আবাসন ব্যবসায় সুদিন ফিরছে

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৩, ১৯:৪১
বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ১০ শতাংশ কর দিয়ে জমিতে এই টাকা বিনিয়োগ করা যাবে। আর ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে এলাকাভেদে ভিন্ন ভিন্ন রকম করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের আবাসন ব্যবসায়ে মন্দা অবস্থা বিরাজ করছিল। এই পরিপ্রেক্ষিতে জমি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে সহজ শর্তে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগদানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। এদিকে টানা কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর আবাসন খাতে গ্যাস সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে সরকার। ফলে আবার আবাসন খাতে গ্যাস সংযোগ দেয়া শুরু হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এসব কারণে ঝিমাতে থাকা আবাসন ব্যবসায়ের সুদিন অপেক্ষা করছে সামনে। আবাসন ব্যবসায়ীরাও অর্থমন্ত্রীর বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছেন। সমপ্রতি রাজধানীতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি এর সুফল ঘরে তুলতে আগামী বছর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে এ বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে আবাসন খাতে নতুন করে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ায় এবং উেস কর হ্রাসের প্রস্তাব দেয়ায় দেশের অভ্যন্তরে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়বে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা বেশি মাত্রায় বিনিয়োগ করবেন। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা, সরকারের করের আওতা ও রাজস্ব বাড়বে। এছাড়া আবাসন শিল্প চাঙ্গা হওয়ার সঙ্গে রড, সিমেন্ট, পেইন্ট, বৈদ্যুতিক সামগ্রী ও তার, ইট, টাইলস, অ্যালুমিনিয়াম, গ্লাসসহ এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অন্য প্রায় ২০০ শিল্পে নতুন করে গতিশীলতা আসবে। বাড়বে কর্মসংস্থান। আবাসন খাতকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে এ খাতে সহজশর্তে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বয়ং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বাজেটের পরদিন সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের আবাসন খাত দীর্ঘদিন বিপর্যয়ের মধ্যে ছিল। তবে এ খাত মোটেও অনুত্পাদনশীল খাত নয়। এ খাতের বিপর্যয় হতে দেয়া যাবে না। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ উচ্চ প্রবৃদ্ধি করেছে আবাসন খাতের ওপর ভর করে। কিন্তু আমাদের দেশে তা করা হয়নি। তাই আবাসন খাতে আমরা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দিয়েছি। মানুষ কর এবং অতিরিক্ত কর দিয়ে এ খাতে বিনিয়োগ করুক সেটি আমরা চাই।’ অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা অনুযায়ী জমি কেনার ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ হারে কর দিলে টাকার উত্স সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে না। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা যাবে। গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল এলাকায় ২০০ বর্গমিটার পর্যন্ত ও এর উপরে প্রতি বর্গমিটারে যথাক্রমে ৫ হাজার টাকা ও ৭ হাজার টাকা কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা যাবে। এছাড়া ধানমণ্ডি, ডিওএইচএস, মহাখালী, লালমাটিয়া, উত্তরা, বসুন্ধরা, ক্যান্টনমেন্ট, কারওয়ানবাজার, বিজয়নগর, সেগুনবাগিচা, নিকুঞ্জ, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, খুলশি, আগ্রাবাদ ও নাছিরাবাদ এলাকায় ২০০ বর্গফুটের নিচে ও এর উপরে যথাক্রমে ৪ হাজার টাকা ও ৫ হাজার টাকা, অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ২ হাজার টাকা ও ৩ হাজার টাকা, জেলা সদরের পৌরসভায় ১ হাজার টাকা ও ১ হাজার ৫০০ টাকা, উপজেলাসহ অন্যান্য এলাকায় সাড়ে ৭০০ টাকা ও ১ হাজার টাকা কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করা যাবে। এদিকে আবাসন ব্যবসাকে চাঙ্গা করার জন্য এ খাতের জন্য থোক বরাদ্দ রাখার জন্য রিহ্যাবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে। সমপ্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে সাক্ষাত্ করে রিহ্যাবের নেতারা এ দাবি জানান।