গত ৬ জুন ২০১৩ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহত্ ২ লক্ষ ২২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকার বাজেট পেশ করলেন। এর মধ্যে ঘাটতি হিসেবে দেখানো হয়েছে ৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা যা মোট দেশজ উত্পাদন (জিডিপি) ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বাজেট পেশের পর থেকেই বিভিন্ন মহল বিশেষ করে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদের সর্বশেষ বাজেট হিসেবে এটিকে অনেকে নির্বাচনী বাজেট হিসেবেই অখ্যায়িত করছেন।
জিডিপির প্রবৃদ্ধিঃ প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থ বছরের জন্য জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭.২ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে প্রস্তাবিত প্রবৃদ্ধি কোনভাবেই অর্জন করা সম্ভব হবে না। সরকার চলতি অর্থ বছরের ৭.২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছিল। কিন্তু বিশ্ব ব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে চলতি অর্থ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের বেশি হবে না। তাদের মতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ স্থবিরতা, অবকাঠামোগত সমস্যা, কৃষিখাতে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত না হওয়া এবং উত্পাদনমুখী শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতির কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কাঙ্ক্ষিত হারে অর্জন করা সম্ভব নয়। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। শিল্পখাতে পূর্বের বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা অবদান বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু অন্য দুটি খাত অর্থাত্ কৃষি ও সেবাখাতে পূর্বের বছরের অবদান ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে প্রবৃদ্ধির গড় হার ৭-৮ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। প্রতিবেশী ভারত ও চীন প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ১০ শতাংশের কাছাকাছি নির্ধারণ করলেও বাংলাদেশ কখনো তা ৭ শতাংশের ওপর যায়নি। অর্থনীতির সূচক দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। পর্যালোচনায় দেয়া যায়, সাম্প্রতিক সময় মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে চলতি অর্থ বছরের জুলাই-মার্চ সময়কালে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫১৭ মিলিয়ন ডলার যা গত বছর একই সময় ছিল ১ হাজার ৮৫২ মিলিয়ন ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে ৩৩৫ মিলিয়ন ডলার। এর অর্থ হচ্ছে দেশে নতুন কোন শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। বেসরকারি বিনিয়োগ আরো এক দফা কমেছে। ২০১১-১২ অর্থ বছরে ছিল জিডিপির ২০.০৪ শতাংশ, পরের বছরে তা কমে হয়েছে ১৮.৯৯ শতাংশ। অর্থমন্ত্রীর ভাষায় আগামী ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে বেসরকারি বিনিয়োগ হয়তো আরো কমবে। এছাড়া পদ্মা সেতু, শেয়ারবাজার, হল মার্কসহ বেশ কিছু বৃহত্ শিল্প কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ডেসটিনি কেলেঙ্কারি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, চাঁদাবাজি, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন নীতি বহির্ভূত কার্যক্রমের ফলে দেশে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ আসছে না। এর সাথে যোগ হয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা এবং কাঠামোগত দুর্বলতা। আগামী অর্থ বছরে উল্লেখিত খাতগুলোতে উন্নতি না হলে বিশেষ করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না আসলে সরকারের প্রাক্কলিত জিডিপি অর্জন সম্ভব হবে না।
ঘাটতি ঃ প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি দেখানো হয়েছে ৫৫ হাজার ৩২ কোটি টাকা, জিডিপির যা ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। বিশাল এ ঘাটতি মেটাতে এবার ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। ঘাটতি মেটাতে সরকারকে বৈদেশিক ও দেশীয় উেসর ওপর নির্ভর করতে হবে। দেশি উত্স হিসেবে ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন মেয়াদে বিল ও বন্ড দিয়ে সরকার অর্থ সংগ্রহ করবে। এর ফলে চাপ বাড়বে ব্যাংকের তারল্যের ওপর, বাধাগ্রস্ত হতে পারে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সরকার চলতি ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ২৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করলেও পরবর্তীতে তা ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় বৃদ্ধি করা হয়।
