ফুটবল রোমান্টিকরা লিওনেল মেসির মাঝে ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে খুঁজে ফেরেন। ম্যারাডোনার সাথে তুলনার কথা আসলে মেসিও বারবারই জানান দেন তার উচ্ছ্বাসের কথা। তবে অতি সম্প্রতি যে কারণে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির সাথে মেসির তুলনা চলছে তাতে নিশ্চিতভাবেই আনন্দিত হবেন না মেসি। কারণ, ম্যারাডোনার মতোই কর ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এই বার্সেলোনা তারকার বিরুদ্ধে। শুধু ম্যারাডোনা কিংবা মেসি নন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কর বিভাগ এই কর আদায়ের ‘লড়াই’ চালিয়ে যাচ্ছে বিখ্যাত সব ফুটবলারের বিরুদ্ধে।
বস্তুত ইটালীয় কর কর্মকর্তাদের সাথে ম্যারাডোনার লড়াই এখনো চলছে, যদিও ম্যারাডোনার নাপোলি অধ্যায় শেষ হয়েছে ১৯৯১ সালে। ইটালির কর বিভাগ ২০০৫ সালে অভিযোগ করে নাপোলিতে থাকার সময় তিনি ৩৭.৫ মিলিয়ন ইউরো শোধ করেননি। ম্যারাডোনা এর বিরুদ্ধে আপিল করেন এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মামলাটি রদ হয়। তবে তদন্তে নতুন কিছু বের হয়ে আসলে মামলাটি আবারো চালু হবে। এবার জেনে নেয়া যাক এই দুই আর্জেন্টাইন ছাড়াও অন্য যেসব তারকা কর বিতর্কে জড়িয়েছেন তাদের কয়েকজনের কথা।
লুইস ফিগো
পর্তুগীজ এই খেলোয়াড়ের নামে অভিযোগ আসে ২০১২ সালে। তিনি ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত ২.৫ মিলিয়ন ইউরো কর পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ ছিল। তাকে এই পরিমাণ অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়।
স্যামুয়েল এতো
গোলরক্ষকদের ফাঁকি দিতে সিদ্ধহস্ত হলেও কাতালান কর কর্মকর্তাদের হাত থেকে ফাঁকি দিতে পারেননি ক্যামেরুনের এই স্ট্রাইকার। ২০১২ সালে বার্সেলোনা কোর্ট এই স্ট্রাইকারের বিরুদ্ধে করা অভিযোগপত্র জমা নেয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ২০০৬ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে প্রায় তিনি ৩৫ লাখ ইউরো কর জালিয়াতি করেছেন।
পাওলো মালদিনি
২০১১ আরো ৪২ জনের সাথে কর সংক্রান্ত ঝামেলায় জড়ান ইটালির এই কিংবদন্তি ডিফেন্ডার। মালদিনির সাথে কর বিভাগ অভিযোগ তোলে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় দুর্নীতি এবং ব্যবসায় প্রয়োজনে দেশের কর বিভাগকে অন্যায়ভাবে কাজে লাগানো।
ক্লারেন্স সিডর্ফ
নেদারল্যান্ডসের এই মিডফিল্ডারের মালিকানাধীন একটি রেস্টুরেন্টের দিকে কর কর্মকর্তাদের চোখ পড়ে গত বছরের জুলাইয়ে। একটি তদন্তে দেখা যায়, কমপক্ষে ১০ বার পাঠানো হলেও প্রাপ্তি স্বীকারপত্রে তার কোন উল্লেখ করেননি সিডর্ফ। যদিও এক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ ছিল খুবই কম। মাত্র আড়াই হাজার ইউরো।
