দুশ্চিন্তায় লিটন অস্বস্তিতে বুলবুল

আপডেট : ১৩ জুন ২০১৩, ২৩:১২
কে হচ্ছেন রাজশাহীর নগর পিতা, শেষ মুহূর্তে এসেও বলা গেল না। নানা হিসেব-নিকেশে শেষ বেলায় এসে মহা দুঃচিন্তায় পড়ে গেছেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। কেমন যেন উটকো এক ঝড় এসে সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। আর শেষ বেলায় সাজানো বাগানে কি যে ঘটে গেল- আর তাতেই চরম অস্বস্তিতে পড়লেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে নগর পিতার চেয়ারটিতে শেষ পর্যন্ত হয়তো তার আর বসা হচ্ছে না? অধোরাই থেকে যাচ্ছে ওই ম্যাজিক চেয়ারটি? তার মানে কি লিটন আবার ওই চেয়ারে বসতে যাচ্ছেন? উত্তর হ্যাঁ হলে—বেশ কিছু কাঠখড় পোড়াতে হবে লিটনকে। রাতের মধ্যে দখলে নিতে হবে বস্তির অর্ধলক্ষ ভোটারের অন্তত ৮০ ভাগ। না পেলে ম্যাজিক চেয়ারটিতে হয়ত বুলবুলই বসবেন। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে তাই আজকের রাতেই ফয়সালা হবে পাস-ফেলের। হয় টাকা, না হয় পেশিশক্তি—আর এই দু’য়ের কিছুই কাজে না লাগলে শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা দিয়ে বস্তির ওই ভোটগুলো আজ যিনি জয় করতে পারবেন তিনিই হবেন রাজশাহীর নতুন নগর পিতা। তিনিই বসবেন মেয়রের ওই ম্যাজিক চেয়ারটিতে। প্রচারণার শেষ দিনে সারাদিন রাজশাহীর এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্ত চষে বেড়িয়েছেন প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন ও মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বাহ্যিক প্রচারণা না থাকলেও আজ দিন-রাত মিলিয়ে নিজের বাক্সে আরো কিছু ভোট তুলতে চেষ্টার সবটাই করবেন দুই প্রার্থী। হয়ত রাতেই ঢুকবে টাকার বস্তা। কে কত ভোট ধরতে পারবেন? তাতে ভোটের হিসেব কতটুকুই বা মিলবে তাও পরিষ্কার নয়। তবে আজ রাতে দুই প্রার্থীই চেষ্টা করবেন বস্তির ভোট কিনতে? এমন আভাস কিন্তু ইতিমধ্যে রাজশাহী শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। আর নির্বাচন কমিশনও বলছে, তারা এ ব্যাপারে খুবই সজাগ। প্রধান দুই প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনার নেতারা কে কোথায় যাচ্ছেন সে দিকে তীক্ষ নজর রাখছে নির্বাচন কমিশন। রাজশাহীতে ভোটের হিসেবে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে শেষ ক’দিনের প্রচারণায় নিজের অবস্থান অনেকটাই শক্ত করেছেন খায়রুজ্জামান লিটন। নিম্নবিত্ত মানুষের মধ্যে লিটনের তেমন অবস্থান না থাকলেও আসাদুজ্জামান নূর ও মমতাজ রাজশাহীতে এসে এক ধরনের ক্রেজ তৈরি করেছেন। যা নিম্ন আয়ের মানুষকে দোলা দিয়েছে। তারপরও রাজশাহী মহানগরীর ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন লিটন। সে হিসেবে শিক্ষিত ও সচেতন মানুষ তাকেই ভোট দেবেন এমনটাই মনে করা হচ্ছে। আর তরুণ ভোটারদের কাছে টানতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দলের ভেতরে সব ধরনের ক্ষোভ ও দ্বন্দ্ব মিটিয়ে শেষ পর্যন্ত সবাইকে মাঠে নামাতে পেরেছেন। ১৪ দলের শরিকরাও ফজলে হোসেন বাদশার নেতৃত্বে পুরোদমে কাজ করছেন। এখন বস্তির ভোটের অংশটা টানতে পরলেই দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়রের চেয়ারটি তারই হবে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৯১৭ জন ভোটারের অর্ধেকের বেশি নারী। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩৯৫ জন। আর নারী ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫২২ জন। হেফাজত ইস্যুতে নারী ভোটারদের অনেকেই বুলবুলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। যদিও বুলবুলের স্ত্রী প্রকাশ্যেই বলেছেন, হেফাজতের ১৩ দফা দাবির একটির প্রতিও তার সমর্থন নেই। আর লিটনের স্ত্রীর প্রচারণার প্রধান কৌশল হেফাজতের ১৩ দফা। তাই নারী ভোটারদের মধ্যে লিটনের অবস্থা অনেকটাই ভালো বলে মনে করা হচ্ছে। বিএনপির ঘাঁটি রাজশাহীতে ১৮ দলের অন্যতম শরিক জামায়াতেরও একটা বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে। জোটের মধ্যে সব ধরনের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে সবাইকে মাঠে নামাতে সক্ষম হয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। রাজশাহী বিএনপির ‘মহাশত্রু’ দুই নেতা মিজানুর রহমান মিনু ও নাদিম মোস্তফা বর্তমানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন বুলবুলের পক্ষে। তাই নিজের দলের ভোট আর শরিকদের ভোট পেলেই প্রথমবারের মতো মেয়রের চেয়ারে তারই বসার কথা। দলের মধ্যে অবশ্য অনেকেই বলছেন, ওই দুই নেতা যেভাবে দৌড়াচ্ছেন তাদের কর্মী-সমর্থকরা সেভাবে দৌড়াচ্ছেন না। কেমন যেন একটা ফাঁক খুঁজে পাচ্ছেন তারা। অনেকে এও বলেছেন, বুলবুল রাজশাহীর মেয়র হলে মিনু আর নাদিম মোস্তফার রাজশাহীর রাজনীতি শেষ? তাই তারা খালেদা জিয়ার নির্দেশে উপরে কাজ করলেও ভেতরে অন্য রকম একটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারপরও কখনই ক্ষমতায় না থাকা বুলবুলের অবস্থা এখন রাজশাহীতে অনেকটাই সুসংহত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হাওয়া বুঝে ভোট দেয়া ভোটারের সংখ্যাও রাজশাহীতে কম নয়। এই ভোটাররা যে কার পক্ষে রায় দেবেন তা বোঝা যাচ্ছে না। কারণ এখনো প্রধান দুই প্রার্থীর কারো পক্ষে একতরফা হাওয়া বইছে না। একদিকে উন্নয়ন আর অন্যদিকে সরকার বিরোধী প্রচারণা। কোনটি যে গ্রহণ করবেন এই ভাসমান ভোটাররা তাই হয়তো ভোটের দিন সকালেই বোঝা যাবে। তবে আশার কথা শিক্ষানগরী রাজশাহীতে এখনো বড় কোন সংঘাত বা সহিংসতা রাজশাহীতে ঘটেনি। সবার প্রত্যাশা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত থাকবে এমন পরিবেশ। কোন বিঘ্ন ছাড়াই ভোট কেন্দ্রে যেতে পারবেন সব শ্রেণি পেশার ভোটার।