গ্যাসের অবৈধ সংযোগ ও সরবরাহ লাইন নেয়ার হিড়িক পড়েছে। যেসব এলাকায় কিছু দূর গ্যাস লাইন আছে কিছু দূর নেই সে সব এলাকায় এই ধরনের পাইপ লাইন স্থাপন হচ্ছে বেশি। এতে সহায়তা করছেন সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারী-ঠিকাদাররা। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ হাজার ফুট অবৈধ সরবরাহ লাইন তুলে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ।
বৈধভাবে সংযোগ নিতে হলে আবেদন করার পর নানা নিয়ম শেষ করে কবে নাগাদ সংযোগ পাওয়া যাবে তার ঠিক না থাকায় অনেকে অবৈধ সংযোগ নিচ্ছেন। প্রথমে অবৈধ সংযোগ নিচ্ছেন তার পর তা বৈধ করার জন্য আবেদন করছেন। এতে একবছরের গ্যাস বিল বেশি দেয়া লাগছে ঠিকই। তবে দ্রুত সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
সম্প্রতি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ রাজধানী ঢাকার মাতুয়াইল, ইস্টার্ন হাউজিং পাড়া, ডগাইর, বাঁশের পুল, ডেমরা, জিঞ্জিরা, মধ্যের চর, বালুর চর, ঘাটারচর, পূর্ব শুভাড্ডা, মুসলিমবাড়ী, মধ্য নন্দিপাড়া, পশ্চিম নন্দিপাড়া, মাণ্ডা, মানিকনগর, সাতারকুল, খিলক্ষেত, মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় এক ইঞ্চি ব্যাসের ১৭ হাজার ২৯ ফুট ও দুই ইঞ্চি ব্যাসের ১২ হাজার ৪৯০ ফুট অবৈধ গ্যাস পাইপলাইন তুলে ফেলেছে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার ও টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ব্যাসের সাত হাজার ৮০ ফুট অবৈধ পাইপলাইন চিহ্নিত করেছে। এরমধ্যে ৮৮০ ফুট তুলে ফেলা হয়েছে এবং অবশিষ্ট পাইপলাইন তুলে ফেলার কাজ চলছে বলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে স্থাপিত গ্যাস বিতরণ লাইন চিহ্নিত করাসহ তা তুলে ফেলার কাজ চলছে। এসব এলাকার সংশ্লিষ্ট থানায় এবিষয়ে ১৬টি জিডি ও একটি মামলা করা হয়েছে। অবৈধ সংযোগ দিতে সাহায্যকারী হিসেবে অভিযুক্ত দুইজন ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ।
তিতাসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কোম্পানির গ্যাস বিতরণ লাইন অবৈধভাবে বাড়িয়ে নতুন গ্যাস সংযোগ নেয়া সম্পূর্ণ অবৈধ, যা গ্যাস আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ । তিনি এ ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
আগামী ২০শে জুন পর্যন্ত অবৈধ গ্যাস সংযোগ বৈধ করা যাবে। অবৈধ সংযোগ বৈধ করতে যারা স্বেচ্ছায় সম্মত হবেন তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে না। শুধু ১৫ মাসের গ্যাস বিল জরিমানা হিসেবে দিতে হবে। যার পরিমাণ ছয় হাজার ৭৫০ টাকা। এই টাকা দিয়ে সকলেই অবৈধ সংযোগ বৈধ করে নিতে পারবে। ১লা জুন থেকে এইসব গ্রাহকদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গ্যাস বিল নেয়া হবে।
নতুন সংযোগ পেতে একজন গ্রাহককে চার হাজার ৫০০ টাকা দিতে হবে। এরমধ্যে দুই হাজার ৭৫০ টাকা সংযোগ বাবদ। এক হাজার ৩৫০ টাকা নিরাপত্তা জামানত, ৩০০ টাকা কমিশন এবং আবেদন জমা দিতে ১০০ টাকা দিতে হবে। রাইজার থেকে তিন মিটার পর্যন্ত লাইন করতে এই টাকা দিতে হবে। আর এরসাথে ঠিকাদারদের দিতে হবে রাইজার থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত চার হাজার টাকা, ১১ থেকে ২০ মিটার পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা ২১ থেকে ৩৫ মিটার পর্যন্ত ছয় হাজার টাকা এবং ৩৬ মিটারের বেশি দূরে লাইন নিলে দিতে হবে সাত হাজার টাকা। এর বেশি কোন টাকা প্রয়োজন হবে না।
