বিয়ের পর আট-মাস সময় পেরিয়েছে এরমধ্যে। কেমন চলেছে কারিনা কাপুরের দিনকাল? তার ক্যারিয়ার এবং দাম্পত্যজীবনের হালচাল জানতে উত্সাহী অনেকেই। বিয়ের পর সাধারণত নায়িকারা গ্ল্যামার জগতের মোহ ত্যাগ করে স্বামীর সংসার নিয়ে মেতে ওঠেন। সিনেমায় কাজ করাটা গৌন ব্যাপার হয়ে যায়। কারিনার বেলায় এখনও তা লক্ষ করা যাচ্ছে না। এখনও কয়েকটি ছবিতে প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন পতৌদির নবাব পরিবারে বউ হয়ে আসা কাপুর খান্দানের চতুর্থ প্রজন্মের মেয়েটি। কারিনার ক্যারিয়ার আগামী দিনগুলোতে কোন দিকে গড়াবে—তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। ক্যাটরিনা, প্রিয়াঙ্কা, সোনাক্ষি, দীপিকাদের সাথে পাল্লা দিয়ে এতদিন এগিয়ে থাকলেও বিবাহিতা নায়িকা হিসেবে জনপ্রিয়তার দৌড়ে আর পেরে উঠবেন কি না তিনি, তা নিয়েও রয়েছে সংশয়, সন্দেহ। কারিনার ক্যারিয়ার ও দাম্পত্যজীবনের সমসাময়িক চিত্র তুলে ধরেছেন রেজাউল করিম খোকন
আলোচিত চলচ্চিত্র
২০০০ রিফিউজ
২০০১ আজনবী
২০০১ অশোকা
২০০৪ চামেলী
২০০৬ ডন
২০০৭ জব উই মিট
২০০৮ গোলমাল রিটার্নস
২০০৯ থ্রি ইডিয়টস
২০১০ উই আর ফ্যামিলি
২০১১ রা.ওয়ান
২০১২ হিরোইন
২০১২ বডিগার্ড
২০১৩ বোম্বে টকিজ
গত বছর চারটি ছবিতে কারিনা কাপুর অভিনয় করেছিলেন। ‘এক ম্যায় আউর এক তু’, ‘এজেন্ট বিনোদ’, ‘হিরোইন’, ‘তালাশ’—মুক্তিপ্রাপ্ত চারটি ছবিতে তাকে ভিন্ন আঙ্গিকে চরিত্রে দেখা গেছে। প্রতিটিতেই তাকে বেশ উজ্জ্বল মনে হয়েছে। অভিনেত্রী হিসেবে নিজের ম্যাচিওরিটির প্রমাণ দিয়েছেন ছবিগুলোতে। এ জন্য প্রশংসিত হয়েছেন কারিনা। তবে অভিনীত ছবিগুলোর বিরাট সাফল্যের ব্যাপারে যে উচ্চাশা ছিল তা পূরণ হয়নি। যে কারণে খুব ভালো কাজ করেও তেমন চমক সৃষ্টি করতে পারেননি কারিনা। ‘হিরোইন’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য অন্যসব নায়িকাকে টেক্কা দিয়ে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারটি কবজা করবেন তেমন ধারণা করেছিলেন কারিনা নিজেও। অনেকটা সেই লোভে ঐশ্বরিয়া রাইয়ের ছেড়ে দেওয়া ছবিতে তার সেই চরিত্রে অভিনয়ে রাজি হয়েছিলেন তিনি। ‘হিরোইন’ ছবির জন্য অনেক পরিশ্রম করেছিলেন। ছবিটি বক্স অফিসের সাফল্য পায়নি, পুরস্কার অর্জনের ক্ষেত্রেও প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য নায়িকাদের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছেন। এ ছাড়াও অন্যান্য ছবিগুলো তাকে তেমন কিছু দিতে পারেনি। ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন থাকবেই। এর আগের বছর কারিনা ‘রাওয়ান’ এবং ‘বডিগার্ড’-এর মতো ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়ে নায়িকাদের ইঁদুর দৌড়ে বেশ এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু পরের বছরেই অভিনীত চারটি ছবির কোনোটিই সাফল্যের দৌড়ে কোনো চমকই দেখাতে পারেনি। যে কারণে কারিনা কিছুটা হতাশ হলেও সেটা প্রকাশ করেননি। গত বছরের শেষ দিকে অক্টোবরে সাইফ আলি খানের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসার পরও অভিনয়ে বিরতি দেননি। তবে আগের মতো তুমুল ব্যস্ত নন কারিনা। বিয়ের পর তিনি অভিনয় করেছেন ‘দাবাঙ ২’ ও ‘রাওডি রাঠোর’ ছবির আইটেম সঙে। আইটেম গার্ল হিসেবে দুটি ছবিতেই তার পারফর্মেন্স ছিল চোখে পড়ার মতো কিন্তু তারপরেও দর্শকমনে আগের মতো উত্তাপ উত্তেজনা শিহরণ ছড়াতে পারেননি তিনি। এ তো গেল আইটেম সঙের কথা। ইতোমধ্যে আরও দুটি ছবিতে প্রধান নারী চরিত্রে অভিনয় করেছেন কারিনা। ছবি দুটি হলো ‘সত্যগ্রহ’ এবং ‘গৌরি তেরে পেয়ার মে’।
প্রখ্যাত চিত্রনির্মাতা প্রকাশ ঝা পরিচালিত ‘সত্যগ্রহ’ ছবিতে কারিনাকে একজন নারী সাংবাদিকের চরিত্রে দেখা যাবে। জানা গেছে এ ছবিতে তার অভিনীত চরিত্রটি বেশ চ্যালেঞ্জিং। কারিনা সিরিয়াস মনোভাব নিয়েই কাজ করেছেন ‘সত্যগ্রহ’ ছবিতে। এ বছরেই মুক্তি পাবে ছবিটি। হয়তো এ ছবির সুবাদে কারিনা আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসবেন নতুন করে। কারিনা নিজেও তেমন প্রত্যাশা করছেন। এ ছাড়া করণ জোহর প্রযোজিত রোমান্টিক কমেডি ধাঁচের ছবি ‘গৌরি তেরে পেয়ার মে’-তে আবার তরুণ প্রজন্মের নায়ক ইমরান খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন বর্তমানে। এখানেও কারিনা নিজেকে অপেক্ষাকৃত কম বয়সী তরুণী প্রেমিকারূপে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। এর বাইরে জয়া আখতারের নতুন একটি সিনেমায় কারিনাকে রণবীর কাপুরের সঙ্গে ভাইবোনের চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রণবীর-কারিনা সম্পর্কে পরস্পরের আপন চাচাতো ভাই-বোন। সিনেমায় তাদের প্রেমিক-প্রেমিকা চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ। এখন সবাই তাকিয়ে আছেন জোয়া আখতার পরিচালিত ছবিতে কারিনা কাপুর এবং রণবীর কাপুরকে একসঙ্গে অভিনয় করতে দেখার জন্য। কারিনার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী সাবিনা খান একজন প্রযোজক। তার আগামী একটি ছবিতে অজয় দেবগণের বিপরীতে নায়িকা হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। হয়তো অজয়ের সঙ্গে এ ছবিটিতে অভিনয় করবেন কারিনা। এর আগে তারা দু’জন একসঙ্গে ‘ওমকারা’, ‘গোলমাল রিটার্নস’, ‘গোলমাল থ্রি’ এবং হালের ‘সত্যগ্রহ’ ছবিতে অভিনয় করেছেন। ঋত্বিক রোশনের বিপরীতে একটি ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব কারিনা ফিরিয়ে দিয়েছেন কিছুদিন আগে। যদিও একসময় তার দু’জন ‘কাভি খুশি কাভি গাম’, ‘ম্যায় প্রেম কী দিওয়ানি হু’ প্রভৃতি ছবিতে অভিনয় করেছেন। ঋত্বিক রোশনের কারিনার গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সেই সময়ে। কারিনার কারণে ঋত্বিকের বিবাহিত জীবনে অস্থির ঝড় সৃষ্টি হয়েছিল। এসব কারণেই হয়তো এখন আর ঋত্বিকের কাছাকাছি যেতে চাইছেন না কারিনা।
