হামলাকারীরা ছাত্রলীগের বলেই ধরা পড়েনি

আপডেট : ১২ জুন ২০১৩, ২৩:০১
রাজধানীর গুলশান নর্থ ডিসিসি সুপার মার্কেটে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এদিকে মার্কেট মালিক কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার রাতে গুলশান করলে বিদেশি ৪টি যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি দক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকা তৈরি করা হয়। পরে বিভিন্ন প্রকার আপত্তি ও তদ্বিরের প্রেক্ষিতে একটি দেশি প্রতিষ্ঠানসহ দু’টি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে পূর্বে তালিকাভুক্ত ৪টি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২টি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দরের টেন্ডার সংক্রান্ত রিভিউ বোর্ডে আপত্তি জানায়। এর প্রেক্ষিতে সিপিটিইউ শুনানি শেষে পরবর্তীতে তালিকাভুক্ত করা অপর দু’টি প্রতিষ্ঠানকে বাতিল করার পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়। সিপিটিইউ’র ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান দু’টি উচ্চ আদালতে রিট মামলা দায়ের করলে পুরো প্রক্রিয়া ঝুলে যায়। বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এনসিটি চালু করার দাবি উঠে। বন্দর সংশ্লিষ্ট প্রতিটি উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এনসিটি নিয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রীসহ চবক কর্মকর্তাগণ ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়তে হয়। এরই মধ্যে এনসিটি চবক নিজস্ব যন্ত্রপাতি ও লোকবল দিয়ে চালনার জন্য স্থানীয় সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দ দাবি জানায়। এনসিটি’র জন্য প্রায় ৬শ’ লোকের প্রয়োজন। একই সাথে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতির প্রয়োজন। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় গত এক মাস পূবে জানায়, পূর্বে চলমান বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এসওটি ভিত্তিতে এনসিটি পরিচালনার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হলো। চবক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিছু যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে অপারেটর কর্তৃক এনসিটি পরিচালনা করা হবে। উক্ত সিদ্ধান্তের আলোকে চবক প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি গ্র্যান্টিক্রেন ও ২টি রেল মাউন্ট গ্র্যান্টিক্রেন (আরএমজি) ক্রয় করবে। বাকি যন্ত্রপাতি অপারেটর প্রতিষ্ঠান ক্রয় করে ২৫ বছর ধরে বন্দরকে নির্দিষ্ট রয়্যালটি প্রদানের ভিত্তিতে এনসিটিতে কন্টেইনার হ্যান্ডেল করবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী এর ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষের বছরে প্রায় ১২ শত কোটি টাকা আয় হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের যান্ত্রিক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খায়রুল মোস্তফা জানান, এনসিটি’র জন্য ১২টি বড় যন্ত্র সংগ্রহের কাজ চলছে। থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলায় নাম উল্লেখ করে কাউকে আসামি করা হয়নি। হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার মানববন্ধন কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের ক্যাডারা মার্কেটের ১৫ দোকান ভাংচুর, লুটপাট ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। গুলশান নর্থ ডিসিসি সুপার মার্কেট মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ড. মোহাম্মদ জহিরউদ্দিন বলেন, আশা পুলিশ প্রশাসন বহিরাগত এসব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে অনতিবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে । তিনি আরও বলেন, মার্কেটে ক্রেতাদের মধ্যে একটা বড় অংশই কূটনীতিক। তারা যাতে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন সেজন্য নিরাপত্তা জোরদার করারও অনুরোধ জানাচ্ছি। মামলার বাদী সুপার মার্কেট মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান উদ্দিন বলেন, হামলাকারীদের দেখলে হয়তো চিনতে পারবো। কিন্তু তাদের নাম-ঠিকানা জানা নেই। এ কারণেই মামলায় আসামিদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কেটের একজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ছাত্রলীগ নামধারী বেশ কিছু সন্ত্রাসীর কাছে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা রীতিমত জিম্মি হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা ছাত্রলীগের বলেই পুলিশ গ্রেফতারে কোনরকম আগ্রহ দেখাচ্ছে না। গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এদিকে গুলশান ডিসিসি মার্কেটে হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন মার্কেট ফেডারেশন। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসেত মাস্টার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অবিলম্বে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বিধান করে সুষ্ঠু ও নিরাপদ ব্যবসায় পবিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানানো হয়।