রায়গঞ্জ
দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক বিশিষ্ট নজরুল-চিন্তাবিদ মুহ. আরিফ-উদ-দৌলা বলেছেন, ‘নজরুল বাঙালির স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ধারার স্রষ্টা। তাঁকে অনুধাবন ও মূল্যায়ন করে বাঙালির সেই স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ধারা উদ্ধার করতে হবে। বাঙালি সমাজ ও বিশেষত মুসলিম বাঙালি সমাজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তিনি রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে সঠিক কাঠামোতে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সমাজকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর দাঁড় করার প্রয়াস চালিয়েছেন। সমাজে অত্যাচারীর শাণিত খর্গে চিরাচরিত আত্মাহুতিদানে বাধ্য অসহায় মানুষ উদ্ধার-আন্দোলনে তিনি সর্ব কালের সর্বশ্রেষ্ঠ অগ্রনায়ক।’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৪তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শনিবার সন্ধ্যায় রায়গঞ্জ ললিতকলা একাড়েমী আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি এ সকল কথা বলেন। রায়গঞ্জ সদর বাজার চত্বরে একাডেমীর প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা গাজী রইচ উদ্দিন জয়নালের সভাপতিত্বে প্রভাষক এসএম আনিসুর রহমানের সঞ্চচালনায় বিশেষ আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক এটিএম লুত্ফর রহমান দিলু, ইত্তেফাক সারাদেশ ফোরামের রায়গঞ্জ কমিটির আহ্ববায়ক ধানগড়া মহিলা কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. শহীদুল ইসলাম, ললিতকলা একাডেমীর নির্বাহী পরিচালক বেগম নূরুন নাহার তর্কবাগীশ অনার্স কলেজের প্রভাষক মো. দেরাজ উদ্দিন প্রমুখ। সভায় প্রধান আলোচক তার সুদীর্ঘ বক্তৃতার মাঝে উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের নজরুলের জীবন-চরিত বিষয়ক অসংখ্য প্রশ্নের জবাবে সুনিপুণভাবে ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করে শ্রোতাবৃন্দের গভীর মনোযোগ আকর্ষণ করেন। সবশেষে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একাডেমীর নির্বাহী পরিচালক প্রভাষক দেরাজ উদ্দিনের পরিচালনায় মধ্যরাত অবধি চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনষ্ঠািনে একাডেমীর শিশু শিল্পীরা নজরুলের কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশন ও কবির কালজয়ী সংগীত পরিবেশ করেন।
