ছেলে লিটনের পক্ষে মাঠে শহীদ জায়া জাহানারা

আপডেট : ১২ জুন ২০১৩, ২২:৫৬
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নেমেছেন উভয় দলের নেতৃবৃন্দ। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত উভয় সংগঠনের কেউ ঘরে বসে নেই। মেয়র পদ প্রার্থী ছেলে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের তালা মার্কায় ভোট চাচ্ছেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সহধর্মিনী বয়োবৃদ্ধা জাহানারা জামানও। গতকাল বুধবার তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছেলে লিটনের তালা মার্কার লিফলেট বিলি ও ভোট প্রার্থনা করেন। এসময় তার সঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও অংশ নেন। শহীদ পত্মীকে কাছে পেয়ে ভোটাররা বিশেষ করে বয়স্ক ও তরুণরা উত্সাহিত হন। রাজশাহীর উন্নয়নই আমার জীবনের ব্রত : লিটন খায়রুজ্জামান লিটন গতকাল সকাল ১১টায় রেলভবনে দিনের জনসংযোগ শুরু করেন। রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফেরদৌস আলম লিটনকে রেলভবনে স্বাগত জানান। এরপর লিটন একে একে রেলভবনের বিভিন্ন শাখায় গিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে কুশল বিনিময় এবং তালা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন। এরপর লিটন মুক্তিযুদ্ধ স্টেডিয়াম মার্কেট ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে গণসংযোগ করেন। এসময় তিনি বলেন, আমি রাজশাহীর সন্তান। রাজশাহীতেই আমার জন্ম। রাজশাহীর মানুষের সাথেই আমার বসবাস। রাজশাহীর মানুষকে নিয়েই আমার অঙ্গীকার, স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা আর ভালবাসার জগত্। রাজশাহীর উন্নয়নই আমার জীবনের ব্রত। এর জন্য পিতার মত জীবন উত্সর্গ করতেও প্রস্তুত। গত সাড়ে ৪ বছরে রাজশাহী মহানগরীর আনাচে-কানাচে দৃশ্যমান উন্নয়ন আপনাদের চোখের সামনে। রাজশাহীবাসীর সমর্থন-সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি আপনাদের ভোট চাই, আপনাদের রায় চাই। ইনশ্আল্লাহ। তিনি আরো বলেন, জামায়াত ও হেফাজতে ইসলামীরা বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে মাঠে নেমেছে। তারা নির্বাচনকে কালো টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে। তারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে চাইবে। বিএনপির সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গতকাল সকাল থেকে নগরীর জেলখানা, সবুজবাগ, সিএন্ডবি, জীবনবীমা অফিস, বাংলাদেশ ব্যাংক, চিড়িয়াখানা, এলজিইডি অফিস, কর অফিস এবং এজি অফিস এলাকায় গণসংযোগ করেন। বেলা ১২টার দিকে তিনি লক্ষ্মীপুর মোড়ের পারফেক্ট কোচিং সেন্টারে অভিভাবকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় করেন। এরপর বিকেলে তিনি লক্ষ্মীপুর, বিনোদপুর এবং শাহ্মখদুম থানা এলাকায় জনসংযোগ করেন। ভোটারদের সাথে মতবিনিময়ের সময় মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল হেফাজত ইস্যু নিয়ে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা যে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে তার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, শুধু হেফাজত নয় এরকম আরো শতাধিক সংগঠন ও গোষ্ঠী নিঃস্বার্থ ও নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছে। এখানে ১৩ দফা বাস্তবায়ন হবে কি হবে না তার সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নাই, এটা সরকারের মাথাব্যথা, আমার নয়। পরিচিত রাজশাহী শহর হঠাত্ করেই কেমন জানি বদলে গেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি চলছে মেয়র প্রার্থীদের সঙ্গে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মাইক নিয়ে প্রচারণা। সঙ্গে নিত্য নতুন সব শ্লোগান। স্বাভাবিক কাজ-কর্ম থমকে গেছে। সবার যেন প্রধান কাজ ভোটের হিসাব নিকাশ করা। জয় ছিনিয়ে নিতে মরিয়া প্রধান দুই দলীয় প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। আর এই জয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বস্তিবাসী এবং নতুন ভোটাররা। তাদের মন জয় করতে প্রধান দুই প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন দুই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ এবং আসিফ। কিন্তু অজানা আশঙ্কা যেন রাজশাহীবাসীর পিছু ছাড়ছে না। শহরে এখন বহু অপরিচিত মানুষ। তাদের মধ্যে সন্ত্রাসী-মাস্তানরাও আছে। বিপদে পড়ার ভয়ে কোন প্রার্থীর পক্ষেই কেউ মন্তব্য করছেন না। গতকাল সারাদিন রাজশাহী ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল প্রায় ১৮ হাজার নতুন ভোটার আর অর্ধলক্ষ বস্তিবাসির ভোটই আসলে জয় পরাজয়ের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। আর এমন পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি মমতাজকে রাজশাহীতে এনেছেন লিটন। গতকাল সারাদিন লিটনের পক্ষে ভোট চেয়ে বস্তিতেই ঘুরে বেড়িয়েছেন মমতাজ। লিটন সমর্থকদের ধারণা, মমতাজকে কাছে পেয়ে বস্তির ভোটাররা ঝুঁকবে লিটনের পক্ষে। অপরদিকে, বসে নেই বুলবুলও। তিনি রাজশাহীতে এনেছেন বিএনপিপন্থি কণ্ঠশিল্পী আসিফকে। কিন্তু আসিফের চেয়ে মমতাজের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। তাই মমতাজ অনেক বেশি প্রভাব বিস্তার করেছেন বস্তির ভোটারদের মধ্যে। নির্বাচনী আচরণবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি: এদিকে নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন না কোন প্রার্থীই। সরকারি দল সমর্থক প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে আশপাশের উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অনেকেই সরকারি যানবাহন নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক লিটন। অন্যদিকে ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী বুলবুলের পক্ষে গোটা নগরীজুড়ে চলছে মাইকিং। প্রতি ওয়ার্ডে দু’টি করে মাইক ব্যবহারের কথা থাকলেও অনেক জায়গায় তার পক্ষে ৪/৫টি মাইক ব্যবহার করা হচ্ছে। বেলা দুইটার আগে মাইক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বুলবুলের পক্ষে বুধবার ১২টার দিকে মাইকে প্রচারণা চালাতে দেখা গেল। পাশাপাশি রাজশাহীর পার্শ্ববর্তী পবা উপজেলা চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা মকবুল হোসেনও সরকারি গাড়ি নিয়ে বুলবুলের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এসব আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিএনপির এক সময়ের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে ভোটের অংক এখন অনেকটাই সমান সমান। কারণ শিক্ষিত মানুষের মধ্যে আওয়ামী লীগের ভোট বেড়েছে। আর দীর্ঘ সাড়ে ৬ বছর ক্ষমতার কাছাকাছি না থাকায় বিএনপির অনেক ভোট হাতছাড়া হয়েছে। আছে অবৈধ অস্ত্র :নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী নির্বাচনী এলাকার মধ্যে যাদের কাছে বৈধ অস্ত্র আছে তা সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হবে। রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (সদর) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোলাম মাহমুদ ইত্তেফাককে বলেছেন, সব বৈধ অস্ত্রই জমা পড়েছে। কিন্তু তার সংখ্যা তিনি বলতে পারেননি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্তত অর্ধশত বৈধ অস্ত্র থানায় জমা পড়েনি।