শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ছাড় দেয়া হবে না :তথ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৩, ২৩:০৭
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে উদাসীন হলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। শ্রমিকের নিরাপত্তা হল কর্মস্থলে শ্রমিকের জীবনমানের নিরাপত্তা। ক্রুটিপূর্ণ ভবন, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প ইত্যাদি দুর্ঘটনা থেকে শ্রমিকদের রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কোন ছাড় দেয়া হবে না। ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে গতকাল বৃহস্পতিবার মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ‘কর্মজীবী নারী’ আয়োজিত ‘শ্রমিকের নিরাপত্তা ও শ্রমআইন’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, গার্মেন্টস-ঔষধ ও জাহাজ শিল্প বিকাশমান শিল্প। এই শিল্পকে অগ্রসরমান করতে হলে শ্রম আইন বাস্তবায়ন করা অবশ্যই দরকার। মালিক শুধু মালিকের মুনাফাকে গুরুত্ব দিলে শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ লেগেই থাকবে। ফলে উত্পাদন ব্যাহত হবে। তাই কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন নিশ্চিত করতে সরকার-মালিক-শ্রমিক সকলকে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ নিতে হবে। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন কর্মজীবী নারীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিরীন আখতার। তিনি বলেন, কর্মজীবী নারী দীর্ঘ সংগ্রামের ফলে শ্রম আইন ২০০৬-এ কৃষি শ্রমিক ‘শ্রমিক’ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে যতক্ষণ কৃষি শ্রমিকের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আইন করা না হবে ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলবে। কর্মজীবী নারী’র নির্বাহী সদস্য উম্মে হাসান ঝলমলের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। নির্ধারিত আলোচক হিসাবে বক্তব্য রাখেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, এনসিসিডব্লি¬উই’র সদস্য সেক্রেটারি নইমূল আহসান জুয়েল, বিজিএমইএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) রিয়াজ বিন মাহমুদ, বিল্স’র সহকারী নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দীন আহম্মদ প্রমুখ। কর্মজীবী নারী’র ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক রাহেলা রব্বানীর সঞ্চালনায় সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সানজিদা সুলতানা। এছাড়াও সেমিনারে তাজরীন ফ্যাশন লিমিটেড ও রানাপ্লাজা ধসে আহত উদ্ধার করা গার্মেন্টস নারী শ্রমিক ও মানিকগঞ্জের নারী কৃষি শ্রমিকরা বক্তব্য রাখেন।