সত্য সন্ধানের গীতিকবি

আপডেট : ১২ জুন ২০১৩, ১৯:০৮
নিজে গান গাইতে না পারলেও ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি রয়েছে গীতিকার আবদুস সোবহান সিকদারের বিশেষ অনুরাগ। সংগীত মানুষের মনকে গভীরভাবে আলোড়িত করতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এ ধারণা থেকে জীবনের ক্ষেত্রে চির সত্য এবং সমাজের অন্যায়, অনিয়ম দূর করার বিষয়ে কিছু বার্তা শ্রোতাদের মনে পৌঁছে দেওয়ার তীব্র বাসনা থেকেই লিখে চলেছেন অসংখ্য গান। তাকে নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু ‘হাজার বছরের বাঙালি জীবনধারার এক উজ্জ্বল অনুষজ্ঞ মাটি ও মানুষের গান। আবহমান বাংলার চিরায়ত রীতি-প্রকৃতিকে লোকজ গান, আধ্যাত্মিক গান মানুষকে নিয়ে যায় আত্মার কাছে। শান্তি, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, জীবন-মৃত্যু ও সংস্কারমুক্ত প্রেম-ভালোবাসার সুর মানুষকে মুগ্ধ করে, তার হূদয়কে আলোড়িত করে এবং মানুষকে সত্যিকার মানুষ হতে উদীপ্ত করে। এই বোধ থেকেই আমার গান লেখার শুরু।’—কথাগুলো বলছিলেন এই সময়ের সত্য সন্ধানের গীতিকাব্য রচয়িতা আবদুস সোবহান সিকদার। তার জন্ম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার রামের কাঠি গ্রামে। গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন তিনি। শৈশব-কৈশোরের দুরন্তপনা তাকে নিয়ে গেছে প্রকৃতির কাছাকাছি। লেখাপড়ায় যেমন মেধাবী তেমনি খেলাধুলাতেও পটু। রবিশাল বিএম কলেজ থেকে আইএ পরীক্ষায় যশোর বোর্ডে মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স করেন। এরপর ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর শিক্ষা নেন। দেশে ফিরে যোগ দেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা হিসেবে। এসবের মাঝেও থেমে থাকেনি তার গান লেখা। ২০১২ সালে বাজারে আসে তার লেখা গান নিয়ে মিক্সড অ্যালবাম ‘পাখি উড়ে যায়’। স্বাধীন মিউজিকের ব্যানারে বাজারে আসা এই অ্যালবামে গেয়েছেন মমতাজ, এন্ড্রু কিশোর, সুবীর নন্দী, ফেরদৌস আরা, বারী সিদ্দিকী, চন্দনা মজুমদার, সোনিয়া, শাহনাজ বেলী, অর্চনা মালাকার ও নাসির খান। অ্যালবামে গান রয়েছে মোট দশটি। গানগুলো হলো—‘আকাশের ওই নীল সীমানায়’, ‘কত যে বেদনা বুকে’, ‘খুঁজি এমন একটি দেশ’, ‘ওই দূর নীল আকাশে’, ‘সুন্দর দুটি পাখি ছিল’, ‘যাইতে হবে জানতাম যদি’, ‘ঘুঘু শালিক আর টিয়া ময়না’, ‘সত্য কথা বলতে যদি’, ‘মাগো তুমি আজ বহু দূরে’ ও ‘আগামী প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা’। সম্প্রতি বাজারে আসে তার লেখা গান নিয়ে মিক্সড অ্যালবাম ‘যেতে হবে জন্মের বেশে’। এতে গান গেয়েছেন সুবীর নন্দী, ফেরদৌস আরা, এন্ড্রু কিশোর, মমতাজ, বারী সিদ্দিকী, চন্দনা মজুমদার, শাহনাজ বেলী, রিংকু, সোনিয়া ও নোলক বাবু। আর অ্যালবামের গানগুলো হলো—‘আত্মহনন করেন যারা’, ‘সারা জীবন ছিলাম আমি’, ‘মা এসেছ ধরার মাঝে’, ‘আল্লাহর কাছ থেকে এলো ফরমান’, ‘মহামিলনের দেশে’, ‘প্রভু তমি দয়াময়’, ‘ভাবি নাইরে কোনোদিন’, ‘সব বন্ধুরে ছাইড়া আমি’, ‘ভবের এই দুনিয়ায়’ ও ‘চাকুরি করে চাকুরে ভাই’। এই অ্যালবাম প্রসঙ্গে গীতিকার আবদুস সোবহান সিকদার বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি সংগীত সবার কাছে কোনো না কোনোভাবে প্রিয়। আবার সব সংগীত সকলের কাছে সমানভাবে প্রিয় হবে তাও ঠিক নয়। মরমী গানের প্রতি আমার একটা আকর্ষণ আছে। তা ছাড়া যেসব গানে জীবনের বিভিন্ন দিক ও দর্শন আছে সেসব গানও ভালো লাগে। তাই এই অ্যালবামে আধ্যাত্মিক, মরমী ও বাউল ঘরানার গান স্থান পেয়েছে।’ গান লেখার বিষয়ে আপনি কার কাছ থেকে উত্সাহ পান? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার সহধর্মিণী ও কন্যার অনুপ্রেরণাতে আমি লিখে চলেছি। তারা দু’জনেই লালনগীতি খুব ভালোবাসে।’ গান নিয়ে ভবিষ্যত্ ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চাকরি জীবন শেষ করে অবসরে গেলে আরও বেশি করে গানের মাঝে নিজেকে জড়াবো। আমার ইচ্ছা ভালো কিছু আধ্যাত্মিক গান শ্রোতাদের উপহার দেওয়া।’