অভিনয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই নিজের যোগ্যতার জানান দিয়েছেন ছোটপর্দার পরিচিত মুখ শারমীন ফাহমি। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে তার দুইটি ধারাবহিক নাটক। তাকে নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত
অভিনয়ের শুরুটা হয়েছিল ক্লাস সেভেনে। সেই সময় শহীদ মুনীর চৌধুরীর রচনা ও টুটুল চৌধুরীর নির্দেশনায় ‘আপনি কে?’ মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন। এরপর সৈয়দ শামসুল হকের রচনা ও টুটুল চৌধুরীর নির্দেশনায় ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ নাটকেও তিনি ছিলেন মঞ্চের সক্রিয় সদস্য। মূলত সংস্কৃতির সাথে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে ছোটবেলাতেই। তার মা ভালো গান গাইতেন। তাই মায়ের কাছেই গানের হাতেখড়ি। এরপর ছায়ানটে নজরুল সংগীত ও রবীন্দ্র সংগীতে তালিম নেন। পড়াশোনার পাশাপাশি চলতে থাকে সংগীতের চর্চা। কলেজের চৌকাঠ পেরিয়ে তিনি অভিনয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠলেন। তখনই প্রাচ্যনাট থেকে ছয় মাসের অভিনয় কোর্স করলেন। শারমীন প্রথম টিভি নাটকে অভিনয় করেন ২০০৬ সালে রায়হান খানের পরিচালনায় ‘ক্লান্ত সময়’ নামের এক খণ্ডের নাটকে। এই নাটকে তার সাবলীল অভিনয় দেখে কায়সার আহমেদ তার ‘সীমানা’ নাটকে অভিনয়ের জন্য বলেন। এরপরের গল্প শুধু সামনের দিকে এগিয়ে চলা। কাজ করেন একের পর এক মানসম্পন্ন নাটকে। শারমীন অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো—সমরেশ মজুমদারের রচনা ও ফাল্গুনী আহমেদের পরিচালনায় ধারাবাহিক নাটক ‘সোনার ফুল’, নরেশ ভূইয়ার ‘শেষ অধ্যায়’, অরণ্য আনোয়ারের ‘আমাদের নূরুল হুদা’ ও ‘রূপকথা’, কাফী বীরের ‘সাদা পাতায় কালো দাগ’ প্রভৃতি। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে শারমীন অভিনীত দুইটি ধারাবাহিক নাটক। এগুলো হলো— বাংলাভিশনে অরণ্য আনোয়ারের ‘কর্তা কাহিনী’ ও বৈশাখী টিভিতে জাহাঙ্গীর আলম সুমনের ‘গুপ্তধন’। এরমধ্যে ‘কর্তা কাহিনী’ নাটকে শারমীন ‘সুলেখা’ চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই নাটকে নিজের চরিত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখানে আমি সুলেখা। বাবু ভাই এই নাটকে বাংলা ছবির ভিলেনের মতো থাকে। আমি সব সময় তার সাথেই থাকি। সব মিলিয়ে আমার চরিত্রটি ফানি টাইপের। এ রকম একটি চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে আমি আনন্দিত।’ প্রচারের অপেক্ষায় আছে তার বেশ কিছু নাটক। এগুলো হলো—তারেক মাহমুদের পরিচালনায় ‘ফ্ল্যাশ ব্যাক’, সানি চৌধুরীর ‘নিশিথের তানপুরাটা’, ইরানি বিশ্বাসের ‘স্বপ্ন ছুঁয়ে যায়’ প্রভৃতি। বর্তমানে কাজ করছেন বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকে। আপনি যখন একটি নাটকের স্ক্রিপ্ট হাতে পান, তখন নাটকের ওই চরিত্র নিয়ে আপনার ভাবনা কেমন থাকে? এমন প্রশ্নের জবাবে শারমীন ফাহমি বলেন, ‘আমার হাতে নাটকের স্ক্রিপ্ট আসার পর সেটা আমি কয়েকবার ভালো করে পড়ি। তারপর নিজের চরিত্র নিয়ে চিন্তা করি ও প্রয়োজনে পরিচালকের সাথেও কথা বলি। তাই শুটিংয়ের সময় নিজের চরিত্রে প্রবেশ করতে সহজ হয়।’ নাটকে নিজের চরিত্র সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সাধারণত বেছে বেছে কাজ করি। একটি চরিত্র পছন্দ না হলে ওই নাটকে অভিনয় করি না। কেননা অভিনয় হলো আমার ভালোবাসার জায়গা। সেটা যদি ভালো না হয়, তবে অভিনয় করেইবা লাভ কী? আর সেই সব চরিত্রে অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, যেখানে অভিনয়ের জায়গা আছে।’ অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনাতেও নিজের প্রতিভার দ্যুতি ছড়িয়েছেন এই তরুণী। ২০০৭ সাল থেকে উপস্থাপনা করছেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘আমাদের অর্থনীতি’, ‘মা ও শিশু’, চলচ্চিত্র বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘অপরাজিতা’ প্রভৃতি। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইচ্ছা অবশ্যই আছে। তবে বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্রে নিজেকে জড়াতে চাই না। ভালো গল্প ও পরিচালক হলে আর্ট ফিল্ম জাতীয় ছবিতে অভিনয় করব।’ ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে শারমীন বলেন, ‘আমার স্বপ্ন একটাই—একজন ভালো অভিনেত্রী হওয়া। আমি অভিনয়ের মাধ্যমে চিরকাল দর্শকের হূদয়ে বেঁচে থাকতে চাই।’
মেকআপ হেয়ারোবিক্স ব্রাইডাল
