আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, দেশের মানুষের রক্ত নিয়ে বিএনপিকে হোলি খেলতে দেয়া হবে না। বাংলার জনগণ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে তাদের সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দাঁতভাঙা জবাব দেবে। জনবিচ্ছিন্ন ও হতাশাগ্রস্ত হয়ে বিএনপি নেতারা আবোল তাবল বলছেন বলেও জানান তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে ঢাকা জেলা উত্তর কৃষক লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হলে রক্ত গঙ্গা বয়ে যাবে’ মর্মে বুধবার বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার বক্তব্যের সমালোচনা করে মাহবুব-উল-আলম হানিফ আরো বলেন, বিরোধী দলীয় নেতারা হতাশ হয়ে এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা কখনও বলছেন রক্তের বন্যা বইয়ে দেবেন, কখনও বলছেন পিঠের চামড়া তুলে নেবেন। এটা কোন রাজনীতিক ভাষা? বাংলার মানুষ আর কোন রক্তের হোলি খেলার সুযোগ দেবে না। মূলত বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় গণতান্ত্রিক সরকার উত্খাত করতে একের পর এক ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিরোধী দলকে আবারো নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদে মুলতবি প্রস্তাব আনার আহ্বান জানিয়ে মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, বিশ্বের সংসদীয় গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে যেভাবে নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও আগামী নির্বাচন সেভাবেই হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মত অসাংবিধানিক সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন হবে না। সংসদে এসে আলোচনা করুন রাজপথে এর কোন সমাধান হবে না। যদি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংসদে আলোচনা না করেন তাহলে বাংলার মানুষ বুঝে নেবে তত্ত্বাবধায়কের নামে আপনারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে চান। ‘প্রধানমন্ত্রী মোঘল সম্রাটের চেয়ে বেশি ক্ষমতাধর’ মর্মে নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, তারা তৃতীয় শক্তির খোঁজ করছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুই প্রধান দলের পাশাপাশি তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম শক্তি গড়ে তুলুন, তাতে কোন সমস্যা নেই।
আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ধ্বংসস্তূপের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চায়। এ কারণে তারা সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।
কৃষক লীগ ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি মিয়া আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা।
