রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়েরকৃত রিট আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছে। তবে হাইকোর্ট কোন দিন ধার্য না করে বিষয়টি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছে। বিচারপতি এম মোয়াজ্জাম হোসেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হককে নিয়ে গঠিত হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে গতকাল বুধবার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। গতকাল নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ, জামায়াতের পক্ষে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ও রিট আবেদনকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর শুনানি করেন।
শুনানিতে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, ইসি এখনও জামায়াতের নিবন্ধনের বিষয়ে পরিপূর্ণ কোন সিদ্ধান্তে আসেনি। তারা কোন সিদ্ধান্ত দেয়া না পর্যন্ত রিট আবেদন অপরিপক্ব। তিনি বলেন, যারা জামায়াতের নিবন্ধন চ্যালেঞ্জ করেছে তাদের গঠনতন্ত্রে জিহাদ ও ইসলামের কথা রয়েছে। কিন্তু জামায়াতের গঠনতন্ত্রে জিহাদের কথা নেই। এজন্য এ রিট করা হয়েছে অসত্ উদ্দেশ্যে।
মহসীন রশিদ বলেন, ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর জামায়াতে ইসলামীকে সাময়িক নিবন্ধন দেয়া হয়। সে সময় সংবিধানে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের কথা ছিল। তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সাময়িক নিবন্ধন দেয়া হয়। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্য নিয়েই তখন ইসি সিদ্ধান্ত নেয়। তখন ইসির সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।
ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর বলেন, যে গঠনতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে জামায়াতে ইসলামীকে নিবন্ধন দেয়া হয়েছিল তা ছিল নিবন্ধনের অযোগ্য। তাই নিবন্ধনের পর ঐ গঠনতন্ত্র সংশোধনের সুযোগ নেই। জামায়াতের নিবন্ধন সংবিধানের ৭ ও ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ পরিপন্থি। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বলেছে এটা সাময়িক নিবন্ধন বা প্রভিশনাল রেজিস্ট্রেশন। কিন্তু ইসির আইনে কোথাও প্রভিশনাল নিবন্ধনের বিধান খুঁজে পাইনি। তিনি বলেন, জামায়াত ইসিতে যে গঠনতন্ত্র জমা দিয়েছে তা শোধরাবার অবকাশ নেই। যেটা জমা দিয়েছে সেটাই বিবেচনায় নিতে হবে।
বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী, জাকের পার্টির মহাসচিব মুন্সি আবদুল লতিফ, আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান’র সভাপতি হুমায়ূন কবির, সম্মিলিত ইসলামী জোটের প্রেসিডেন্ট মওলানা জিয়াউল হাসানসহ ২৫ ব্যক্তি ২০০৯ সালে রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি রুল জারি করেন। রুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০বি(১)(বি)(২) ও ৯০(সি) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।
