ডাঃ শামস মোহাম্মদ নোমান
জুনিয়র কনসালটেন্ট
চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।
সুন্দর শুভ্র চোখের আকর্ষণই আলাদা। বিভিন্ন রোগের কারণে চোখ লাল হলে চোখ সেই
আকর্ষণ হারায়।
চোখ লাল হওয়ার কারণ
চোখের বিভিন্ন রোগ যেমন চোখ
উঠা রোগ, চোখের এ্যালার্জী, চোখের প্রদাহ বা ইউভিয়াইটিস, চোখের উচ্চচাপ বা গ্লুকোমা এবং চোখের আঘাত এর কারণে চোখ লাল হতে পারে।
চোখ উঠা রোগ
চোখ লাল হওয়া, চোখে কিছু পড়েছে এমন বোধ হওয়া, চোখ ফুলে যাওয়া, সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠার সময় চোখ লেগে যাওয়া, সবসময় পিচুটা জমা এই রোগের লক্ষণ। ব্যাকটেরিয়া অথবা ভাইরাস আক্রমণের কারণে সাধারণত: এই রোগ হয়। এই রোগের আগে পরে দুই চোখই আক্রান্ত হয়। ডাক্তারের পরামর্শে চোখের ড্রপ ব্যবহারের মাধ্যমে এই রোগের চিকিত্সা সম্ভব। অত্যন্ত ছোয়াচে রোগ বিধায় রোগীকে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়।
চোখের এ্যালার্জী
চোখ চুলকানো, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখে গুটি ওঠা ইত্যাদি এই রোগের লক্ষণ। শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশী হলেও বড়দেরও হতে পারে। সাধারণত: শুষ্ক মৌসুমে এই রোগ বেশী হয়। এক একজনের এক এক জিনিসে চোখে এ্যালার্জী হতে পারে। ধুলাবালি খাবার, রাসায়নিক পদার্থ, প্রসাধনী , ফুলের রেণূতে চোখের এ্যালার্জী বেশী হয়। ডাক্তারের পরামর্শে চোখে ওষুধ ব্যবহারে অনেকাংশে রোগীরা আরামবোধ করেন।
চোখের ঘা
চোখর কালো মণিতে সাদা দাগ, আক্রান্ত চোখ লাল হওয়া, ব্যথা হওয়া, আলো সহ্য করতে না পারা এবং দৃষ্টি কমে যাওয়া ইত্যাদি এই রোগের লক্ষণ। আঘাতের কারণে সাধারণত:এই রোগ হয়। ধান কাটার মৌসুমে ধানের পাতার বা ধানের আঘাতে আমাদের দেশে এই রোগ বেশী হয়। ভিটামিন “এ” এর অভাবে বাচ্চাদের মধ্যে এই রোগ হতে পারে। সময়মত ডাক্তারের পরামর্শে এই রোগের চিকিত্সা না করলে স্থায়ী অন্ধত্ব হতে পারে।
চোখের প্রদাহ বা ইউভাইটিস
চোখ লাল হওয়া, আলো সহ্য করতে না পারা, চোখে প্রচন্ড ব্যথা হওয়া ইত্যাদি এই রোগের লক্ষণ। রোগ একটু পুরানো হলে দৃষ্টিও কমে যেতে পারে। চোখে আঘাতের কারণে এই রোগ হতে পারে। এছাড়াও যাদের বাত রোগ আছে, তাদের এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। ডাক্তারের পরামর্শে সময়মত চিকিত্সা শুরু করলে অন্ধত্ব থেকে চোখকে রক্ষা করা যায়।
চোখের উচ্চচাপ বা গ্লুকোমা
চোখে ব্যথা হওয়া, আলো সহ্য
করতে না পারা, চোখ দিয়ে পানি
পড়া, মাথা ব্যথা ও বমির ভাব
হওয়া ইত্যাদি এই রোগের লক্ষণ। চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে গিয়ে
চোখের পেছনের স্নায়ু অকার্যকর হয়ে চোখের দৃষ্টিও কমে যেতে পারে। সময়মত চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে চোখের ভেতরের চাপ কমিয়ে অন্ধত্ব থেকে চোখকে রক্ষা করা যেতে পারে।
পরামর্শ
লাল চোখের চিকিত্সা নেয়ার জন্য চোখের ডাক্তারের শরনাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
এ্যালার্জী হতে পারে এইসব বস্তু বা পরিবেশ পরিহার করতে হবে।
এ্যালার্জী হলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশীদিন স্টেরইড জাতীয় ড্রপ ব্যবহার করা উচিত নয়, এতে চোখের চাপ বেড়ে গিয়ে চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কর্ণিয়ার ঘা হলে সেই চোখে স্টেরইড ব্যবহার অনুচিত।
চোখের প্রদাহের সাথে বাত রোগের চিকিত্সা না করলে প্রদাহ ভাল হয়না।
চোখ উঠলে বেশী লোক সমাগমে না যাওয়া শ্রেয়। ব্যবহারের রুমাল এবং কাপড়-চোপড় বালিশের কভার, বিছানার চাদর প্রতিদিন গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা কমে।
