ধ্বংসের মুখে শরীয়তপুরের ৬শ’ বছরের প্রাচীন মনসা বাড়ী

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৩, ২০:৫৯
শরীয়তপুর পৌরসভার ধানুকা গ্রামে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মনসা বাড়ী। প্রায় ৬শ’ বছরের প্রাচীন এ বাড়ীটি ঘিরে রয়েছে নানা কিংবদন্তী ও লোক কথা। জেলার প্রাচীন ব্যক্তিরা এ বাড়ীকে ময়ুর ভদ্রের বাড়ী নামে অভিহত করেন। জানা যায়, তত্কালীন সময়ে সর্ববৃহত্ ও ব্যাপক আকারে অত্র অঞ্চলের মধ্যে একটিতেই মনসা পূজার আয়োজন হতো। আর এখানে পূজা দেয়ার জন্য ভারত বর্ষের বহু লোকের আগমন ঘটতো। আরেক কিংবদন্তি থেকে জানা যায় ভারতের কৌনজ থেকে তত্কালীন সময়ে ধনাঢ্য ভট্টাচার্য পরিবার ধানুকা অঞ্চলে বসবাস শুরু করে। তাদেরই পূর্ব পুরুষ ছিলেন ময়ুর ভট্ট। ময়ুর ভট্টের জন্ম বৃত্তান্ত জানতে গিয়ে জানা যায় তিনি যখন মাতৃগর্ভে ছিলেন তখন তার পিতা-মাতা তীর্থের জন্য কামিধামে যাত্রা করেন। দীর্ঘ যাত্রা পথে ময়ুর ভট্ট এক বনের ধারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার জনক-জননী ধর্ম ও দেবতাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে তারা পুত্রকে শাল পাতায় আচ্ছাদিত করে কাশিতে যাত্রা করেন। গন্তব্যে পৌঁছে পূজা দিয়ে রাতে ঘুমিয়ে তারা স্বপ্ন দেবতার মাধ্যমে জানতে পারে তাদের পূজা দেবতার নিকট গ্রহণ যোগ্য হয়নি। তারা শিশুটি ফেলে যাওয়ার সময় ভুলে গিয়েছিল মানুষের জন্য ধর্ম ধর্মের জন্য মানুষ নয়। তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরে দ্রুত ফিরে এসে দেখেন নির্দিষ্ট স্থানে এক ঝাক ময়ুর শিশুটিকে আচ্ছাদন করে রেখেছে। ময়ুরের আশ্রয়ে বেঁচে ছিল বলে ঐ শিশুর নাম রাখা হয়েছিল ময়ুর ভট্টো। তার নামে বাড়ী নামকরণ করা হয়। এখনও এ বাড়ীতে মনসা পূজার সময় সাপের সমাগম হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবী। এ বাড়ীতে রয়েছে পিতলের মূর্তি। যে মূর্তিটি তত্কালীন সময় কীর্তিনাশা নদীতে মাছ ধরার সময় জালে মূর্তিটি পেয়ে জেলে অলৌকিকভাবে এ মন্দিরে রেখে যান। যা আজ অবধি এ মন্দিরে আছে। এ বাড়ী থেকে ১৯৭৩ সালে ভাষা সৈনিক ও জেলার ইতিহাস গবেষক জালাল উদ্দিন আহম্মেদ কাঠের বাঁধাই করা ও তুলট কাগজে লিখিত পুঁথি উদ্ধার করেন। যা কয়েকটি কপি নেপালে পাঠানো হয়। আজ বেশ কয়েকটি কপি এখন শরীয়তপুর জেলার বেসরকারি পাবলিক লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে। ধারণা করা হয় আজ থেকে সারে ৩/৪শ’ বছর পূর্বে এই পুঁথিগুলো রচনা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। তার প্রাচীন মহিলা কবি জয়ন্তী দেবীর পিতাই ময়ুর ভট্টো ছিলেন।