২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, বিশেষ করে বিদ্যুত্, সামাজিক সুরক্ষা, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সামষ্টিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, দারিদ্র্য বিমোচনের পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার পদক্ষেপ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি উন্নয়নে ভর্তুকি প্রদান ও কৃষি ঋণের বিশেষ বরাদ্দ ইত্যাদি ক্ষেত্রে গৃহীত বাজেট প্রস্তাবগুলোকে রংপুর চেম্বার জনকল্যাণমূলক ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাস্তবমুখী বলে মনে করে। ঘোষিত বাজেট সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে এসব কথা বলেন রংপুর চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মোস্তফা সোহরাব চৌধুরী টিটু, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা হোসেন রিপন, ভাইস প্রেসিডেন্ট গোলাম জাকারিয়া পিন্টু, ডাইরেক্টর ফজলুল হক, মোস্তফা আহমেদ, শাহ মো. সেলিম, মামুনুর রশিদ, মোজাম্মেল হক ডাম্বেলসহ চেম্বার নেতৃবৃন্দ।
প্রতিক্রিয়ায় আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকার মালিকদের আবাসন খাতে ১০ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এতে বৈধ অর্থ উপার্জনকারীরা নিরুত্সাহিত হবেন। বাজেট প্রস্তাবে মূল্যস্ফীতির বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী অর্থবছরে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত করাসহ নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে সরকারের আয়কর ছাড় সম্বলিত প্রস্তাবগুলো জনকল্যাণকর বলে বিবেচিত হবে। স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষার জন্য মধ্য পর্যায়ের শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বেশ কিছু শুল্ক কমানোর প্রস্তাব রয়েছে বাজেটে, যা দেশীয় শিল্প বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বিনিয়োগ বাড়িয়ে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বাজেটে শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির কিছু কিছু ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত করাসহ বিলাস পণ্যের আমদানি নিরুত্সাহিত করা হয়েছে, যা স্থানীয় মাঝারি শিল্প বিকাশে সহায়ক হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রংপুর চেম্বার মনে করে।
বাজেট প্রস্তাবে ১৮টি খাতকে কর অবকাশ সুবিধা দেয়া হয়েছে ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এ ব্যবস্থা শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিতকরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। বাজেটে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্দশা লাঘবে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বৃদ্ধির উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষুদ্র শিল্পে বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটমুক্ত। এর বেশি লেনদেন হলে প্রতিষ্ঠানের মালিককে নির্ধারিত হারে ভ্যাট দিতে হয়। বাজেটে নতুন এই সীমা আরো ১০ লাখ বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা বহাল হলে ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়নে তা সহায়ক ভূমিকা রাখবে। প্রস্তাবিত বাজেটে উত্তরবঙ্গের ৭টি জেলার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং আর্থ- কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও বৃহত্তর রংপুরের চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইক্ষু চাষে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উক্ত কর্মসূচিতে এ অর্থ বরাদ্দ অভাবপীড়িত এ অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্বাহে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। দেশের যেসব অঞ্চলের জনগোষ্ঠী প্রাকৃতিক গ্যাসের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত সেসব অঞ্চলে বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের ন্যায় জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বাজেটে অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত ছিল বলে রংপুর চেম্বার মনে করে। এ লক্ষ্যে জরুরিভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়েছে।
