প্রায় ১৬ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে রাজত্ব করেছে ডাইনোসর। বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীতে প্রথম ডাইনোসরের বিবর্তন হয়েছিল ২৩ কোটি বছর আগে। ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে একটি বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে একপ্রকার বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল ডাইনোসর। ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেলেও বৃহদাকার এই প্রাণিটিকে নিয়ে মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই। এবার চীনে পাওয়া গেছে বাদুড়ের মতো উড়তে সক্ষম ডাইনোসরের ফসিল। গত বুধবার ন্যাচার জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই প্রজাতির ডাইনোসরের নাম ‘অ্যামবোপিটারিক্স লোঙ্গিরাসিয়াম’। বাদুড়ের মতোই ঝিল্লিময় ডানা ছিল সেই ডাইনোসরের।
চীন জীবাশ্মবিদ মিন ওয়াঙ যিনি এই গবেষণা দলের প্রধান তিনি জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে চীনের উত্তারাঞ্চলে লিয়াওনিঙে ডাইনোসরের ফসিলটি পাওয়া যায়। এই প্রজাতির ডাইনোসরকে আগে আবিষ্কৃত ডাইনোসরের থেকে একেবারে ভিন্ন। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, নতুন এই আবিষ্কার ডাইনোসর থেকে পাখিতে বিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নতুন দিশার সন্ধান দেবে।
ওয়াঙ বলেন, এটা দেখতে একেবারে ডাইনোসরের মতো আবার একেবারে বাদুড়ের মতো। প্রথমে দেখে মনে হয়েছিল এটা হয়তো বড় প্রজাতির বাদুড়। এক সময় মনে হয়েছিল বাদুড় নয়, ডাইনোসর। কিন্তু গবেষণার পর দেখা গেলো এটি আসলে ক্ষুদ্রাকার থেরোপড ডাইনোসর যাদের বাদুড়ের মতো ঝিল্লিময় ডানা ছিল। ফসিলটির বয়স সম্পর্কে তারা বলেছেন, এটির বয়স আনুমানিক ১৬ কোটি ৩০ লাখ বছর। এর আগে ২০১৫ সালেও ‘য়ি কি’ নামের একটি ডাইনোসরের ফসিল আবিষ্কৃত হয়েছিল, সেটিরও এই ডাইনোসরের মতো ঝিল্লিময় ডানা ছিল। সেটির বয়স নতুন আবিষ্কৃত ডাইনোসরের ফসিল থেকে ৫০ লাখ বছরের আশেপাশের। সেই সময়ে জীবাশ্মবিদরা ফসিল ‘য়ি কি’ ডাইনোসর কিনা সেই বিতর্কে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই সময় যারা ‘য়ি কি’কে ডাইনোসরের ফসিল হিসেবে স্বীকার করতে চাইছিল না তাদের যুক্তি ছিল ডাইনোসরের কখনো নরম টিস্যু থাকতে পারে না। এদের ডানা শক্ত এবং লোমযুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু সর্বশেষ নরম টিস্যুযুক্ত এই ফসিলটি আবিষ্কার হওয়ার পর বিজ্ঞানীদের সেই দ্বিধা কেটেছে। বিজ্ঞানীরা ‘অ্যামবোপিটারিক্স’ এবং ‘য়ি কি’কে একটি ছোট গোত্র ‘স্ক্যানসোরিওপটেরিজিড গোত্রের’ ডাইনোসর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। -সিএনএন
