শরণখোলায় ছাত্রলীগের হামলায় ২ সাংবাদিক ও ৪ পুলিশ আহত

আপডেট : ১২ জুন ২০১৩, ২২:৩২
বাগেরহাটের শরণখোলা প্রেসক্লাবে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। এসময় তারা ক্লাবের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। তাদের ইটপাটকেল ও লাঠিসোঁটার আঘাতে দুই সাংবাদিক ও চার পুলিশ আহত হয়। মঙ্গলবার রাত ৯টায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ৩৫/৪০ ক্যাডার এ হামলা চালায়। পুলিশ এসে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়লে সন্ত্রাসীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ঘটনার সময় উপস্থিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এম সাইফুল ইসলাম খোকন, রায়েন্দা ইউপি চেয়ারম্যান শ্রমিকলীগের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মিলন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহম্মেদ মুক্তা তাদের নিবৃত্ত করতে ব্যর্থ হন। পরে তারা ক্লাবের সামনে থাকা ২টি মোটর সাইকেল ও একটি পিকআপ ভ্যান ভাঙচুর করে। প্রেসক্লাবের সভাপতি বাবুল দাস ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি কামাল উদ্দিনের পুত্র ইমরান উদ্দিন শুভ, ছাত্রলীগ সভাপতি বাদশা আলমগীর ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন করিম সুমনের নেতৃত্বে ক্যাডাররা প্রেসক্লাবে হামলা চালায়। তারা আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাংবাদিকদের কাছ থেকে চারটি ডিজিটাল ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। হামলায় আহত সাংবাদিকরা হলেন- দৈনিক সকালের খবরের সংবাদদাতা ও সাপ্তাহিক বনাঞ্চলের বার্তা সম্পাদক ইসমাইল হোসেন লিটন ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম। এছাড়া শরণখোলা থানা পুলিশের এসআই আবুল খায়ের, এ এস আই নিয়াজ মোর্শেদ, কনেস্টবল কামরুল ইসলাম, পারভেজ ও সানী নামের এক যুবক আহত হয়। বাগেরহাটের এডিশনাল এসপি পংকজ কুমার ও শরণখোলা থানার ওসি হুমায়ুন কবির ঘটনাস্থল পরির্দশন করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এব্যাপারে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ও পুলিশের পক্ষ থেকে দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে ওসি জানান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ রিয়াদুল নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে। উল্লেখ্য, গত ৪ জুন শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যানের দুর্নীতি, টেন্ডারবাজির সংবাদ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তিনি সাংবাদিকদের হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার হুমকি দেন।