মু খো মু খি

বাজেট কমে কাজ করছে আর আমাদের কাস্ট করতে ভয় পাচ্ছে

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৩, ২০:৫৮
দিতি। এ দেশের একসময়কার জনপ্রিয় একজন চিত্রনায়িকা। তার অভিনীত অসংখ্য চলচ্চিত্র ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখনও তিনি নিয়মিতই চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন, তবে শক্তিশালী চরিত্রে। পাশাপাশি ধারাবাহিক নাটক, এক ঘণ্টার নাটকসহ টেলিফিল্মেও অভিনয় করছেন তিনি। নিজের সাম্প্রতিক ব্যস্ততাসহ চলচ্চিত্র ও নাটকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রবি হাসান আপনার বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন। গত বৃহস্পতিবার সিনেমা বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য চ্যানেল আইয়ে শুটিং করে এসেছি। এর বাইরে একুশে টেলিভিশনে ‘মেঘের খেয়া’ ও এশিয়ান টেলিভিশনে ‘জীবন সংসার’ নামের দুইটি ডেইলি সোপ প্রচার হচ্ছে। এই দুইটাতেই নিয়মিত কাজ করছি, এর বাইরে মাঝে মাঝে নাটক ও টেলিফিল্মও করছি, চলচ্চিত্রও করছি। বেশ কয়েকটা চলচ্চিত্র রেডি অবস্থায় আছে, অনেকটা মুক্তির অপেক্ষায়। তার মধ্যে ‘পূর্ণ দৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’, ‘বিচার আমি করব’, ‘আজকের সংগ্রাম’ এর নাম পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা আছে, ‘মাটির পৃথিবী’ ও ‘জোনাকির আলো’। প্রায় সবকটাই শেষ, দুয়েকটার ডাবিং বাকি আছে। এইতো, চলছে ব্যস্ততা। এখনকার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কী বলবেন? এখন ডিজিটাল ফর্মেটে ছবি নির্মাণ হচ্ছে, এটা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য সুখবর। কিন্তু এতে মনে হচ্ছি আমরা এমনিতেই বঞ্চিত হচ্ছি। যেমন, নিয়মিতই অফার আসছে, করছি করছি করেও ছবিগুলো করা হচ্ছে না। একমাত্র কারণ হিসেবে বলে যে, আপু ডিজিটাল ফর্মেটে ছবি করছি, বাজেট খুবই কম। এই বাজেট কমের কারণে বোধহয় নির্মাতারা আমাদের কাস্ট করতে ভয় পাচ্ছে। এগিয়ে এসেও পিছিয়ে যায়। ডিজিটল বিষয়টি সবাই প্রশংসা করছে, কিন্তু একদিকে অল্প বাজেট অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিজ্ঞা। কী মনে হয় আপনার? কেবল তো হিড়িক পরল, বাংলাদেশের মানুষ তো সবসময় হুজুগে চলে, এখনও বুঝা যাচ্ছে না কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। তবে বাজেট অল্প দিয়ে কিছু হবে না। যতগুলো চলচ্চিত্র এ বছর নির্মাণ শুরু হয়েছে, ঠিক ওই চলচ্চিত্রগুলোর সংখ্যার সমানই প্রায় নতুন নায়িকার সংখ্যা। এত নতুনের ভিড়ে তারা কতটুকু স্বকীয়তা সৃষ্টি করতে পারবে বলে মনে হয়? চলচ্চিত্র আসলে মিরাকেলের ব্যাপার, বিগ প্রডিউসার, বিগ বাজেট, বিগ প্ল্যানিংয়ের হয়েও ফ্লপ হয়। নায়িকাদের বেলায়ও ঠিক তেমনি। চলচ্চিত্রের ক্রেডিটের উপর ডিপেন্ড করে তাদের উঠে আসা। তবে নতুন নায়ক-নায়িকা আসা খুবই জরুরি, অনেক বছর ধরেই তো আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পী সংকট চলছে। আর এখন যেই হারে চলচ্চিত্র শুরু হয়েছে, এদের সংখ্যা না বাড়লে কী করে হবে! আমাদের জেনারেশনের পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পী সংকট চলছে। নায়িকারা একটা দুইটা ছবি করুক, তারপর দেখা যাক দর্শকরা কীভাবে গ্রহণ করেন। দর্শকরাই একমাত্র বিচারক। তারাই ঠিক করবে কে ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকবে আর কে থাকবে না। তবে এরইমধ্যে কমার্শিয়াল ছবিতে মোটামুটি একটা দর্শকপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে প্রায় তিনজন, তারা হলেন-বর্ষা, জয়া আহসান ও মাহি। জয়ার জনপ্রিয়তা তো টিভি থেকেই। আপনারা তো এই সময়ে এসে ইন্ডাস্ট্রির অভিভাবক। যখন ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ভাবছে, এবং প্রয়োজন আপনাদের, ঠিক তখন ছবি নির্মাণে বা প্রযোজনায় আপনারা কেন এগিয়ে আসছেন না? আমি নিজেকে এখনও ওইভাবে প্রস্তুত মনে করছি না। অভিনয় নিয়ে এখনও আমি প্রচুর ব্যস্ত। আমি প্রথমে একজন শিল্পী, তারপর প্রডিউসার-ডিরেক্টর। যদি ব্যস্ততা কমে তাহলে এই বিষয়টা নিয়ে ভাবব। আমি মাসে মাঝে প্রযোজনা করি, কিন্তু নিয়মিতভাবে করার মতো সময় আমার হয়নি। বাংলাদেশ-কলকাতা চলচ্চিত্র বিনিময়ের একটি বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা চলছে। কিন্তু এই বিষয়ে একেবারেই নারাজ আমাদের চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিসহ অন্যান্য সংগঠনগুলো। এ ব্যাপারে আপনি কী বলবেন? যারা ছবি নির্মাণ করে, ব্যবসা করে তারাই এই বিষয়টি ভালো বুঝবেন। এই ব্যাপারে আমার বুঝার খুব একটা কারণ নেই। ওখানে আমাদের ছবি চললে তারা কতটুকু দেখবে এটাই প্রশ্ন। আর দেখা যেতে পারে আমাদের দেশে তাদের ছবি চালালে দর্শকরা পুরোপুরি বিদেশি ছবি দেখা শুরু করে দিবে। তখনতো ইন্ডাস্ট্রি আরও বেশি হুমকির মুখে পড়বে। এ ক্ষেত্রে আমি এটা হওয়ার পক্ষে না। এবার নাটকের প্রসঙ্গে আসি। যেখানে হিন্দি সিরিয়ালের জন্য আমাদের দেশিয় চ্যানেলগুলো দর্শকরা বঞ্চিত করছেন, ঠিক তখনই কিছু চ্যানেল ও নির্মাতা ওই হিন্দি সিরিয়ালগুলো ফলো করে নাটক নির্মাণ করছেন, এমনকি কেউ কেউ আবার ভারতে গিয়েও। এই বিষয়ে কী বলবেন? এই প্রবণতাটা ইদানীং কিছু নির্মাতাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন কারণে তারা করছে, কিন্তু করেও কতটুকু ফলপ্রসু হচ্ছে! মূল সমস্যা তো ওখানে নয়, সমস্যা হচ্ছে বিজ্ঞাপনে। এত বেশি বিজ্ঞাপন যায় যে, কাউকে আমি বললাম যে, আমার একটা নাটক আছে আজকে দেখো...সে দেখতে ঠিকই বসেছে, কিন্তু অ্যাড শুরু হয়েছে যা শেষ হওয়ার নামই নেই। পরে বিরক্ত হয়ে হিন্দি চ্যানেলে যায়, সেখানে বিজ্ঞাপনের এই অত্যাচার পায় না, তাই ফিরে আসার কথাও ভুলে যায়। আরও অনেক বিষয় আছে, তাদের চ্যানেলগুলো নাটক এমন একটা জায়গায় শেষ করে যে, পরের পর্বটা না দেখলে জীবন থেকে কি জানি মিস হয়ে গেল। আমাদের এখানে তো এই ধরনের কিছুই নেই।