হিরন জিতলে যা করবেন

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৩, ২৩:০০
নগরীর বর্ধিতাংশে জনগণের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে সেখানে অত্যাধুনিক পার্ক, খেলার মাঠ ও চিত্তবিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করব। নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের সুযোগ-সুবিধার জন্য শহরের কেন্দ্রস্থলে আলাদা একটি মার্কেট স্থাপন করব। বরিশালে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মানসম্মত বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করব এবং সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এগুলো বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকব। তরুণ প্রজন্মের তথ্য সুবিধার কথা চিন্তা করে আপাতত সরকারি ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ক্যাম্পাস ও বিবির পুকুর পাড়ের পাবলিক স্কয়ারকে ওয়াইফাই জোন হিসাবে ঘোষণা করা হবে এবং পরবর্তীতে সকল কলেজ ক্যাম্পাসকে এই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। বরিশাল শহরকে রেলপথের সাথে সরাসরি সংযুক্ত করতে আমি এ অঞ্চলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সরকারের নিকট জোরালো দাবির মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেব। ভোলায় উত্পাদিত গ্যাস পাইপ লাইনের মাধ্যমে বরিশালের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে গৃহস্থালি কাজে নগরবাসীকে গ্যাস সুবিধা প্রদান করা এবং বরিশালে বৃহত্ শিল্পকারখানা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্পপতিদের বরিশালে শিল্প বিনিয়োগে উত্সাহিত করব। এর ফলে বেকার সমস্যা কিছুটা হলেও দূর হবে। কলোনীবাসীদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থানসহ সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা প্রদান করব। কলোনীবাসী শিশুদের সু-শিক্ষিত করার পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন করব এবং বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করব। বরিশালে একটি ইপিজেড স্থাপন করার উদ্যোগ নেব। নথুল্লাবাদে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করে নগরীর সমন্বিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করব। যানজট নিরসন ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে গড়িয়ারপাড়ে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও কাশিপুরে ট্রাক টার্মিনাল স্থাপন করে শহরকে আরও সমপ্রসারণ করব এবং শহরকে যানজটমুক্ত রাখব। নগরবাসীর যাতায়াতকে সহজ ও সুলভ করার জন্য সিটি বাস সার্ভিস সংখ্যা বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেব। যানজট নিরসনকল্পে সদর রোডে (শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক) উড়াল সেতু বা ফ্লাইওভার নির্মাণ করব। যা হবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর বরিশাল তৃতীয় নগরীর যেখানে উড়াল সেতু থাকবে। নগরীতে ব্যাপকহারে বৃক্ষ রোপণ করে বরিশালকে সবুজ নগরীতে রূপান্তর করে পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানো হবে। কীর্তনখোলা নদীর তীরে রিং রোড স্থাপন করব। যা বেলতলা থেকে শুরু হয়ে দপদপিয়া শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু পর্যন্ত বিস্তৃত হবে, যাতে শহর আরও দৃষ্টিনন্দন হবে। দলীয় সংকীর্ণতা পরিহার করে সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়কে সকল দল, মত, শ্রেণি পেশার মানুষের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং যে সকল খাল বর্তমানে আছে সেগুলো পুরোপুরি সংস্কার করার পাশাপাশি মূল খালগুলো দখলমুক্ত করা। নগরীকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রেখে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের উপযোগী নগরীতে পরিণত করব। নগরবাসীকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করতে দু’টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট দ্রুততার সাথে কার্যকর করব। যার ফলে নগরবাসীর সার্বক্ষণিক বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। নগরীর বর্ধিত এলাকাকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে মূল নগরীর সাথে একই মানে উন্নীত করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করব। রাজনৈতিক সহাবস্থানকে নিশ্চিত করার পাশাপাশি বরিশাল নগর থেকে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের নির্মূল করে বরিশাল শহরকে শান্তি ও সমৃদ্ধির শহরে রূপান্তর করব। বরিশাল শহরকে নিরক্ষরমুক্ত করব। পূর্বের ন্যায় নগরীর মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও গীর্জাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সকল স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখব এবং সামপ্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখব। শিক্ষাঙ্গনে ভর্তি পরীক্ষা ও যে কোন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল প্রকার অনিয়ম দূর করার চেষ্টা করব এবং সকল কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা বজায় রাখব।