গল্প নয় সত্যি

ঘুমের ঘোরে!

আপডেট : ১২ জুন ২০১৩, ২০:১০
সেই সকালে ঘুম থেকে উঠেই অফিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা। তারপর সারা দিনমান একটার পর একটা কাজ করে যদি শরীরে খানিকটা ক্লান্তি বা ঘুম ভর করে তাতে হয়তো দোষের কিছু নেই। কিন্তু তাই বলে অফিসের ফাঁকে খানিকটা ঝিমুনি বা ঘুমিয়ে নেবার কারণে যদি নিয়োগদাতার কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে যায় তাহলে সেটা নিয়ে শোরগোল হওয়াটাই স্বাভাবিক বৈকি। আর এমনই এক ঘটনা দিয়ে এবার গোটা দুনিয়ার বড় বড় সংবাদপত্রে মুখরোচক খবর হয়ে এসেছেন জার্মানির স্থানীয় একটি ব্যাংকের এক কর্মী। তবে এই ভুলের কারণে ঘুমিয়ে পড়া ঐ কর্মীর সুপারভাইজারেরও চাকরি চলে যাওয়ায় বিষয়টি শেষতক মামুলি ভুলে চাকরি চলে যাওয়াতে সীমাবদ্ধ না থেকে গড়িয়েছে আদালতের দরজা অবধি। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ঝিমুনি আসার আগ মুহূর্তে আলোচিত ওই কর্মী তার কম্পিউটারে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা অনলাইনে অর্থ লেনদেনের একটি কাজ করছিলেন। এ সময় পেনশন ভোগী এক কর্মকর্তার অ্যাকাউন্টে তার সবমিলিয়ে মোট ৬৪.২০ ইউরো স্থানান্তর করার কথা ছিল। কিন্তু সর্বনাশা ঘুমের কারণে কিবোর্ডে চাপ লেগে শেষ পর্যন্ত স্থানান্তর হয় ২২২,২২২,২২২.২২ ইউরো। খুব সম্ভবত কিবোর্ডের ২ লেখা বাটনটিতে একাধিক চাপ পড়া ও তারপর এন্টার পড়ে যাবার কারণেই এই বিপুল অঙ্কের অর্থ স্থানান্তরের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এদিকে ঘুমন্ত কর্মীর এই ভুল তার সুপারভাইজারের কাছে ইলেকট্রনিক অনুমোদনের জন্য গেলে তিনিও কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়াই বিষয়টিতে অনুমোদন দেন। ফলে এই বিপুল অঙ্কের অর্থও চোখের নিমিষেই চলে যায় এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে। তবে বিশাল এই ভুলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়ে দেন ঐ ব্যাংকেরই অপর এক কর্মী। তিনিই প্রথম সিস্টেম থেকে বিষয়টি দেখে সাথে সাথে তা জানান সংশি¬ষ্ট কর্মীদের এবং তাদেরই সহায়তাই এই লেনদেনটি বাতিল করা হয়। এদিকে এই ভুলের কারণে ঐ কেরানির বড়কর্তাও চাকরিচ্যুত হলে তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালতে নিজের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে সুপারভাইজারের দায়িত্বে থাকা ৪৮ বছর বয়সী মহিলা ব্যাংকার জানান, ঘটনার দিন তাকে সবমিলিয়ে প্রায় ৮০০ নথিতে সম্মতি দিতে হয় যেগুলো করার জন্য তিনি গড়ে সময় পান দুই সেকেন্ডেরও কম। আর তাই এই যুক্তির প্রেক্ষিতে বড়কর্তার শাস্তিটি স্থগিত করার নির্দেশও দেন আদালত।