লিটন জিতলে যা করবেন

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৩, ২৩:০১
এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন : প্রতীক- তালা, পিতা শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান, মাতা: জাহানারা জামান, শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএ (অনার্স) এলএলবি, পেশা: আইনজীবী ও সদস্য রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশন। দলীয় পরিচয়: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক। নির্বাচনে বিজয়ী হলে অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত ও নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে — ০১. চলমান উন্নয়নকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাজশাহী মহানগরী উন্নয়নে ২৫ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ০২. রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। প্রস্তাবটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নীতিগতভাবে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে, তা অবিলম্বে বাস্তবায়িত হবে। এরই সঙ্গে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে আধুনিকায়ন এবং বেডের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হবে। ০৩. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদকে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর প্রক্রিয়াধীন আছে। আগামী মেয়াদে তা বাস্তবায়ন করা হবে। ০৪. শহীদ নাজমুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বি.বি. হিন্দু একাডেমী স্কুল সরকারিকরণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা হবে। ০৫. শাহ্ মখদুম থানার শিশুপার্কের পশ্চিমে ৪ বিঘা জমির উপরে একটি মানসম্মত মাধ্যমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া মতিহার ও রাজপাড়া থানায় ১টি করে মানসম্মত মাধ্যমিক স্কুল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ০৬. গত মেয়াদে ৩টি কলেজ ও ২টি স্কুল সিটি কর্পোরেশনের পরিচালনার আওতায় আনা হয়েছে। আগামীতে এই সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হবে। ০৭. রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে “সিটি বিশ্ববিদ্যালয়” স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পক্ষ থেকে অনুমোদনের জন্য পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা হবে। ০৮. ছেলে-মেয়েদের ভর্তি সমস্যা দূর করার জন্য সরকারি ল্যাবরেটরী স্কুল, হেলেনাবাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং শিরোইল সরকারি স্কুলে আরও একটি শিফট্ চালু করা হবে। সেইসাথে সরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলোকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত করা হবে। ০৯. স্কুল-কলেজগুলোতে শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নয়নের জন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও সুধী ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। ১০. খেলাধুলার সার্বিক উন্নয়নে রাজশাহীতে বিকেএসপি নির্মাণ বাবদ ৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প একনেক (ECNEC)-এর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অবিলম্বে তা বাস্তবায়ন করা হবে। ১১. পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। অতি অল্প সময়ের মধ্যে সমপ্রচার শুরু হবে। ১২. রাজশাহী বেতার কেন্দ্রের আধুনিকায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ১৩. এক্সপেরিমেন্টাল হল, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রিহার্সেল সুবিধা এবং একটি অত্যাধুনিক মিলনায়তন সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিকমানের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। ১৪. ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মহানগরীতে একটি ‘আইটি ভিলেজ’ স্থাপন প্রকল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। ১৫. গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার কারণে ফলিয়ার বিলের পার্শ্বে নতুন করে ২য় শিল্পাঞ্চল/বিশেষ অর্থনৈতিক জোন স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। ১৬. গ্যাস সংযোগ না হওয়ার কারণে বিগত সময়ে ১০টি গার্মেন্টস কারখানা স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে ৭টি শিল্পে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। তাই গার্মেন্টসসহ রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। শিল্পের জন্য বিসিক এলাকায় গ্যাস লাইন সমপ্রসারণ করা হবে। ১৭. রাজশাহী-ঢাকার মধ্যে আরো একটি আন্তঃনগর ট্রেন সার্ভিস চালুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেইসঙ্গে রাজশাহীকে রপ্তানি বাণিজ্যের আওতায় আনার জন্য রাজশাহী-চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। ১৮. জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ প্রকল্প ৩য় পর্যায়ের জন্য ১৩৭ কোটি টাকা একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। শীঘ্রই