রাজস্ব আদায়ঃ আগামী অর্থ বছরে বাজেটে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় চলতি অর্থ বছরেই রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থ বছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অন্তত ৫ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে রয়েছে এনবিআর। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) মনে করে, প্রস্তাবিত বাজেটের সবচেয়ে দুর্বল দিক হলো রাজস্ব আদয়ের প্রক্ষেপণ। আগামী বছর অন্তত ১০ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম রাজস্ব আদায় হবে। আর তাহলে বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে এবং অর্থনীতি অস্থির হয়ে উঠতে পারে। রাজস্ব বাড়াতে এনবিআরকে আরো উদ্যোগী হতে হবে। আয়কর রিটার্ন দাখিল করা এখনো অনেকটা জটিল প্রক্রিয়া, করদাতাগণ যাতে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। সে সাথে রাজস্ব বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।
কালো টাকা সাদাঃ প্রতিবারের মত এবারো অপ্রদর্শিত আয় বা কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকলো বাজেটে। ফ্ল্যাট বা প্লটের শুধু ক্রয়মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিলেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হবে, অর্থাত্ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) উক্ত টাকার উত্স সম্পর্কে আর কোন পশ্ন করবে না। আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা যায় বাংলাদেশে কালো টাকার হার মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ৩৭ শতাংশ। এ হিসেবে কালো টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাস্তবে এ টাকার পরিমাণ আরো বেশি। কালো টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তির কাছে সম্পদ ঘনীভূত হচ্ছে। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিলেই যে তা কাজে আসবে তা বলা যায় না। বিশ্ব ব্যাংকের মতে ১৯৭৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সরকার ১৮ বার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে। যে পরিমাণ সুযোগ দেয়া হয়েছে, সে পরিমাণ কালো টাকা সাদা করা হয়নি। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেশের বিনিয়োগে খুব একটা কাজে আসে না। হিসেব মতে ১৩ হাজার ৩৭৪ কোটি কালো টাকা সাদা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে তেমন কোন ইতিবাচক প্রভাব না পড়লেও সমাজের প্রভাবশালীদের আরো বেশি ক্ষমতাধর করা হয়েছে। তাছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কালো টাকার ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।
পদ্মা সেতু প্রকল্প ঃ বাংলাদেশের বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। কিন্তু কিভাবে, কত বছরে তা বাস্তবায়ন হবে অথবা এত বৃহত্ অর্থের সংস্থান কোথা থেকে আসবে সে বিষয়ে পরিষ্কার কোন তথ্য প্রকাশ না করা হলেও প্রস্তাবিত বাজেটে পদ্মা সেতু পকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ফলে যোগাযোগ খাতে উন্নয়ন বাবদ বরাদ্দ কাটছাঁট করতে হয়েছে। বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, যোগাযোগ খাতে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের জন্য উন্নয়ন-অনুন্নয়ন মিলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৮ হাজার ২৩২ কোটি টাকা। এর মধ্যে উন্নয়ন খাতে প্রস্তাব করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা; এর মধ্যে পদ্মা সেতুতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। অর্থাত্ যোগাযোগ খাতে মোট বরাদ্দের পরিমাণ ৭ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকা যা চলতি ২০১২-১৩ অর্থ বছরে ছিল ৭ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু প্রকল্পে ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ও আরো কিছু উন্নয়ন সহযোগীর সমর্থন পাওয়ার আশা করছে সরকার। উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুর জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৯০ কোটি ডলার বা সমপরিমাণ ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা যার মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক ১২০ কোটি ডলার, জাইকা ৪০ কোটি ডলার, এশিয়ান উন্ন্য়ন ব্যাংক (এডিবি) ৬১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ও ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) ১৪ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা চুক্তি করলেও পরবর্তীতে দুর্নীতির অভিযোগে তা বাতিল হয়ে যায়। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের বাস্তবায়ন। পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের জন্য অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে অর্থনীতিবিদগণ মনে করেন।
