ্টে আমি ভারাক্রান্ত হই। এখন বাহিরে বের হলে সবচেয়ে বেশি পথশিশুদের দেখে আমার খারাপ লাগে। হয়তো নিজে মা হয়েছি বলেই এতটা খারাপ লাগে। মা-বাবাদের উচিত সন্তানের বেড়ে উঠা নিশ্চিত করেই তাকে পৃথিবী আলো দেখানো। কিন্তু আমাদের দেশের এই দরিদ্র শ্রেণীটির মাঝে এই সচেতনতা কম। সরকার এই জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সচেষ্ট ভূমিকা পালন করছে বলে মনে হয় না। সর্বোপরি দেশের বিদ্যমান যেকোনো পরিস্থিতি আমাকে ভাবিয়ে তোলে, আমাকে প্রচণ্ড নাড়া দেয়। দেশটা তো নিজেদের, এর সংরক্ষণ ভারও কিন্তু নিজেদের উপরেই বর্তায়।