বিয়ের পর আট-নয় মাস পেরোলেও কারিনা কাপুরের সন্তানসম্ভবা হওয়ার কোনো খবর নেই। বাচ্চাকাচ্চা নেওয়ার তেমন কোনো আগ্রহ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি স্বামী সাইফ আলি খানকে। কারিনা জীবনে কখনোই মা না হওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর গত বছরের অক্টোবরে সাইফ আলি খানকে বিয়ে করেন কারিনা। তাদের বিয়ের পর থেকে সবার মুখে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। সেই প্রশ্নটি হলো, তারা কবে সন্তানের বাবা-মা হচ্ছেন? এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন কারিনা। তিনি বলেছেন, ‘সবাই আমার কাছে জানতে চায় আমি কবে সাইফের সন্তানের মা হবো, কে জানে হয়তো আমি কখনোই মা হবো না। আমি যদি কখনোই মা না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমার বয়স মাত্র ৩২। সাইফের দুটি সন্তান আছে। ওরা আমারও সন্তান। আমি তাদেরকে সেভাবে দেখি। সাইফ-আমি আদর্শ ভারতীয় দম্পতি নই, যাদের বিয়ের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো সন্তান জন্ম দেওয়া।’ তাহলে সাইফ-কারিনার দাম্পত্যজীবন কি পরিপূর্ণ সুখের নয়—তেমন প্রশ্নের প্রেক্ষিতে কারিনা বলেন, ‘অন্য আট-দশটি সাধারণ দম্পতির মতো আমরা দুজন যেকোনো ছোটখাটো আনন্দের ব্যাপার একসঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে পছন্দ করি। আমরা দু’জন মাঝেমধ্যে সুযোগ পেলে একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে ডিনার করতে যাই, যেখানে আমাদের সুখের ওপর ক্যামেরার ফ্লাশের আলো চমকায় না। আমাদের একান্ত ব্যক্তিগত জীবনকে মিডিয়ার আড়ালে রাখতেই পছন্দ করি আমরা।’
কারিনা তার ফ্যাশন সচেতনার ক্ষেত্রে বরাবরই প্রশংসা পেয়ে আসছেন বিয়ের পরেও তাকে যথেষ্ট আকর্ষণীয় সাজ পোশাকে দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে কারিনা বলেন, ‘এখন আমি মিসেস সাইফ আলি খান, আমি যেকোনো পোশাক পরার সময় সাজগোজের ক্ষেত্রে আমার স্বামীর কাছ থেকে অনুমোদন নিই আগে। সেও এ ব্যাপারে ভীষণ সচেতন, কোন সাজে কোন পোশাকে আমাকে ভালো লাগবে সে বিষয়েও সাইফ অনেক সময় বুদ্ধি পরামর্শ দেয়। আমি তা গ্রহণও করি।’
এ প্রসঙ্গে কারিনা আরও বলেন, ‘আমরা দু’জনই একই জগতের মানুষ সাইফ ভালো করেই জানে একজন অভিনেতা-অভিনেত্রীকে কত ধরনের ঝামেলা পোহাতে হয়, ক্যারিয়ারের জন্য ব্যক্তিজীবনের অনেককিছু বিসর্জন দিতে হয়, সে এসব বোঝে এবং জানে বলে আমাদের দাম্পত্যজীবন পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যদিয়ে চমত্কারভাবে কাটছে, আমরা আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত বেশ ভালোভাবেই উপভোগ করছি। আমার মধ্যে ব্যর্থতা কিংবা না পাওয়ার কোনো অতৃপ্তিবোধ নেই।’
