ব্যবসা কি উন্নতি ঘটাতে পারে?

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৩, ১৯:৪৩
যখন আমরা নিজেদের প্রশ্ন করি বাংলাদেশের উন্নয়ন কে ঘটায়, আমরা কার কথা চিন্তা করি? সম্ভবত উত্তরটি সুস্পষ্ট। এগুলো কি অসংখ্য এনজিও, আন্তর্জাতিক সংস্থা, দাতা গোষ্ঠী এবং সরকার নয়? আরো সুস্পষ্ট করে বলা যায় এগুলো হলো প্রকল্প, কর্মসূচি, চুক্তি, সুবিধাভোগী গোষ্ঠী, সম্মেলন; কিন্তু সমাজের অন্যান্য গোষ্ঠীর কি অবস্থা, যেমন- ব্যক্তিমালিকানা ঋণ খাত - তারাও কি উন্নয়ন ঘটায়? এ প্রশ্নটি একটি নতুন গতি সঞ্চার করেছে, দেশের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ যে, ব্যবসা-বাণিজ্য বেশ ভালোভাবেই বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে সরাসরি অবদান রাখতে পারে। এ ধারাটি বিশ্বব্যাপী আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি করেছে ‘সমেত ব্যবসায়’ এবং পিরামিডের গঠনের মত। কিন্তু অপরিহার্য বিষয় এই যে, এটা ব্যবসার পক্ষে সম্ভবপর যে তাদের মূল কর্মকাণ্ড এমনভাবে পরিবর্তন করা যা কিনা লাভজনক এবং দারিদ্র্য নিরসন করার সাথে সাথে নতুন ধারা সৃষ্টি করে মাত্র দুটি উদ্দেশ্যই অর্জন করে একটি জয়জয়কার অবস্থার সৃষ্টি করে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের জন্য পুরনো একটি বিষয় যেখানে মুনাফাভিত্তিক বা মুনাফাবিহীন ধারণাটি অস্পষ্ট ব্র্যাক এবং গ্রামীণ এর মত, এ দুটির মধ্যে উন্নয়ন করার ধারণাটি আকর্ষণীয় পদ্ধতি যা কিনা মুনাফা অর্জন এবং দারিদ্র্য দূরীকরণের সাথে জড়িত এবং ড. ইউনূসও “সামাজিক ব্যবসা” উন্নয়নের জন্য আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে যুক্তি দিয়েছেন। সুতরাং এ নতুন ধারণাটি কি বোঝাতে চায়? যেখানে “সামাজিক ব্যবসা” সামাজিক উদ্দেশ্য অর্জনের একটি আকর্ষণীয় পদ্ধতি। এ আলোচনা দরিদ্র দূরীকরণের উদ্দেশ্য দেখিয়ে মুনাফা অর্জনে উত্সাহ দেয়ার একটি পদ্ধতির স্বীকৃতি দেয়। এটা তখনই ঘটবে যখন পণ্য মূল্য ব্যবস্থা থেকে উন্নতমানের সরবরাহ ব্যবস্থার সৃষ্টি হবে যা কিনা কর্মসংস্থান অথবা নতুন পণ্য বিবরণ পদ্ধতির সৃষ্টি করবে। উদাহরণস্বরূপ, এ পদ্ধতি চর্চার মাধ্যমে অংশীদারিত্বের উন্নয়ন বা এনজিওর সুবিধাদি সম্বন্ধে জ্ঞানের সৃষ্টি করবে এবং দু’ধরনের সংগঠনেরই জ্ঞান ও একটি সাধারণ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে। সামপ্রতিককালে একটি জুতা উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং একটি জাতীয় এনজিও অংশিদারিত্ব একটি উদাহরণ যা কিনা গাইবান্ধার প্রাকৃতিক দুর্যোগ আক্রান্ত স্থানের হতদরিদ্র নারীদের গাজীপুরের জুতা উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত করেছে। এনজিওটি তাদের প্রশিক্ষণ ও যাতায়াত খরচ প্রদান করেছে এবং জুতা উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিয়েছে। প্রকল্পটির অর্থসংস্থান হয়েছে যৌথভাবে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং বাংলাদেশ সরকার এর মাধ্যমে, যেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এ ধারণা এবং অংশীদারিত্বকে উন্নয়নের চেষ্টা করছে। এ পদ্ধতি নতুন এবং অনেক জটিল প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। একটি প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে সচেতনতা এবং বুঝতে পারা। যেখানে এনজিওগুলোর জন্য সুবিধা হচ্ছে সতর্ক থাকা অনেকেই ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতটির প্রতি রহস্যজনকভাবে আগ্রহী। একইভাবে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও পদ্ধতি সাথে কাজ করার জন্য উন্মুক্ত দূরদৃষ্টি থাকতে হবে। এখানে এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে কিছু প্রশ্ন রয়েছে। দক্ষতার দৃষ্টিকোণ থেকে এর মাধ্যমে বলা যায় যে, বাংলাদেশ এনজিও খাতটি নিঃসন্দেহে প্রতিযোগিতামূলক এনজিও তথাপি এই চেতনাটি এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও এ পদ্ধতিটি প্রমাণিত হয়েছে, এখানে প্রয়োজন হচ্ছে নতুন পদ্ধতির সুবিধাদি ব্যবসায় এর সাথে যুক্ত করা। যদি এগুলো লাভজনক এবং সহজবোধ্য মনে হয় তাদের ব্যবসার উচিত এগুলো অনুসরণ করা। যদি পৃথিবীতে এমন কোন দেশ থাকে যেখানে নতুন এবং পরিবর্তিত পদ্ধতির উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব, তাহলে এটি অবশ্যই বাংলাদেশ। এখন দেখা যাক, ব্যক্তিমালিকানাধীন খাত এবং এনজিওগুলো একত্রে উন্নয়ন ঘটাতে পারে কিনা। (অনুদিত)