স্বামীর সাফল্য নিয়ে টেনশনে রেনি ও সিমি

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৩, ২৩:১১
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনী এলাকার অর্ধেকেরও বেশি ভোটার নারী। রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার নতুন ভোটার। নারী ও নতুন ভোটারদের সমর্থন পেতে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের স্ত্রী শাহীন আকতার রেনি এবং মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের স্ত্রী রেবেকা সুলতানা সিমি। নিজ নিজ স্বামীকে বিজয়ী করতে টানা ১৯ দিন ধরে নগরীর অলিগলি পায়ে হেঁটে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনার পরও স্বস্তিতে নেই তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিন হওয়ায় প্রচারণায় আরো ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন তারা। স্বামী রাসিকের সদ্য সাবেক মেয়র ও মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার সুযোগ দেয়ার জন্য ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ছুটেছেন শাহিন আক্তার রেনি। স্বামীর হয়ে ভোটারদের দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এর মধ্যে স্বামীর নির্বাচনী ইশতেহারের ২৮ নম্বর দফায় থাকা নারীদের প্রতি সহিংস আচরণ বন্ধে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও নারী নেত্রীদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শ কর্মসূচি নেয়ার বিষয়টিতে জোর দিচ্ছেন। এছাড়া নগরীর সকল বাসা-বাড়িতে রান্নার জন্য গ্যাস সংযোগ সমপ্রসারিত, পোশাক কারখানা ও কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন করে নারীদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ী স্বামী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে রাজশাহীর উন্নয়নে কাজ করে দেয়ার সুযোগ করে দিতে ভোটারদের কাছে ধরনা দিয়েছেন রেবেকা সুলতানা সিমি। তিনিও স্বামীর হয়ে ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মধ্যে স্বামীর নির্বাচনী ইশতেহারের ১০ নম্বর দফা তুলে ধরে বলছেন, নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে বিনা সুদে ৫০ হাজার টাকা দেবেন। এছাড়া স্বামী নির্বাচিত হলে তিনিও বাসা-বাড়িতে গ্যাস সংযোগসহ নারীদের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। জানা গেছে, উভয়ের স্বামী দেশের দু’টি প্রধান রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের বিপরীতমুখী অবস্থান হলেও বসবাস করেন নগরীর উপ-শহর এলাকায় প্রায় পাশাপাশি। এ অর্থে তারা পরস্পরের প্রতিবেশী। তবে চার বছর নয় মাস পর নির্বাচনী প্রচারণায় সামিল হয়েছেন তারা। প্রচারণা শেষে স্বামীদের মত নির্বাচনী ফলাফল নিয়েও টেনশনে আছেন তারাও। প্রচার-প্রচারণার ফাঁকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দৈনিক ইত্তেফাকের এই প্রতিবেদকের কাছে অতি সংক্ষেপে এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন তারা। ২০০৮ সালের রাসিক নির্বাচনের পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন শাহীন আকতার রেনি। এ কারণে গোটা মহানগরী জুড়ে তিনি এখন সকলের পরিচিত মুখ। ফলে নারী ভোটার ছাড়াও তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ভোটারদের কাছ থেকে প্রচুর সাড়াও পাচ্ছেন রেনি। অন্যদিকে নতুন মুখ হিসেবে সিমিও ভোটারদের সহানুভূতি পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী রাসিক এলাকায় এবারের ভোটার ২ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯১৭। এর মধ্যে পুরুষ ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৩৯৫ এবং নারী ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫২২ জন।