নির্বাচনী বছরে সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের মতে এ ধরনের ব্যয় বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের লেনদেন ভারসাম্যেও চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাবনা শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংক উল্লেখ করেছে, চলতি অর্থ বছর (২০১২-১৩) শেষে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার ৫ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে আসবে। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল জাতীয় নির্বাচনে ব্যয়ের চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে বাজেটে দেশগুলোর সরকারি ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ভিন্ন সরকার এলে আগের সংস্কার কর্মসূচিগুলো পাল্টে ফেলার বা বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কাও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
বছরের শুরুতে জানুয়ারি এবং মঝামাঝি সময়ে বিশ্ব ব্যাংক এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। চলতি বছরের শুরুতে বিশ্ব ব্যাংক জানিয়েছিলো, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছয় শতাংশের নিচে নেমে আসবে। গতকালকের প্রতিবেদনেও বিশ্ব ব্যাংক তাদের আগের অবস্থান ঠিক রেখেছে। এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস পাওয়া, বিদ্যুত্ সংকটসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০১১-১২ অর্থ বছরের প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে গেছে। যা আগের অর্থ বছরের (২০১০-১১) ছিলো ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শিল্প উত্পাদন চলতি সময়ে বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার (জিএসপি) আওতায় দেশের রপ্তানি আয়ও বেড়েছে। তবে পোশাক কারখানায় সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাগুলোর কারণে এই গতি কিছুটা কমতে পারে। অর্থ বছরের প্রথমার্ধে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমায় মুদ্রানীতি একটু শিথিল করা হয়, যা প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করছে বিশ্ব ব্যাংক। তবে ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা বাড়ার কারণে আসছে সময়গুলোতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেতে পারে।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ইউরোপজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট চললেও উন্নত দেশগুলোর ঝুঁকি কিছুটা কমেছে এবং প্রবৃদ্ধি জোরদার হচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০১৩ সালের শেষে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হবে প্রায় ২ দশমিক ২ শতাংশ, ২০১৪ সালে হবে ৩ শতাংশ এবং তার পরের বছর ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়াতেও প্রবৃদ্ধি বাড়ার কথা বলেছে বিশ্ব ব্যাংক।
