নীরব ভোটাররাই ফ্যাক্টর

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৩, ২৩:১১
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ভোটের হিসাব-নিকাশ করতে মূল ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন নীরব ভোটাররা। বিএনপির ভোট ব্যাংক বনাম মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভোটের পাল্লা দু’দিকেই সমান করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের দলীয় ভোট কম থাকলেও প্রার্থীর ইমেজ ভোটের পাল্লা ভারি করেছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। উল্টো অবস্থা বিএনপির। দলের বিপুল সংখ্যক ভোট থাকলেও প্রার্থীর তেমন প্রভাব নেই সেই ভোটের উপর। তবে প্রার্থীর পক্ষে মূল সমন্বয়কারী মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি মাঠে নামায় বিএনপির ভোট ব্যাংক ঠিক থাকলেও গণসংযোগ প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে বিএনপি। ফলে নিজেদের রিজার্ভ ভোটের বাইরে নতুন ভোটারদের নজর কাড়তে পারেননি আহসান হাবিব কামাল। বিএনপির এ দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে ব্যাপক গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণায় হিরন তার দলের বাইরে বেশ কিছু ভোটারদের ভোট নিশ্চিত করেছেন। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ভোটার অধিকাংশই মুগ্ধ হিরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। দু’প্রার্থীর মধ্যে হিরনের ব্যক্তি ইমেজ ও কামালের দলীয় ভোট বিশ্লেষণে ভোটের পাল্লা টেলিভিশন ও আনারসের পক্ষে চিহ্নিত হয়ে গেছে। এখনো যারা মুখ খোলেননি তারাই নির্ধারণ করবেন আগামীদিনের নগর পিতা কে হবেন। কে হাসবেন বিজয়ের শেষ হাসি সে অপেক্ষায় থাকতে হবে শনিবার পর্যন্ত। এই নীরব ভোটাররা পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ভোট প্রদান করেন। দীর্ঘদিন শান্তির শহরে রূপ নেওয়া বরিশালে হঠাত্ করে ভোটের পরিবেশ নাজুক হয়ে উঠেছে। শান্তিপূর্ণ প্রচারণার মাঝেই বুধবার রাতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে সংঘর্ষের সময় প্রার্থী আহসান হাবিব কামালের উপস্থিতিতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ও এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ডালপালা ছড়িয়েছে। বিএনপি এ নিয়ে সাধারণ নিরীহ শান্তিপ্রিয় ভোটারদের কানে গুজব রটিয়ে দিয়েছে। এখানকার সচেতন নাগরিকরা মনে করেন সুযোগের অপেক্ষায় থাকা বিএনপির কোর্টে বল তুলে দিয়ে পুলিশ ইস্যু তৈরি করে দিয়েছে। বিএনপির হাতে তুলে দেয়া ইস্যু যখন গণমাধ্যম থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রচারে ব্যস্ত বিএনপি তখন পুলিশ আগের রাতে গুলির ঘটনা নিয়ে দফায় দফায় সাংবাদিক সম্মেলন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। গুলিবর্ষণের ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতারকৃত বিএনপি নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে শওকত হোসেন হিরনের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ যে লিফলেট উদ্ধার করা হয়েছে তা পুলিশ কমিশনার একাধিক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের হাতে প্রমাণ হিসেবে তুলে দেন। ফলে ঐ লিফলেট সাংবাদিকদের হাত ঘুরে চলে যাচ্ছে বিএনপির অপপ্রচারের সঙ্গী হিসেবে। গুলিবর্ষণের ঘটনার আগেই রাজধানী ঢাকা থেকে আসা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে রিটার্নিং অফিসারকে। আহসান হাবিব কামালের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের আগেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল-নোমান, বেগম সেলিমা রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি রিটার্নিং অফিসারের কাছে তাদের কর্মীদের উপর পুলিশের হয়রানি ও প্রতিপক্ষের প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনের রঙিন ব্যানার ও বিলবোর্ড সরিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন করা সত্ত্বেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা জানতে চান। বিব্রত রিটার্নিং অফিসার বিএনপি নেতাদের জানান- অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সাথে যুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা এসব বিষয় নিয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে কথা বলতে বলেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল আলম ইত্তেফাককে জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযোগ তদন্ত করার কথা নয়। পুলিশ কমিশনার মোঃ শামসুদ্দিনকে বিএনপির অভিযোগ ও রিটার্নিং অফিসারের বক্তব্য সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, রঙিন ব্যানার ও বিলবোর্ড হিরন সাহেব সরিয়ে নিবেন বলে রিটার্নিং অফিসারের সাথে তার কথা হয়েছে। এ কারণে পুলিশ তা অপসারণ করতে যায়নি। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের এরকম বক্তব্যের মাঝেই রিটার্নিং অফিসার মোঃ মুজিবুর রহমান শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। গুলিবর্ষণের ঘটনার পর গতকাল বৃহস্পতিবার বিজিবি ও কোস্টগার্ড নগরীতে টহল শুরু করায় ভোটারদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসছে। নগরবাসী মনে করছেন গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে বিএনপি কিছুটা উত্তেজিত হলেও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচনই অনুষ্ঠিত হবে বরিশালে। সিটি কর্পোরেশনের এ তৃতীয় নির্বাচনে কে বিজয়ী হন তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ। নীরব ভোটাররাই আগামীকাল নগরপিতা নির্ধারণ করবেন।