ছায়ানটের গানে মাটির টান

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৩, ২৩:০২
‘আগুন লাগাইয়া দিল কোনে’, ‘কানাই তুমি খেইর খেলাও কেনে’, ‘নিশা লাগিল রে’, ‘অপ্রেমিককে গান আমি শুনাব না’, ‘বাউলা কে বানাইলো রে’ একের পর হাছন রাজার গানে দুলে উঠল শ্রোতাদের প্রাণ। তারা বুঁদ হয়ে উপভোগ করলেন হাছনের গানসহ বাংলার লোকগানের বৈচিত্র্যময় সমারোহ। গতকাল বৃহস্পতিবার এমনই দৃশ্য দেখা গেল ছায়ানটের নিয়মিত বার্ষিক আয়োজন ‘দেশঘরের গানে’র অনুষ্ঠানে। ছায়ানটের প্রতিষ্ঠাতা সংস্কৃতিকর্মী ওয়াহিদুল হকের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তারা। ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনের রমেশচন্দ্র দত্ত স্মৃতি মিলন কেন্দ্রে দুইদিনব্যাপী এ লোকগানের উত্সবটি উদ্বোধন করেন সংগীত গুণী সংস্কৃতিসেবী মো. হাশেম। অনুষ্ঠানের শুরুতেই আলোচনা পর্বে ডা. সারওয়ার আলীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আনাম শাকিল। উদ্বোধক মো. হাশেম বলেন, লোকসংগীত আমাদের সংস্কৃতির মূল। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবে যেসব গান এদেশে গাওয়া হয় সেগুলো দক্ষিণের জানালা দিয়ে এসে উত্তরের জানালা দিয়ে উড়ে যায়। তিনি বলেন, সংস্কৃতিকর্মী ওয়াহিদুল হক ছিলেন সংগীতের একজন শুদ্ধ সাধক। গ্রাম গামান্তরে ঘুরে তিনি শুদ্ধ সংগীতের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। নতুন প্রজন্মের জন্য আমাদের মূল গানের শেকড় সন্ধানী বই দরকার। ডা. সারওয়ার আলী বলেন, বাঙালির মানসের মূল বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে লোকগানে। তবে ইদানীং পশ্চিমা বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহারে আমাদের লোকসংগীত তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে। খায়রুল আনাম শাকিল বলেন, দেশঘরের গান নিয়ে নিয়মিত আয়োজন হয়ে থাকে সংস্কৃতিকর্মী ওয়াহিদুল হকের জন্মদিন ১৬ মার্চের কাছাকাছি সময়। কিন্তু সে সময় দেশের অশান্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এবারের লোকসংগীত উত্সবের এ আয়োজনটি পিছিয়ে যায়। আলোচনার পর শুরু হয় হাছন রাজার গান। পরিবেশন করেন সুনামগঞ্জের মলয় চক্রবর্তী ও ঊর্মী দাস। এরপর একে একে রাজশাহীর কাজী বাচ্চু ও তার দল বারোসিয়া গান, চট্টগ্রামের শিমুল শীল ও তার দল মাইজ ভাণ্ডারী গান, জয়পুরহাটের আদিবাসী ওরাওঁ দল বিয়ের গীত ও কারাম নৃত্য এবং ফরিদপুরের মঙ্গলচন্দ্র মণ্ডল ও তার দল পদাবলী পাল কীর্তন পরিবেশন করেন। আজ শুক্রবার উত্সবের দ্বিতীয় দিন থাকছে ময়মনসিংহের বাউল সুনীল কর্মকার ও বাউল রিয়াজউদ্দীন খান পাঠান মালজোড়া গান এবং লক্ষ্মীপুরের কেয়া যাত্রা ইউনিটের মাসুম চৌধুরী ও তার দল রূপবান যাত্রা পরিবেশনা। এবারের আয়োজনে ছায়ানটকে সহযোগিতা করছে গ্রামীণফোন আর সাথে আছে স্কয়ার গ্রুপ। মিডিয়া সহযোগী মাছরাঙা টেলিভিশন।