চট্টগ্রাম বন্দর এনসিটি খাতে ১২শ কোটি টাকা হারাচ্ছে

আপডেট : ১২ জুন ২০১৩, ২৩:০৭
সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা ও মামলার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) হ্যান্ডলিং বাবদ বছরে প্রায় ১২শ’ কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ২০০৮ সালে ৫টি বার্থ নিয়ে এক কিলোমিটার দীর্ঘ এনসিটি কন্টেইনার টার্মিনালের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেও তা পরিপূর্ণ ব্যবহার করা হচ্ছে না। ৫টি বার্থের মধ্যে ২টি বার্থ বেসরকারি অপারেটর সাইফ পাওয়ার টেক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করছে। ইতিমধ্যে এনসিটি’র ব্যাক আপ সুবিধার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এনসিটি ও এর ব্যাক আপ সুবিধার কাজ সম্পন্ন হওয়ায় শুধু এই ইয়ার্ড দিয়েই প্রায় ১৫ লক্ষ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সম্ভব। নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল প্রথমে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অপারেশনে যায়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তাদের নিজস্ব যন্ত্রপাতি স্থাপন করে পণ্য হ্যান্ডলিং করবে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর ওই প্রতিষ্ঠান স্থাপিত যন্ত্রপাতিসহ হ্যান্ডলিং দায়িত্ব চবকের নিকট হস্তান্তর করবে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহবান করলে বিদেশি ৪টি যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে কারিগরি দক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে তালিকা তৈরি করা হয়। পরে বিভিন্ন প্রকার আপত্তি ও তদ্বিরের প্রেক্ষিতে একটি দেশি প্রতিষ্ঠানসহ দু’টি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে পূর্বে তালিকাভুক্ত ৪টি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২টি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দরের টেন্ডার সংক্রান্ত রিভিউ বোর্ডে আপত্তি জানায়। এর প্রেক্ষিতে সিপিটিইউ শুনানি শেষে পরবর্তীতে তালিকাভুক্ত করা অপর দু’টি প্রতিষ্ঠানকে বাতিল করার পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়। সিপিটিইউ’র ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান দু’টি উচ্চ আদালতে রিট মামলা দায়ের করলে পুরো প্রক্রিয়া ঝুলে যায়। বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে এনসিটি চালু করার দাবি উঠে। বন্দর সংশ্লিষ্ট প্রতিটি উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এনসিটি নিয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রীসহ চবক কর্মকর্তাগণ ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে পড়তে হয়। এরই মধ্যে এনসিটি চবক নিজস্ব যন্ত্রপাতি ও লোকবল দিয়ে চালনার জন্য স্থানীয় সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দ দাবি জানায়। এনসিটি’র জন্য প্রায় ৬শ’ লোকের প্রয়োজন। একই সাথে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতির প্রয়োজন। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় গত এক মাস পূবে জানায়, পূর্বে চলমান বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এসওটি ভিত্তিতে এনসিটি পরিচালনার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হলো। চবক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কিছু যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করে অপারেটর কর্তৃক এনসিটি পরিচালনা করা হবে। উক্ত সিদ্ধান্তের আলোকে চবক প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি গ্র্যান্টিক্রেন ও ২টি রেল মাউন্ট গ্র্যান্টিক্রেন (আরএমজি) ক্রয় করবে। বাকি যন্ত্রপাতি অপারেটর প্রতিষ্ঠান ক্রয় করে ২৫ বছর ধরে বন্দরকে নির্দিষ্ট রয়্যালটি প্রদানের ভিত্তিতে এনসিটিতে কন্টেইনার হ্যান্ডেল করবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী এর ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষের বছরে প্রায় ১২ শত কোটি টাকা আয় হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের যান্ত্রিক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খায়রুল মোস্তফা জানান, এনসিটি’র জন্য ১২টি বড় যন্ত্র সংগ্রহের কাজ চলছে।