৩০ জনের মৃত্যু !

জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কি নিরাপদ

আপডেট : ১২ জুন ২০১৩, ২১:৫২
বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের কোন পশ্চাত্পদ দেশ নহে খোদ কানাডায় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবনে অন্তত: ২৩ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে সেদেশের একটি সংবাদ মাধ্যম। যে সমস্ত মহিলাগণ এসব জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করতেন তাদের আকস্মিক রক্ত জমাট বেঁধে মৃত্যু ঘটে বলে রিপোর্টে প্রকাশ। ‘ইয়াজ ও ইয়াসমিন’ নামের বিশ্বের দু’টি বহুল ব্যবহূত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবনে এ মৃত্যু হয়। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, তিন বছর আগে ‘মিরান্ডা স্কট নামের এক তরুণী ইউনিভার্সিটি অব বৃটিশ কলম্বিয়া জিমে কাজ করার সময় তার মৃত্যু ঘটে। পরে তার ময়না তদন্তে ও কেমিক্যাল রিপোর্টে ধরা পড়ে ডেসিমিনেটেড ইন্ট্রাভাসকুলার কোয়াগুলেশন বা শরীরে রক্ত জমাট বেঁধে মৃত্যু হয়। তার মা ম্যাককুলারি বুঝতেই পারলেন না তার স্বাস্থ্যবতী এ্যাথলেটিক কন্যার আকস্মিক মৃত্যু কেন হলো। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, প্রতি ১০ হাজারে ১ জনের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবনে ব্লাড ক্লট জনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে। হেলথ কানাডার তথ্য মতে ২০০৭ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত চিকিত্সক, ফার্মাসিস্টগণ অন্তত: ৬ শত মহিলার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার এবং ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। সন্দেহ করা হচ্ছে জন্মনিরোধক বড়ি ইয়াসমিন ও ইয়াজ সেবনে এ দুর্ঘটনা ঘটছে। আর মৃত্যুবরণকারীদের বয়স ১৪ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে। তবে আইনজ্ঞগণ বলছেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবনে জটিলতার শিকার হচ্ছেন আরও অনেক বেশি তরুণী-মহিলা যার বেশিরভাগই অপ্রকাশিত থেকে যাচ্ছে। তবে ইয়াসমিনের উত্পাদক কোম্পানি বলছে, তারা এখন কানাডার অন্টারিওর একটি আদালতে মামলায় লড়ছেন এবং কোম্পানিটিকে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর আদালতের কাঠ গড়ায় দাঁড়াতে হবে। এখানে উল্লেখ্য বাংলাদেশে জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবনে জটিলতা হচ্ছে কিনা তাও অনুসন্ধানের দাবি রাখে। কারণ দেশে নিম্নমানের জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ব্যবহূত হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। লেখক : চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