ইসলামী ব ই প রি চি তি

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৩, ১৯:১২
নামঃ খান বাহাদুর আহছান উল্লা শিক্ষা ও সমাজ চিন্তা লেখকঃ মোহাম্মদ আবদুল মজিদ প্রকাশনায়ঃ বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি ৫, পুরাতন সচিবালয় রোড, নিমতলী, ঢাকা। প্রচ্ছদ: ভদ্রেশু রিটা মূল্যঃ ৩০০ টাকা মাত্র বিশ শতকের বাঙালি সমাজে শিক্ষা ও সামাজিক অগ্রগতির পথিকৃত্ হিসাবে খানবাহাদুর আহছান উল্লাহর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান গবেষণা কর্মে ব্যক্তি আহছান উল্লাহর জীবন সাধনা ও কর্মের মধ্যে তাঁর মানব কল্যাণধর্মী সামাজিক ভূমিকা, শিক্ষাদর্শন আধ্যাত্ম সাধনার স্বরূপ বিশেষ করে ‘সৃষ্টির সেবা স্রাষ্টার ইবাদত’ এই জীবন দর্শনকে তুলে ধরা হয়েছে। আহছান উল্লাহর নিরানব্বই বছরের বর্ণিল জীবন ধারাকে কয়েকপর্বে ভাগ করা যায়। শৈশব ও শিক্ষাকাল, চৌত্রিশ বছর ব্যাপী অবিভক্ত বাংলার শিক্ষাবিভাগে সরকারি চাকরিকাল এবং চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর পয়ত্রিশ বছর ব্যাপি সমাজ সেবা ও আধ্যাত্ম সাধনা। সরকারি চাকুরিকালে শিক্ষাবিভাগের একনিষ্ঠ কর্মকাণ্ড এবং অবসরগ্রহণ উত্তর কালে আহছানিয়া মিশন কেন্দ্রিক সমাজ সেবা তাঁর জীবন সাধনার কালটি উদীয়মান বাঙালী মধ্যবিত্ত সমাজের নবচেতনা বিকাশেরও এক যুগ সন্ধিক্ষণ। তিনি ছিলেন সে সময়কার একজন সচেতন, মেধাবী, উচ্চ শিক্ষিত এবং আদর্শবাদি ব্যক্তিত্ব। তত্কালীন বঙ্গীয় সমাজের ঘটনা প্রবাহে নিজেকে সম্পৃক্ত করে আহছান উল্লাহ উদীয়মান তরুণ সমাজের মধ্যে আত্মবিশবাস ও মর্যাদা এবং মূল্যবোধের চেতনা বিকাশে প্রয়াসী ছিলেন। আহছান উল্লাহ ছিলেন মিশনারি মনের মানুষ, স্বল্পভাষী এবং নীরব সমাজকর্মী। নীরবে কাজ করে একটি পশ্চাদমুখী জরাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জীবনে কিভাবে বহুমুখী ও সুদূর প্রবাসী পরিবর্তন আনা যায়, তার এক উজ্জল ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তিনি। এই মনীষীর নিরলস জীবন সাধনায় আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য রয়েছে নতুন দিক নির্দেশনা। উনিশ শতকের শেষ দশক থেকে বিশ্ব শতকের প্রথম দুই দশক তাঁর কর্মক্ষেত্র ছিল অবিভক্ত বাংলার শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ে। শিক্ষায় অগ্রসর ও পশ্চাত্পদ সমাজ থেকেই তিনি উঠে আসেন। কাঁধে তুলে নেন সেই সমাজের শিক্ষার উন্নয়ন সাধনের দায়িত্ব। শিক্ষাবিদ খানবাহদুর আহছান উল্লাহ্ হঠাত্ করে আধ্যাত্মিক সাধনায় ব্যাপৃত হননি, তাঁর পূর্ব পুরুষেরাও সাধক ছিলেন। তাদের বাড়িতে ধর্মসাধকদের যাতায়াত আগে থেকেই ছিল। পরিণত বয়সে তাকে মুজাদ্দেদে জামানা (যুগ সংস্কারক) শাহ্ সুফি প্রভৃতি অভিধায় আখ্যায়িত করা হয়। এসবই তার আজীবন আধ্যাত্ম সাধনার স্বীকৃতি। এই গন্থের মাধ্যমে আল্লাহর একজন খাটি বান্দার কর্মময় জীবন সাধনার বিভিন্ন দিক ও বিভাগ সম্পর্কে অবহিত হয়ে পাঠক তার নিজের জীবনকে সত্যের সমুজ্জল আলোকিত পথের যাত্রী হতে উত্সাহিত অনুপ্রাণীত হবেন অনায়াসে। আমরা গ্রন্থটির বহুল প্রচার কামনা করছি। হোসাইন আল খামদুল