সরকারের শেষ সময়ে এসে বহুল আলোচিত তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি হচ্ছে! দুদেশের তত্পরতা দেখে এমনটাই ধারণা করা যায়। আগামী সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লী সফরে এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করেই আগামী ১৮-১৯ জুন ঢাকায় যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক বসছে।
মন্ত্রী পর্যায়ের ৩৮তম এই বৈঠকে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তির খসড়ায় কিছু বিষয় পরিবর্তন আসতে পারে বলে সূত্র জানায়। পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেবে। ভারতের পক্ষে দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রী হরিশ রাওয়াত প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।
পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, পানিবণ্টন চুক্তি সচিব পর্যায়ে অনুস্বাক্ষর হয়ে আছে। মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে আমরা চুক্তির বিষয়টি ভারতের কাছ থেকে জানবো। বর্তমানে যে খসড়াটি অনুস্বাক্ষর হয়ে আছে, তাতে গজলডোবায় প্রাপ্ত পানি ৫৫ ভাগ ভারত পাবে আর বাকি ৪৫ ভাগ পাবে বাংলাদেশ। তিস্তা নদী ভারতের সিকিম রাজ্যে উত্পত্তি হয়ে পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশ নিলফামারীর ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারেজ দিয়ে ৬ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ কার্যক্রম চালায়। আর ভারত তার ৯৯ কিলোমিটার উজানে গজলডোবা বাধ দিয়ে ৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ কার্যক্রম চালায়।
১৯৭২ সালে গঠিত যৌথ নদী কমিশনের প্রথম বৈঠক থেকে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হলেও ২০১১ সালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এই চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির মুখে চুক্তিটি আলোর মুখ দেখেনি।
এপ্রিলে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির ঢাকা সফরের সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লী সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। আর তখনই প্রণব মুখার্জিকে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষর হলেই কেবল তিনি সেপ্টম্বরে নয়াদিল্লী সফরে যাবেন বলে একটি সূত্র জানায়। সূত্র জানায়, ভারতের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে যৌথ নদী কমিশনের এই বৈঠক বসছে।
যৌথ নদী কমিশন সূত্র জানায়, দুদিনব্যাপি মন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় অভিন্ন তিস্তা নদীর অন্তর্বর্তীকালীন পানিবণ্টন চুক্তি। এছাড়া রয়েছে অভিন্ন আরো ৭টি নদীর পানিবণ্টন চুক্তি, গঙ্গা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি, সীমান্ত নদীর তীর রক্ষা, দুদেশের মাঝে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ সহযোগিতা সম্প্রসারণ, টিপাইমুখ ড্যামের যৌথ সমীক্ষা, ভারতের আন্ত:নদী সংযোগ প্রকল্প, অববাহিকা ভিত্তিক সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতায় জলবিদ্যুত্ প্রকল্প, মেঘালয় রাজ্যের উমিও নদীতে মাউপু ও মাইন্ডু নদীতে মাইন্ডু ড্যাম নির্মাণ এবং গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হবে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে দুদেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ইশতেহারে অভিন্ন নদীগুলোর ক্ষেত্রে অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার কথা বলা হয়েছে। তার পূর্ণ বাস্তবায়নে আলোচনা করবে ঢাকা।
দুদেশের মধ্যে প্রবাহিত ৫৩টি অভিন্ন নদীর মধ্যে মনু, মহুরী, খোয়াই, গোমতী, ধরলা ও দুধকুমারের অন্তর্বর্তীকালীন পানিবণ্টন চুক্তি করতে কাজ করছে দুদেশ। এবারের বৈঠকে এসব নদীর পানিবণ্টন নিয়ে আলোচনা হবে। তবে তিস্তা চুক্তির আগে এসব নদীর পানিবণ্টন নিয়ে কোন সিদ্ধান্তে আসতে চায় না ঢাকা।