তা বাস্তবায়ন করা হবে। ১৯. নগরীর পিছিয়েপড়া ওয়ার্ডগুলোর সুুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিগত সময়ে ৭৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। আগামীতে এ সকল ওয়ার্ডে রাস্তা-ঘাট, ড্রেন, পানি এবং বিদ্যুত্ আলোকায়নের জন্য আরও ব্যাপক উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ২০. পদ্মা নদীর তীরে শ্রীরামপুর হতে কাজলা পর্যন্ত যে ৬টি বিনোদন স্পট নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ শুরু করা হয়েছিল তার মধ্যে ২টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামীতে স্বল্প সময়ের মধ্যে আরো ৪টি স্পট নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হবে। ২১. শহীদ কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় পার্কের আধুনিকায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। এখানে ৭ বিঘা জায়গার উপর দেশের প্রথম আধুনিক ডিজিটাল নভোথিয়েটার নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ২২. জনগণের হাঁটা-চলার সুবিধার জন্য বড় বড় রাস্তার ধারে প্রশস্ত ফুটপাত নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে তা সমাপ্ত ও সমপ্রসারণ করা হবে। ধারাবাহিকভাবে অন্য সড়কগুলোকেও এর আওতায় আনা হবে। ২৩. শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বল্প খরচে রাত্রিকালীন আলোকসজ্জা বৃদ্ধির জন্য আরো আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ২৪. আরো ২টি আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা হবে। এখানে স্বল্পমূল্যে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্লট বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে। ২৫. সাহেববাজার বড় মসজিদের জন্য সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪র্থ তলা এবং বাইরের সৌন্দর্যবর্ধন কাজ সমাপ্তির পথে। উল্লেখ্য, সাবেক মেয়রের বকেয়া প্রায় ১ কোটি টাকাও যথারীতি পরিশোধ করা হয়েছে। ২৬. প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য শুভেচ্ছা সম্মানী ভাতা বাবদ বিগত ৫ বছরে ২৮ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এই ভাতা প্রদান অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের কোথাও এই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ২৭. শাহ্ মখদুম (রহ.)-এর পবিত্র দরগাহ শরীফ উন্নয়নের জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নগরীর অন্যান্য মসজিদ, মন্দির ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে অতীতের চেয়ে অধিকতর উদ্যোগ গ্রহণ করে টেন্ডার করা হয়েছে। ২৮. নারীদের প্রতি সহিংস আচরণ বন্ধে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও নারী নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক মনিটরিং ও কাউন্সিলিং কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। ২৯. প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা সৃষ্টি ও সুযোগ-সুবিধা করা হবে। ৩০. নগরীর লক্ষ্মীপুর, তালাইমারী, শিরোইলে আধুনিক বাজার নির্মাণ করা হবে। ৩১. সিটি টাওয়ার, স্বপ্নচূড়া, দারুচিনি প্লাজাসহ ১৪টি বাণিজ্যিক স্থাপনা কর্পোরেশনের নিজস্ব জায়গায় পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (চ.চ.চ) মাধ্যমে নির্মাণাধীন আছে। কাজগুলি দ্রুত সম্পন্ন করে এবং আরো আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ করে দুই-এক বছরের মধ্যেই কর্পোরেশনের ১০০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত গড়ে তোলা হবে। যাতে ভবিষ্যতে কর্পোরেশন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা আরো বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। ৩২. মিয়াপাড়াস্থ ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগার উন্নয়নসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংস্থাসমূহকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত থাকবে। ৩৩. রাজশাহী মহানগরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ। বাড়ি বাড়ি গ্যাস সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে শহরের সকল বাড়িতে গ্যাস সংযোগ সমপ্রসারিত করা হবে। ৩৪. নগরীর বস্তিবাসী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি যুবকদের বিদেশে পাঠানোর জন্য বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা হবে এবং সরকারি সহায়তায় কম খরচে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ৩৫. রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু স্থাপনের আন্তরিক চেষ্টা অব্যাহত আছে। এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ৩৬. শহর রক্ষা বাঁধের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ৩৭. বিগত সময়ে মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে মহানগরীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণের জন্য যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল ইনশ্াল্লাহ আগামীতে তা বাস্তবায়ন করা হবে।