বিশ্বকাপ ২০১৪ বাছাই
দক্ষিণ আমেরিকা
কলম্বিয়া ২ পেরু ০
ইকুয়েডর ১ আর্জেন্টিনা ১
ভেনেজুয়েলা ০ উরুগুয়ে ১
চিলি ৩ বলিভিয়া ১
আর্জেন্টিনা আগামী বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করার পথে খানিকটা হোঁচট খেলো ইকুয়েডরের সাথে ১-১ গোলের ড্রয়ে বাধ্য হয়ে। তবে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের অন্য খেলায় কলম্বিয়া ২-০ গোলে পেরুকে হারিয়ে ব্রাজিলের পথে অনেকখানি এগিয়ে থাকলো।
ইকুয়েডরের সাথে জিতলেই এ রাউন্ডেই দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে চলে যেতো আর্জেন্টিনা। সর্বশেষ খেলাগুলোর পর আর্জেন্টিনার সংগ্রহ দাঁড়ালো ২৬ পয়েন্ট। অপরদিকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা কলম্বিয়া ও ইকুয়েডর পেলো ২৩ ও ২১ পয়েন্ট।
দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এ খেলাতেও তাদের মূল খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকে বেঞ্চে রেখে মাঠে নেমেছিল। তারপরও সার্জিও অ্যাগুয়েরোর পেনাল্টি থেকে পাওয়া গোলে সফরকারীরা এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু কুইটোর অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ইকুয়েডর সমতায় ফেরে ১৭ মিনিটে সিগুন্ডো ক্যাসটিলোর গোলে। অপরদিকে কলম্বিয়ার হয়ে গোল দুটি করেছেন টিওফিলো গুইতেরেজ এবং রাদামেল ফ্যালকাও।
যদিও আর্জেন্টিনা ও ইকুয়েডরের খেলাটির শেষদিকে কদর্য রূপ নেয়। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক জাভিয়ার ম্যাশেরানো লাল কার্ড পান ৮৭ মিনিটে। সামান্য আঘাতের পর তাকে মাঠের বাইরে নেয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের গাড়ির ড্রাইভারকে তিনি লাথি মারলে সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনায় মাঠ থেকে বহিষ্কৃত হন ম্যাশেরানো।
কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলা অবশ্য ইকুয়েডরের সাথে একটি কষ্টার্জিত পয়েন্ট অর্জনের জন্য আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের প্রশংসা করেন। কারণ ইকুয়েডর নিজেদের মাঠে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আগের ম্যাচগুলোয় শতভাগ সফল। এছাড়া অলিম্পিক স্টেডিয়ামটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২৮০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। সাবেলা বলেন, ‘আমরা জানতাম এটা হতে যাচ্ছে সবচেয়ে কঠিন ম্যাচ। অনেক কিছু আমাদের প্রতিকূলে ছিল ইনজুরি, নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু দলটি সব কিছু পেরিয়ে সেরাটা দিয়েছে মন থেকে। আমি সন্তুষ্ট।’
আর্জেন্টিনা এই ম্যাচটি জিতলেই ব্রাজিল বিশ্বকাপের মূল পর্বে চলে যেতো। তবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপে যেতে বেগ পেতে হবে না। কারণ আরো তিনটি ম্যাচ হাতে রয়েছে তাদের। তারপরও সাবেলা দলকে সতর্ক করে দিয়েছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে প্যারাগুয়ের সাথে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ। সাবেলা বলেন, ‘আমরা এখনো বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ হতে পারিনি গাণিতিক হিসাবের জন্য।’
আর্জেন্টিনার শুরুটা স্বপ্নের মত হয়েছিল কারণ ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার অ্যাগুয়েরো সফরকারীদের গোল এনে দিলেন। ইকুয়েডরের গোলরক্ষক আলেকজান্ডার ডোমিনগুইজ স্বাগতিকদের কাছে খলনায়কে পরিণত হন ভুলের জন্য। অ্যাগুয়েরো পেনাল্টি কিক থেকে গোল আদায় করে নেন। তবে ইকুয়েডর গোলটি শোধ দিতে বেশি সময় নেয়নি। এডিসন এদিকে কাভানির ২৭ মিনিটে করা একমাত্র গোলে উরুগুয়ে ১-০ ব্যবধানে হারায় স্বাগতিক ভেনেজুয়েলাকে। এই জয়ে বিশ্বকাপে যাওয়ার আশা ভালভাবেই টিকে থাকলো উরুগুয়ের। চিলি কক্ষচ্যুত হয়নি। তারা ৩-১ গোলে সফরকারী বলিভিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে যাওয়ার পথটি মসৃণই রেখেছে।
এ অঞ্চলের বাছাই শেষে চারটি দেশ সরাসরি ব্রাজিলে খেলার টিকেট পাবে।