এলপিজি সিলিন্ডারঃ গ্যাসের অপচয় রোধ ও এর সঠিক ব্যবহারের জন্য বোতলজাত গ্যাসের ব্যবহারের ওপর অধিক গুরুত্ব দেয়ার কথা শোনা গেলেও এবারের বাজেটে এর প্রতিফলন ঘটেনি। প্রস্তাবিত বাজেটে ৫ হাজার লিটারের কম ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর আমদানি শুল্ক ৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণ এর ব্যবহারে নিরুত্সাহিত হবে। অন্যদিকে গ্যাসের অপচয় ও চুরি আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। তাই গ্যাসের অপচয় ও চুরি রোধ এবং জনগণের মধ্যে অধিক জনপ্রিয় করার জন্য সমস্ত আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে ন্যূনতম দামে এলপিজি সিলিন্ডার বাজারজাত করা প্রয়োজন।
শিশু খাদ্যঃ প্রস্তাবিত বাজেটকে শিশু বান্ধব নয় বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। কারণ বাজেটে আমদানিকৃত গুঁড়ো দুধের ওপর আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। আমদানি করা গুঁড়ো দুধের পাশাপাশি শিশুখাদ্যের উত্পাদনসহ ২৩টি পণ্যের শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। গুঁড়ো দুধ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, দেশজ দুগ্ধশিল্প খাতের ক্রমাগত বিকাশ হচ্ছে এবং দেশজ উত্পাদনকে অধিকতর উত্সাহিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশীয় দুগ্ধ উত্পাদনকারীদের স্বার্থে মিল্ক ট্যাংকারের আমদানিতে প্রযোজ্য ৫ শতাংশ শুল্ক ও ১৫ শতাংশ মূসকসহ মোট করভার ৩১ দশমিক ০৭ শতাংশ থেকে হ্রাস করে মূলধনী যন্ত্রপাতির মতো শুধু দুই শতাংশ আমদানি শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। এমনিতেই আন্তর্জাতিক বাজারে দুধের দাম বৃদ্ধির কথা বলে প্রায়ই ব্যবসায়ীরা খুচরা বাজারে অধিক হারে দাম বৃদ্ধি করে থাকে। প্রস্তাবিত বাজেট পাস হলে দুধের দাম আরো বৃদ্ধি পাবে। সরকার দেশজ দুগ্ধ উত্পাদনকে উত্সাহিত করার ফলে দীর্ঘমেয়াদে হয়তো ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে কিন্তু বাজেট পেশ করার পরপরই গুঁড়ো দুধের বাজারে আগুন লেগেছে। উচ্চমূল্যের কারণে দুধ থেকে বঞ্চিত হতে পারে অগণিত শিশুরা। তাই দেশ দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এবং দেশের কোটি কোটি শিশু বিশেষ করে দরিদ্র শিশুদের পুষ্টির প্রতি বিবেচনা করে অন্তত আরো কয়েক বছর শিশুখাদ্য বিশেষ করে গুঁড়ো দুধের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা উচিত হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
এ বাজেটটি মহাজোট সরকারের শেষ পেশকৃত বাজেট হওয়ায় সরকারের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশাল আকারের এ বাজেটের সঠিক বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা। বর্তমান সময় অর্থনীতিকে নানামুখী চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হচ্ছে। গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা বিশেষ করে তাজরীন গার্মেন্টসে আগুন পরবর্তিতে সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় তৈরি পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে চাপের মধ্যে পড়েছে। এদিকে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে জিএসপি সুবিধাও হুমকির মধ্যে পড়েছে। জিএসপি সুবিধা থেকে বাদ পড়লে দেশে বেকারত্বের চাপ তীব্রতর হবে। আবার জনশক্তি রফতানিতে অগ্রগতি নেই। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম খাত হচ্ছে কৃষি। কৃষির ওপরই দেশের সর্বস্তরের জনগণের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষিতে বরাদ্দ কমিয়ে দেয়ার ফলে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই বাজেটে কৃষিকে অধিক গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন আছে বলে মনে করা হয়। মোটকথা বাজেটে মানুষের প্রত্যাশা অনেক, তবে বাজেট তখনই অর্থবহ হবে যখন এদেশের কোটি কোটি খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ অন্তত মৌলিক চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে এবং তাদের মুখে হাসি ফুটবে।
