বিদ্যুতের বকেয়া বিল তিন হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৩, ২১:৫৫
বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত গ্যাস বিতরণে কোন সিস্টেম লস নেই। অপরদিকে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট বিদ্যুতের বিল পাওনার পরিমাণ তিন হাজার কোটি টাকার বেশি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে টেবিলে উপস্থাপন করা প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিমন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান। মো. নূরুল ইসলাম সুজনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সারাদেশে ব্যক্তি পর্যায়ে এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিকট বিদ্যুত্ বিতরণকারী সংস্থা ও কোম্পানিগুলোর পাওনা প্রায় তিন হাজার ১৯৯ কোটি টাকা। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি এক হাজার ১৪২ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে পল্লী বিদ্যুতের। এম আবদুল লতিফের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৯-২০১০ থেকে গত অর্থ বছর পর্যন্ত গ্যাস বিতরণে কোন সিস্টেম লস নেই। বেগম সানজিদা খানমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো চালু হলে আগামী বছর থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদন ও চাহিদার মধ্যে পার্থক্য সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। তাছাড়া ২০১৫ সাল থেকে দেশের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুত্ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। আমিনা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সারাদেশে নতুন বিদ্যুত্ সংযোগের জন্য প্রাপ্ত আবেদনের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ ৩৬ হাজার। সবচেয়ে বেশি আবেদন করা হয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে- সাড়ে চার লাখ। শওকত মোমেন শাহজাহানের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত অর্থ বছরে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডকে ছয় হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে। একই অর্থ বছরে তেল খাতে বিপিসির ঘাটতির পরিমাণ ১০ হাজার ৫৫১ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বিপরীতে পাঁচ হাজার ৮৪৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছে। ২২২টি আইন প্রণয়ন : বেগম আশরাফুন নেছা মোশারফের প্রশ্নের জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের ১৭টি অধিবেশনে ২২২টি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশীয় চিনিতে ১০% চাহিদা পূরণ : ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে শিল্প মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া জানান, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের আওতায় বছরে ১৫টি চিনিকলের উত্পাদন ক্ষমতা দুই লাখ ১০ হাজার ৪৪০ মেটিক টন। চলতি অর্থ বছরে আখ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এক লাখ সাত হাজার ১২৩ মেট্রিক টন চিনি উত্পাদিত হয়েছে। তিনি আরো জানান, আখের অভাবে গত ১২ বছরে গড় চিনি উত্পাদন এক লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলে উত্পাদিত চিনি দিয়ে দেশের চাহিদার প্রায় ১০ ভাগ পূরণ করা সম্ভব। এছাড়া বেসরকারি খাতে ছয়টি রিফাইনারি র’সুগার আমদানি করে বর্তমানে ১০ থেকে ১২ লাখ মেট্রিক টন রিফাইন্ড সুগার উত্পাদন করে। এতে মোট চাহিদার ৮০ ভাগ পূরণ করা হয়। অবশিষ্ট ১০ ভাগ সরকারের অনুমোদনক্রমে বিএসএফআইএসর মাধ্যমে সরাসরি হোয়াইট সুগার আমদানি করে চাহিদা মেটানো হয়। রুগ্ন শিল্পের পরিসংখ্যান নেই : সুকুমার রঞ্জন ঘোষের প্রশ্নের জবাবে শিল্প মন্ত্রী জানান, সারাদেশে কতটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে রুগ্ন হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে তার প্রকৃত সংখ্যা কিংবা কোন পরিসংখ্যান শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিকট নেই। তবে রুগ্ন শিল্পের তালিকা হালনাগাদ করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রথম দফায় ২৬৪ এবং দ্বিতীয় দফায় ৮০টি রুগ্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের তালিকা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। এ দুইটি তালিকার মধ্যে সরকারি কোন প্রতিষ্ঠান নেই।